‘কোটা বাতিলের কথা বলে প্রধানমন্ত্রী গোটা জাতিকেই হতাশ করেছেন’

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ১২ এপ্রিল ২০১৮, বৃহস্পতিবার: কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের দাবিকে সঠিকভাবে মূল্যায়ন না করে ক্ষোভের বশবর্তী হয়ে কোটা বাতিলের কথা বলে প্রধানমন্ত্রী গোটা জাতিকেই হতাশ করেছেন বলে মন্তব্য করেছে বিএনপির যুগ্ম সিনিয়র মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, শিক্ষার্থী ও চাকুরী প্রার্থীরা কোটা পদ্ধতি বাতিলের জন্য আন্দোলন করছে না, তারা আন্দোলন করছে কোটা পদ্ধতি সংস্কারের দাবিতে। বৃহস্পতিবার (১২এপ্রিল) সকাল ১১ দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে যত না কোটা সংস্কার আন্দোলনের মূল সমস্যাটি সমাধানের দিক নির্দেশনা এসেছে, তার চেয়ে বেশি এসেছে ক্ষোভ প্রকাশ, বিরক্তি ও হুমকি। লক্ষ্যণীয় বিষয় হলো-প্রধানমন্ত্রী কোটা বাতিলের যে ঘোষণা দিলেন সেটি বাস্তবায়িত হলে এর বিরুদ্ধে যে কেউ রিট করলে তা খারিজ হয়ে যাবে। কারণ সংবিধানে এ বিষয়টি নিয়ে সুষ্পষ্ট বিধান রয়েছে। কিন্তু কোটার যে বিষয়গুলো বিধানে নেই, সেগুলি সংবিধান সংশোধন ছাড়াই সরকার সংস্কার করে তা কমিয়ে আনতে পারে।
বিএনপির নেতা বলেন, জাতীয় সংসদে এই কোটা বাতিলের কথা বলে সরকার মুক্তমন নিয়ে কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের কোটা সংস্কারের দাবিকে আমলে নেননি। সংবিধানে অনগ্রসর জাতি গোষ্ঠীকে কোটা দেয়ার বিধান সুষ্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে। আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী ছাত্র-ছাত্রী ও চাকুরী প্রার্থীরা বারবার মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তান ও প্রান্তিক জাতি-গোষ্ঠী ও শারীরিক প্রতিবন্ধীদের কোটার বিরোধীতা করেনি। গতকাল সরকার প্রধানের কোটা বাতিলের ঘোষনা সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক। এই ঘোষনায় কুটচাল রয়েছে।
আন্দোলনকারীদের দমানোর জন্য সরকারের পক্ষ থেকে নানা অপকৌশলের আশ্রয় নেয়া হয়েছে অভিযোগ করে রজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বক্তবের পরও আন্দোলনকারীদের ওপর ছাত্রলীগ সশস্ত্র হামলা চালিয়েছে এবং রাতেই আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে চারটি মামলাও হয়েছে। তাহলে স্পষ্টত:ই বোঝা যায়-জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর কোটা বাতিলের ঘোষনা দেয়ার পরে আন্দোলনকারীদের ওপর এই হামলা ও মামলায় অশান্তি বাড়বে বৈ কমবে না। আসলে আওয়ামী লীগের সকল কাজই প্রকৃতপক্ষে এক ছল। প্রধানমন্ত্রী এই ঘোষনার মধ্য দিয়ে আবারও শপথ ভঙ্গ করলেন।
প্রধানমন্ত্রী গতকাল তাঁর বক্তব্যে বলেছেন-ছাত্র-ছাত্রীদের এই আন্দোলনে তিনি খুব উৎকন্ঠিত, রাত্রে তাঁর ঘুম আসে না। বিশেষভাবে রাত্রে আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী ছাত্রীদের জন্য তিনি টেনশনে থাকেন। বন্ধুরা, আসলে কী তাই ? গতকালই প্রধানমন্ত্রী সুরের ধারা রজতজয়ন্তী উৎসবে সঙ্গীত উপভোগ করেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গীতানুষ্ঠান উপভোগে আমাদের আপত্তি নেই, আমাদের বক্তব্য হচ্ছে-ঢাকাসহ সারাদেশ যখন আন্দোলনে উত্তাল, যখন রাজধানী স্থবির হয়ে পড়েছে, যখন সরকারী বাহিনীর গুলিতে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের শরীর থেকে রক্ত ঝরছে, তখন সুরের ধারা অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী গানের সুরে তাল মেলাচ্ছেন। এ যেন রোম পুড়ছে আর নীরো বাঁশি বাজাচ্ছে। আওয়ামী সরকার দেশের ভবিষ্যৎ ধ্বংস করে দেয়ার সরকার।

Leave a Reply