প্রধানমন্ত্রীর মাধ্যমে বাণিজ্যিক রাজধানীর স্বীকৃতি চাই: বারাবাপ

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ২০ মার্চ ২০১৮, মঙ্গলবার: চট্টগ্রাম নামেই কেবল বাণিজ্যিক রাজধানী; কাগজে-কলমে এর কোনো ভিত্তি নেই। রাজনৈতিক নেতারা নিজেদের স্বার্থে মুখে মুখে চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী করার কথা বললেও সব সরকারি অফিসের সদর দপ্তর এখনো ঢাকায়। তবে বাণিজ্যিক রাজধানীর অবকাঠামোগত সব উন্নয়ন আওয়ামী লীগই করেছে এবং করে যাচ্ছে। তাই মহান মুক্তিযুদ্ধের মাসে চট্টগ্রামের দায়িত্ব তুলে নেওয়া মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরতœ জননেত্রী শেখ হাসিনার মাধ্যমে বাণিজ্যিক রাজধানীর বাস্তবায়ন ও স্বীকৃতি চাই। ২০ মার্চ মঙ্গলবার সকালে বাণিজ্যিক রাজধানী বাস্তবায়ন পর্ষদ (বারাবাপ)’র কার্যালয়ে আয়োজিত মাননীয় প্রধামন্ত্রীর কাছে চট্টগ্রামের সার্বিক উন্নয়ন বিষয়ক এক আলোচনা সভায় বারাবাপ নের্তৃবৃন্দ এ দাবির কথা জানান।
বারাবাপ’র নের্তৃবৃন্দ বলেন, দেশরতœ জননেত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ় প্রত্যয়, সদিচ্ছা, প্রজ্ঞা ও দূরদর্শিতায় কাঙ্খিত উন্নয়ন সাপেক্ষে চট্টগ্রাম হয়ে উঠুক সত্যিকারের বাণিজ্যিক রাজধানী। বাস্তবায়নে জরুরী ভিত্তিতে কর্তৃপক্ষ গঠন করে প্রণীত হোক অধ্যাদেশ বা আইন, তৈরী করা হোক প্রতিষ্ঠান এবং তার জন্য বরাদ্দসহ দেওয়া হোক বাজেট। কার্যকর বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে গড়ে তুলতে সরকারি প্রশাসনিক ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ সাপেক্ষে নৌপরিবহন ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের শাখাসহ অতি প্রয়োজনীয় ব্যাংকের হেড অফিস চট্টগ্রামে স্থাপন করা হোক। একইসাথে বাণিজ্যিক রাজধানী পরিপূর্ণতায় নতুন প্রকল্প গ্রহনসহ বৃহত্তর চট্টগ্রামকে ঘিরে গৃহীত মেগা প্রকল্পগুলোর দ্রুত বাস্তবায়ন চাই।
নের্তৃবৃন্দ আরো বলেন, নদী-পাহাড়-সমুদ্রবেষ্টিত এবং প্রাকৃতিক ও খনিজ সম্পদে ভরপুর চট্টগ্রাম। পর্যটন ও শিল্প-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে দেশ-বিদেশের সবার কাছেই দারুণ আকর্ষণীয় ও গুরুত্বপূর্ণ স্থান এই চট্টগ্রাম। তাই ঢাকা-চট্টগ্রাম চারলেন বিশিষ্ট মহাসড়কের কাজ অতি দ্রুততার সাথে সম্পন্ন করা হোক। সোনাদিয়া-মাতারবাড়ীতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রস্তাবিত গভীর সমুদ্রবন্দর স্থাপনসহ কর্ণফুলী নদীর তলদেশ দিয়ে নির্মিতব্য টানেল ও নদীর ওপারে প্রস্তাবিত ‘ওয়ান সিটি টু টাউন’ প্রকল্পের বাস্তবায়ন হোক। মিরসরাই থেকে পতেঙ্গা হয়ে টেকনাফ পর্যন্ত বেড়ি বাঁধসহ চারলেন বিশিষ্ট মেরিন ড্রাইভ সড়ক নির্মাণ ও সংলগ্ন সমুদ্র উপকূলীয় এলাকাকে পরিকল্পিতভাবে উন্নয়ন করা হোক। মিরসরাইয়ে গৃহীত দেশের সর্ববৃহৎ অর্থনৈতিক অঞ্চলসহ প্রস্তাবিত অন্যান্য অর্থনৈতিক অঞ্চল বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করা হোক।
নের্তৃবৃন্দ বলেন, বাণিজ্যিক রাজধানী হলে চট্টগ্রামের মাধ্যমে সারা দেশের উন্নয়ন হবে। চট্টগ্রামের শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে গ্যাস ও বিদ্যুতের সঠিক সরবরাহের বিকল্প নেই। দেশে বিদ্যুৎ-গ্যাসের উৎপাদন বাড়লেও একটি অসাধুচক্র কৃত্রিমভাবে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট সৃষ্টি করে সরকারকে ব্যর্থ প্রমাণে সচেষ্ট। চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে দেশের আমদানি-রপ্তানির ৯০ শতাংশই পরিচালিত হয়।
এদিকে প্রথমবারের মত দেশে কোনো ব্যবসায়িক সংগঠনের নিজস্ব অর্থায়নে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার সিদ্ধান্তে চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মাহবুবুল আলমকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন বাণিজ্যিক রাজধানী বাস্তবায়ন পর্ষদ (বারাবাপ)’র মহাসচিব সালেহ আহমেদ সুলেমান।
মহাসচিব বলেন, বাংলাদেশ এখন স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হচ্ছে। এতে চট্টগ্রাম চেম্বার প্রাইভেট সেক্টরের উন্নয়নের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি ত্বরান্বিত করার ধারাবাহিকতায় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল নির্মাণ করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে চট্টগ্রাম অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হবে। তবে ওই প্রকল্পে শতভাগ বিনিয়োগকারীকে প্রাধান্য দেয়ারও বিশেষ অনুরোধ জানান তিনি।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, বারাবাপ’র ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যক্ষ ডা. আব্দুল করিম, সহসভাপতি কাজী গোলাপ রহমান, মহাসচিব সালেহ আহমেদ সুলেমান, পৃষ্ঠপোষক মোহাম্মদ ফরিদ, জিয়াউদ্দিন খালেদ চৌধুরী, সমন্বয়ক ভূপেন দাশ, সাবেক কাউন্সিলর মো. শহীদুল আলম, এহসান উল্লাহ জাহেদী, মিতুল দাশগুপ্ত, মোহাম্মদ মুছা, মো. মহসিন, এ এস এম জাফর, এম এ মান্নান, মো. কুতুবুদ্দিন, আলমগীর রানা, এরশাদ হোসেন প্রমুখ।

Leave a Reply