শেখ হাসিনার শাসন দেশের ইতিহাসে এক অন্ধকারময় পর্ব: রুহুল কবির রিজভী

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ১১ মার্চ ২০১৮, রবিবার: বিএনপি নয়, আওয়ামী লীগই ক্ষমতা হারানোর ভয়ে বিদেশীদের কাছে দেনদরবার করতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। রোববার বিকেলে নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়েদুল কাদেরের এ বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া রিজভী এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, যেসব অনুষ্ঠানে সরকারের একজন সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তা গেলেই চলে সেখানে খোদ সরকার প্রধান হাজির হচ্ছেন। উদ্দেশ্য একটাই বিদেশীদের মন জয় করা।
রিজভী বলেন, আওয়ামী লীগ ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারীতে ভোটারবিহীন নির্বাচনের মাধ্যমে যেভাবে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেছিল আবারও সেরকম একটি ভোটারবিহীন দখলী ইলেকশন করা সম্ভব হবে না বলেই এখন থেকে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ টের পাচ্ছেন।
তিনি বলেন, দেশি-বিদেশী মাস্টারপ্ল্যানের নীল নকশার মাধ্যমে আবারো একটি নির্বাচন করতে এখন তারা বেপরোয়া। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে জাল নথির মাধ্যমে সাজানো মামলায় সাজা দিয়ে কারাবন্দী করা এবং বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে সাজা দেয়া গভীর চক্রান্তেরই অংশ। দেশনেত্রীর কারামুক্ত হওয়া বিলম্বিত করাও সরকারের কারসাজী।
শেখ হাসিনার শাসন দেশের ইতিহাসে এক অন্ধকারময় পর্ব উল্লেখ করে রিজভী বলেন, এখানে মানুষের স্বর স্তব্ধ। বিএনপিসহ বিরোধী দলের অস্তিত্ব নিশ্চিহ্ন করার আয়োজন চলছে। রাষ্ট্রীয় মদদে গোয়েন্দা পুলিশকে লেলিয়ে দেয়া হচ্ছে বিএনপি’র শন্তিপূর্ণ কর্মসূচির ওপর। গণমাধ্যমের মাথার ওপর ঝুলছে ধারালো তরবারী। সভা-সমাবেশ পুলিশের আকস্মিক আক্রমনের শিকার। মুক্তকন্ঠ এখন মানুষ ভুলে যেতে শুরু করেছে। তথ্য জানার অধিকার আইন করে বন্ধ করা হয়েছে, নাগরিক স্বাধীনতার গলা টিপে ধরার জন্য। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেছেন-দেশে গণতন্ত্রের সংকট নেই, তিনি আসলে ঘুরিয়ে বলেছেন। দেশে আওয়ামী-গণতন্ত্রের সংকট নেই, কিন্তু প্রকৃত গণতন্ত্র রাজপথে বেওয়ারিশ লাশের মতো পড়ে আছে। গুম, খুন, অপহরণ, বিচার বহির্ভূত হত্যা, নারী-শিশু নির্যাতনের পৈশাচিকতা ওবায়দুল কাদের সাহেবের আওয়ামী গণতন্ত্রের নমূনা। আসলে ওবায়দুল কাদের সাহেবের এই দাবি এদেশের জনগণ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বহুদলীয় গণতন্ত্রকে অপমান করা।
সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, আবুল খায়ের ভূঁইয়া, যুগ্ম মহাসচিব খাইরুল কবির খোকন, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, নির্বাহী কমিটির সদস্য অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম।

Leave a Reply