চালের বাড়তি দামের কারণে অসহায় কম আয়ের মানুষ

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ১০ মার্চ ২০১৮, শনিবার: চালের বাড়তি দামের কারণে অসহায় হয়ে পড়েছে কম আয়ের মানুষ। রাজধানীর নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারগুলোতে সবজির দাম কমলেও প্রত্যাশা মতো কমেনি পিয়াজের। কমেনি রসুনের দামও। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চালের দাম ধাপে ধাপে বাড়ছে। স্বস্তি বিরাজ করছে সবজিতে। সব মিলিয়ে এখন ক্রেতাদের জন্য অস্বস্তিতে পরিণত হয়েছে চালে বাড়তি দাম। রাজধানীর বাজারগুলোতে ঘুরে গতকাল এ চিত্র পাওয়া গেছে। হাতিরপুল, কারওয়ান বাজার, যাত্রাবাড়ী, মেরাদিয়া, হাজারীবাগ, নিউমার্কেট, ধানমন্ডি, শান্তিনগর, রামপুরা, মালিবাগ হাজীপাড়া এবং খিলগাঁও এলাকার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম স্থিতিশীল থাকলেও চালের দাম কিছুটা বেড়েছে। কয়েকটি বাজার ঘুরে চালের দামের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার দেখা মিলেছে। কারওয়ান বাজারের চাল বিক্রেতা মাসুদ মিয়াজী বলেন, আমন মৌসুম শেষ হওয়ার পর এখন ধাপে ধাপে চালের দাম বাড়ছে। এক সপ্তাহে কারওয়ান বাজারে প্রতিকেজি মিনিকেটের দাম বেড়েছে ১-২ টাকা করে। অন্য চালের দামও বেড়েছে।
এ বাজারে মিনিকেট প্রতিকেজি ৬৩ থেকে ৬৪ টাকা, বিআর আটাশ ৫০ টাকা, মোটা চাল (স্বর্ণা) ৪৪ থেকে ৪৫ টাকা, জিরাশাইল ৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে উত্তর বাড্ডার সাঁতারকুল রাইস এজেন্সির ব্যবস্থাপক বিপ্লব হোসেন বলেন, গত সপ্তাহে মিনিকেট চালের দাম প্রতি বস্তায় (৫০ কেজি) ৫০ থেকে ৬০ টাকা বেড়েছিল।
এ সপ্তাহে নতুন করে আর দাম বাড়েনি। রাজধানীর মিরপুরের ১০ নম্বর ও ৬ নম্বর কাঁচাবাজারের ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিকেজি নাজিরশাইল চাল বিক্রি হচ্ছে ৭৩ টাকা, ১ নম্বর মিনিকেট বিক্রি হচ্ছে ৬৫ টাকা, সাধারণ মিনিকেট চাল বিক্রি হচ্ছে ৬২ টাকা, বিআর-২৮ চাল বিক্রি হচ্ছে ৫৫ টাকা ও স্বর্ণা এবং পারিজা ৪৫ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। এদিকে পিয়াজের দাম একধাপ কমেছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে আমদানি ও দেশি পিয়াজের দাম কেজিতে অন্তত ৫ টাকা কমে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন বিক্রেতারা। কারওয়ান বাজারের পিয়াজ বিক্রেতা জয়নাল আবেদিন বলেন, ভারতীয় পিয়াজের পাল্লা (৫ কেজি) ২০০ টাকা থেকে ২১০ টাকার মধ্যে ছিল। তবে গতকাল দেশি পিয়াজের পাল্লা ১৮০ টাকায় নেমেছে। ভারতীয় পিয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকায়।
তবে টিসিবির তথ্যমতে, গতকাল প্রতিকেজি ৩৫ টাকা দরে পিয়াজ বিক্রি হয়। গত নভেম্বর মাসে পিয়াজের দাম প্রতিকেজি ১২০ টাকা হয়েছিল। ভারতীয় পিয়াজের দামও বেড়ে ১০০ টাকার কাছাকাছি চলে যায়। পিয়াজের দাম কমলেও আমদানি রসুনের দাম কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে এখন ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে কারওয়ান বাজারে।
অন্যদিকে, রাজধানীর কাঁচাবাজারে কমেছে সবজির দাম। গত সপ্তাহের তুলনায় কিছু সবজি ছাড়া অধিকাংশ সবজির দাম ৫ থেকে ৭ টাকা কমেছে। বেগুন বিক্রি হচ্ছে প্রকারভেদে ৫০ টাকা, কাঁচামরিচ ৫৫ টাকা, পেঁপে ৩০ টাকা, করলা ৬০ টাকা, শিম ৪০ টাকা, দেশি টমেটো ২৫ টাকা, গাজর ৩৫ টাকা, শসা ৫০ টাকা, মুলা ২০ টাকা, আলু ১৫ টাকা, প্রতি পিস বাঁধাকপি ২৫ থেকে ৩০ টাকা, প্রতি পিস ফুলকপি ২০ টাকা, বরবটি ৮০ টাকা, চিচিঙ্গা ৪০ থেকে ৫০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া এক আঁটি লালশাক ১৫ টাকা ও ধনেপাতা ৪০ টাকা, কাঁচা কলার হালি ২৫ টাকা, লাউ প্রতি পিস ৪০ টাকা, লেবু হালি ৪০ টাকা। প্রতি কেজি গরুর মাংস ৫০০ টাকা, খাসির মাংস ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকা, ব্রয়লার মুরগি ১৪০ টাকা, দেশি মুরগি ২৪০ টাকা কেজি, লেয়ার মুরগি প্রতি পিস আকারভেদে ১৫০ থেকে ২২০ টাকা ও পাকিস্তানি মুরগি ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

Leave a Reply