দেশের মানুষের কোন নিরাপত্তা নেই: চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সংবাদ সম্মেলন আবুল হাশেম বক্কর

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ৯ মার্চ ২০১৮, শুক্রবার: চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির পক্ষ থেকে আজ ৯ মার্চ শুক্রবার সকাল ১১ টায় নাসিমন ভবনস্থ দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন কোতোয়ালী থানার ২টি মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন লাভ করার পরও ফেনীতে বেগম জিয়ার গাড়ী বহরে হামলার মামলায় পুনরায় গ্রেফতার দেখানো, আগামী ১৫ মার্চ চট্টগ্রামের লালদীঘি মাঠে বিএনপির জনসভা এবং সর্বশেষ রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর। এছাড়াও সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী আলহাজ্ব জাফরুল ইসলাম চৌধুরী ও চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আলহাজ্ব আবু সুফিয়ান। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি ও চাকসু ভিপি নাজিম উদ্দিন, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সহসভাপতি আলহাজ্ব এম এ আজিজ, যুগ্ম সম্পাদক এস এম সাইফুল আলম, ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, আনোয়ার হোসেন লিপু, সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল ইসলাম, সহদপ্তর সম্পাদক মো. ইদ্রিস আলী প্রমুখ। লিখিত বক্তব্যে আবুল হাশেম বক্কর বলেন, দেশের এই রাজনৈতিক সংকটকালে গণতন্ত্রহীন রাস্ট্র ব্যবস্থায় দেশের মানুষ চরম নিরাপত্তাহীন অবস্থায় দিনযাপন করছে। দেশ বরেণ্য শিক্ষাবিদ প্রফেসর ড. জাফর ইকবালের মতো মানুষ পুলিশের উপস্থিতিতেও নিরাপদ নয়। তাহলে সাধারণ মানুষের অবস্থা কেমন তা আপনার সহজে বুঝতে পারছেন।
তিনি বলেন, গত ৮ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে কলংকজনক ঘটনা। এই ঘটনার মধ্য দিয়ে এদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার আপোষহীন নেত্রী, বাংলাদেশের ইতিহাসের প্রথম প্রধানমন্ত্রী, যিনি তিন তিনবারের সফল প্রধানমন্ত্রীও বটে। যিনি ১৯৯১ সাল থেকে ২০০৮ এর প্রতিটি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধিতা করে কোন আসনে পরাজিত হননি। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া।
বেগম খালেদা জিয়া এদেশের গণতন্ত্রসহ রাস্ট্র ব্যবস্থায় বহু যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণকারী নেত্রী এবং সরকার প্রধান। তিনি তাঁর সময়ে অবসর ভাতাপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারিদের মৃত্যুর পর তাঁর স্ত্রী এবং প্রতিবন্ধী সনন্তানদের জন্য পেনশন ব্যবস্থা চালু করেন। এদেশের নারী শিক্ষার অগ্রগতির জন্য দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত বিনামূল্যে মেয়েদের শিক্ষা বাধ্যতামূলক করেন। চালু করেন বয়স্কভাতার ব্যবস্থা। গ্রামীণ সাধারণ জনগোষ্ঠির সন্তানদের লেখাপড়ার জন্য উপবৃত্তির ব্যবস্থা প্রচলন করেন।
তার সেইসব পদক্ষেপ এখনো চলমান। রাস্ট্র পরিচালনায় এমন একজন যুগ শ্রষ্টা ব্যক্তির বিরুদ্ধে বর্তমান সরকার প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে একটি মিথ্যা ও সাজানো মামলায় সাজা প্রদান করা হয়েছে। এই সাজানো ও মিথ্যা মামলার রায়ের পর থেকে দেশনেত্রীর নির্দেশে বিএনপি সর্বাত্মক শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন কর্মসুচি পালন করে যাচ্ছে। বর্তমান সরকার বিএনপির এই শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিও যথাযথভাবে পালন করতে দিচ্ছে না। চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পুলিশ কর্মসূচিতে বাঁধা সৃষ্টি করছে। অতি উৎসাহী কিছু পুলিশ কর্মকর্তা অহেতুকভাবে আমাদের কর্মসুচিতে বাধা সৃষ্টি এবং দায়িত্বরত সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনেও বাধা দিচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, গত ৮ ফেব্রুয়ারি বিএনপি চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে সাজানো মামলার রায় ঘোষণার দিন চট্টগ্রামসহ সারা দেশে বিএনপিও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্থানে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি পালন করে। এইসব কর্মসূচিতে বিনা উসকানিতে পুলিশ হামলা চালায়। ঐ দিন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেনসহ নেতাকর্মীরা দলীয় কার্যালয়ে শান্তিপূর্ণ অবস্থান করছিল। কিন্তু পুলিশ বিনা কারণে কার্যালয়ের ভিতরে ঢুকে নেতা কর্মীদের উপর হামলা চালিয়ে নগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন ও দলের ৭ জন মহিলা নেত্রীসহ ১৯ জন নেতাকর্মিকে গ্রেফতার করে। এদের বিরুদ্ধে নাশকতাসহ একাধিক মামলা দায়ের করে। এছাড়া চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন থানায় শতাধিক নিরীহ নেতাকর্মিকে গ্রেফতার করে। নেতাকর্মীদের অফিস ও বাসাবাড়ীতে তলাশীর নামে ভাঙচুর চালিয়ে পরিবারের সদস্যদের সাথে দুর্ব্যবহার করে। নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর সহ মামলা দেওয়া হয় শত শত নেতাকর্মির বিরুদ্ধে। এদের মধ্যে অনেকেই এখনও কারাগারে রয়েছে। পুলিশের হামলা মামলার পরও বিএনপির তৃণমুলের নেতাকর্মিরা দেশনেত্রীর মুক্তি আন্দোলন থেকে পিছু হটে নাই।
আপনারা নিশ্চই অবগত আছেন বিগত ৮ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সভাপতিসহ ১৯ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে কোতোয়ালী থানায় দায়ের করা ২টি মিথ্যা মামলায় উচ্চ আদালত জামিন দেন। কিন্তু ডা. শাহাদাত হোসেনের জামিন প্রক্রিয়া বিলম্বিত করার হীনমানসে পুলিশ নতুন করে ফেনীতে বেগম জিয়ার গাড়ি বহরে হামলার মিথ্যা একটি মামলায় পুনরায় গ্রেফতার দেখিয়েছে। আমরা চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির পক্ষ থেকে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আপনারা জানেন ডা. শাহাদাত হোসেন একজন পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ এবং স্বনামধন্য চিকিৎসক। ফেনীর ঘটনার সাথে তার কোন প্রকারের সংশিষ্টতা নেই। ফেনীতে বেগম জিয়ার গাড়ী বহরে কারা হামলা চালিয়েছে আপনাদের কল্যাণে মিডিয়ার মাধ্যমে দেশবাসী অবহিত আছেন। বেগম জিয়ার গাড়ী বহরে হামলার ঘটনায় ফেনীর আওয়ামীলীগের সন্ত্রাসীরা প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিল। কিন্তু তারা এ ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে ডা. শাহাদাত হোসেনকে আসামী করেছে। তাদের সকল অপকর্ম অন্যের কাঁধে চাপিয়ে দেয়া তাদের পুরনো অভ্যাস। ফেনীর ঘটনার ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে।
আজকের এই সংবাদ সম্মেলনে আপনাদের মাধ্যমে ডা. শাহাদাত হোসেনসহ চট্টগ্রাম মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের গ্রেফতারকৃত সকল নেতাকর্মির নি:শর্ত মুক্তি ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের জোর দাবি জানাচ্ছি। সর্বোপরি সাবেক সফল প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপার্সনের বিরুদ্ধে ফখরুদ্দিন ও মঈনউদ্দিনের তথাকথিত ১/১১ সরকারের দায়ের করা মিথ্যা মামলায় সাজা বাতিল করে নি:শর্ত মুক্তির দাবি জানাচ্ছি।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার সম্পূর্ণ প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে বেগম জিয়ার বিরুদ্ধে মামলা পরিচালনা করছে। আমরা আমাদের নেত্রী, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলন শান্তিপূর্ণভাবে চালিয়ে যাবো। বেগম জিয়ার মুক্তির দাবিতে আগামী ১৫ মার্চ লালদীঘির ময়দানে চট্টগ্রাম বিএনপির উদ্যোগে জনসভা করা হবে। আমরা আশাকরছি, প্রশাসন জনসমাবেশের অনুমতি দিয়ে সহযোগিতা করবেন।

আমরা গণতন্ত্র পুন:রুদ্ধার, বাকস্বাধীনতা, আইনের শাসন, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, ভোটাধিকার এবং মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম করে যাচ্ছি। এদেশের গণতন্ত্র প্রিয় জনগণকে নিয়ে আমাদের শান্তিপূর্ণ সংগ্রাম চলছে চলবে। বিজয় আমাদের সুনিশ্চিত ইনশাআলাহ। আমাদের প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে অতীতে আপনাদের সহযোগিতা পেয়েছি। আগামীতেও আপনারা আমাদের সঙ্গে থাকবেন।

Leave a Reply