বাস্তব এবং তত্ত্ব উভয় ক্ষেত্রেই ইসলাম ‘ব্যতিক্রমী’

নিউজগার্ডেন ডেস্ক : ৫ মার্চ ২০১৮
আমরা বিশ্বাস করতে চাই, পৃথিবীর সব মানুষই মূলত একই রকম এবং সবাই একই জিনিস চায়। কিন্তু আমাদের এই বিশ্বাস যদি ঠিক না হয় তাহলে কী হবে?
বাস্তব এবং তত্ত্ব উভয় ক্ষেত্রেই ইসলাম ‘ব্যতিক্রমী’। রাজনীতির সাথে এই ব্যতিক্রমী ইসলামের সম্পর্ক কী? আইন ও সুশাসনে বিশাল ইতিবাচক ভূমিকার কারণে ইসলাম ‘সেকুলারাইজেশন’ প্রতিরোধে অতীতেও অবদান রেখেছে, ভবিষ্যতেও রাখবে। এই মুহূর্তে আমি অবশ্য জোর গলায় এই দাবি করতে কিছুটা অস্বস্তি বোধ করছি। বিশেষত বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ইসলামের নামে ‘ইসলামবিরোধী’ কিছু কর্মকাণ্ডের কারণে আমার এই অস্বস্তি। তবে ‘ইসলামি বৈচিত্র্যময়তা’ ভালো না খারাপ এটা আমাদের অনুধাবন করতে হবে। বিষয়টি যদি আমাদের আশা ও অভিপ্রায়ের বিরুদ্ধেও চলে, তবুও আমাদের সঠিক জিনিসটি বুঝতে হবে এবং এর প্রতি সম্মান দেখাতে হবে।
গুরুত্বপূর্ণ দু’টি বিষয়ের ওপর জোর দেয়া উচিত। প্রথমত, ইসলামের ‘প্রতিষ্ঠা মুহূর্ত’ বিশাল গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। নবী মোহাম্মদ সা: ছিলেন যিশুখ্রিষ্ট থেকে সম্পূর্ণ আলাদা প্রকৃতির। তিনি যিশুর মতো শুধু ধর্মপ্রচারক ছিলেন না। তিনি একই সাথে ছিলেন একজন তাত্ত্বিক, একজন ধর্ম প্রচারক, একজন রাজনীতিবিদ এবং সর্বোপরি একজন যোদ্ধা। তিনি একটি নতুন রাষ্ট্রের নির্মাতা ও নেতা ছিলেন। তিনি নতুন নতুন এলাকা জয় করেছেন এবং সেসব এলাকায় সুশাসন প্রতিষ্ঠা করেছেন। সেখানে তার নেতৃত্ব মেনে নিলে ধর্মীয় বা রাজনৈতিক ভিন্নমতাবলম্বীদের কোনো সমস্যা ছিল না। তাদের ওপর কোনো অত্যাচার বা নিপীড়ন করা হতো না। সবাইকে এক ব্যক্তির নেতৃত্বে বিজড়িত করা হতো।
দ্বিতীয়ত, মুসলমানদের ধর্মগ্রন্থ কুরআন হচ্ছে তাদের কাছে সরাসরি আল্লাহর আক্ষরিক বক্তৃতা। এর বিশুদ্ধতা সব কিছুর ঊর্ধ্বে। অনেকে মনে করেনÑ কোনো প্রমাণ ছাড়া মুসলমানেরা এটাকে কিভাবে ‘ঐশ্বরিক’ বাণী হিসেবে বিশ্বাস করে? তাহলে সব মুসলমানই কি অশিক্ষিত? মোটেও তা নয়। কেননা কুরআনের একটি বাক্যও কিন্তু এখন পর্যন্ত কেউ অপ্রাসঙ্গিক বলে প্রমাণ করতে পারেনি।
মুসলমানেরা অবশ্যই তাদের প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ের আবহে ফিরে যেতে বাধ্য নয়, সেটা সম্ভবও নয়। তাই বলে ওই সময়ের সবকিছুকে পরিত্যাগ করাও উচিত নয়। সুস্পষ্ট ধর্মীয় বিধানগুলো কোনো অবস্থাতেই পাশ কাটিয়ে যাওয়া যাবে না। একটি আদর্শ বিশ্বের জন্য চলমান যুদ্ধে আমরা চাই সেকুলার মুসলিমদের চিন্তাচেতনার জয় হোক। কিন্তু এই জয় দেখতে পাওয়াটা খুবই জটিল ও কঠিন একটি বিষয়। তবে ইসলাম যদি খ্রিষ্টান বা অন্য সব ধর্মের চেয়ে মৌলিকভাবে ভিন্ন ধাঁচের হয়ে থাকে তাহলে যত কঠিনই হোক এ জয় একদিন আসবেই। সঠিক সংস্কারের মাধ্যমে মানবসভ্যতা আলোকিত হবেই।
অন্য সবার জন্য এই বার্তা কী অর্থ বহন করে। এর অর্থ পশ্চিমা পর্যবেক্ষকদের এমন কিছু করা উচিত যা তাদের জন্য কিছুটা জটিল ও কঠিন এবং একই সাথে অস্বস্তিকর। তাদের উচিত রাজনীতিতে ইসলামের বৈচিত্র্যময় ও অত্যাবশ্যক নীতিগুলো প্রয়োগ করা। অন্যথায় ‘ধর্মনিরপেক্ষকরণের’ ফলাফল তারা শিগগিরই ভোগ করবে।
শাদি হামিদ, মার্কিন লেখক ও চিন্তাবিদ। জর্জ টাউন ইউনিভার্সিটির স্কুল অব ফরেন সার্ভিস থেকে বিএসসি ও মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেছেন। পরে তিনি বিশ্ববিখ্যাত অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে মধ্যপ্রাচ্য ও ইসলামি বিশ্বের সম্পর্কবিষয়ক কেন্দ্রের সিনিয়র ফেলোর দায়িত্ব পালন করছেন।
তার লেখা সর্বশেষ বই ‘ ইসলামিক একসেপশনালিজম : হাও দ্য স্ট্রাগল ওভার ইসলাম ইজ রিশেপিং দ্য ওয়ার্ল্ড’ ইতোমধ্যে বেশ সাড়া ফেলেছে। এর আগে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস থেকে প্রকাশিত তার ‘টেম্পটেশন অব পাওয়ার : ইসলামিস্ট অ্যান্ড ইললিবারেল ডেমোক্রেসি ইন এ নিউ মিডল ইস্ট’ বইটি ফরেন এফেয়ার্স বেস্ট বুক-২০১৪ নির্বাচিত হয়।

Leave a Reply