আনোয়ারায় জাল দলিলে সম্পত্তি জবর দখলের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ১৮ ফেব্র“য়ারী ২০১৮, রবিবার: বিভিন্ন জাল জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া দলিল দস্তাবেজ তৈরী করে জবরদখলের অভিযোগে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন আনোয়ারা উপজেলার বারশাত গোবাদিয়ার মৃত ডা. নুরুল ইসলাম খানের ছেলে মুস্তাকিম এন ইসলাম।
আজ ১৮ ফেব্র“য়ারী রবিবার বেলা ১১ টায় অনুষ্ঠিত সম্মেলনে তিনি তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, আনোয়ারা উপজেলার বারশাত গোবাদিয়ার মৃত শেখ ওসমান খানের পুত্র হেজকেল খান, সোহাইল খান, হেলাল খান, আরশাদ খান, আজম খান, মাসুম খান জাল দলিল তৈরী করে তার পিতার ক্রয়কৃত সম্পদ, ভিটেবাড়ী, মৌরশি সম্পদ, এমনকি তাদের পারিবারিক কবরস্থানও বিক্রি করে সমুদয় অর্থ আত্মসাৎ করে। এ সব ব্যাপারে ২০১৩ সালে তাদের বিরুদ্ধে জালিয়াতি মামলা দায়ের করা হয়। এ মামলার পর সন্ত্রাসীরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ১৫ টি মিথ্যা মামলা দায়ের করে। গ্রামের অনেক নিরীহ মানুষ এ সন্ত্রাসীদের প্রতারণার শিকার হয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছে।
লিখিত বক্তব্যে তিনি আরো বলেন, ২০১৫ সালের ১৬ জানুয়ারী তার পিতার মৃত্যুর পর তার ছোটভাই প্রতিবন্ধী মুহিত এন ইসলাম তুহিনকে তাদের পৈত্রিক ভিটায় নির্মিত দালানে রেখে যান। সন্ত্রাসীরা তাদের প্রতিবন্ধী ভাইকে ভিটে বাড়ী থেকে উচ্ছেদের জন্য বিভিন্নভাবে শারীরিক অত্যাচর করেছিল। এ ব্যাপারে বার বার আনোয়ারা থানায় অভিযোগ জানালেও পুলিশের কোন সহযোগিতা পায়নি। সর্বশেষ সন্ত্রাসীরা আমার ভাইকে মারধর করে আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমেপ্লেক্সের রেজিষ্ট্রি বইয়ে আমার ভূয়া স্বাক্ষর দিয়ে ভর্তি করে পালিয়ে যায়। এ ব্যাপারে বারশত ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কাইয়ুম শাহ ও আনোয়ারা থানার ওসি দুলাল মাহমুদকে অবহিত করেন। আনোয়ারা থানায় ওসি অপরাধীদের সাথে একটি বৈঠকের প্রস্তাব দেন। বৈঠকে আমি, আমার মা, ভাইয়েরা ও গ্রামের আত্মীয়স্বজন উপস্থিত ছিলাম। বৈঠকের এক পর্যায়ে ওসি উত্তেজিত হয়ে অপরাধীদের নির্দেশ দেন আমার ভাইকে ভিটে থেকে উচ্ছেদ করে আসবাবপত্র ফেলে দিতে। পরের দিন অপরাধীরা আমার প্রতিবন্ধী ভাইয়ের কাপড়চোপড়, ঘরের আসবাবপত্রও প্রকাশ্য দিবালোকে জনসম্মুখে আগুনে পুড়িয়ে ফেলে। পরবর্তীতে ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামন চৌধুরী জাবেদ এমপিকে ঘটনাটি অবহিত করলে তিনি উপস্থিত ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও অন্যান্য গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে আনোয়ারা থানর ওসিকে তাৎক্ষণিক অপরাধীদের গ্রেফতারের নির্দেশ দেন। ওসি মন্ত্রীর নির্দেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে পুনরায় বৈঠকের প্রস্তাব দেন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ২০১৭ সালের ২৬ জুলাই আমার প্রতিবন্ধী ভাই মৃত্যুবরণ করলে তার মৃতদেহ আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের মাধ্যমে শহরের কবরস্থানে দাফন করি। অপরাধীদের উশৃংখল ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের কারণে আমার ভাইয়ের মত আমার পিতার মৃত্যুর পর তার জানাযা ও দাফন কাজে আমাদের পরিবারের কেউ অংশ নিতে পারেনি। সন্ত্রাসীদের দল নেতা ও জালিয়াতির মূল পরিকল্পানাকারী হেজকেল খান বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের নিুবাহি সহকারী সিইউএফএল জেটিতে কর্মরত রয়েছে। হেজকেল খান কর্মস্থলে গিয়ে স্বাক্ষর করে বিভিন্ন অপরাধীদের সাথে যোগসাজশে বিভিন্ন অপকর্মে লিপ্ত থাকে।
এ ব্যাপারে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, ভূমি মন্ত্রী, ভূমি প্রতিমন্ত্রী ও পুলিশের আইজিসহ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিকট অপরাধীদের হাত থেকে আনোয়ারা উপজেলার বারশাত গোবাদিয়ার মানুষদের এ অসহায় পরিস্থিতি থেকে উদ্ধার করে এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
উল্লেখ্য, স্বত্ব ঘোষণা ও কথিত আমমোক্তারনামা দলিলদ্বয় এবং তৎ অনুবলে সৃজিত দলিল সমূহ সম্পূর্ণ প্রতারণামূলক, বেআইনী, বানোয়াট, অকর্মন্য void abinitio হওয়া মর্মে ঘোষণার আবেদনে ২৩ জনকে বিবাদী করে পটিয়া যুগ্ম জেলা জজ আদালতে মামলা দায়ের (অপর ২০৩/২০১৬) করেন। তৎমধ্যে ১১ নং মামলার বিবাদী চ্যানেল আইয়ের ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী বলে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি আরো বলেন, সন্ত্রাসীরা থানায় ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীর নাম বিক্রি করে পার পেয়ে যাচ্ছেন বলেও উল্লেখ করেন।

Leave a Reply