কিছু কৃমি চোখের ভেতর ঘুরে

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ২২ জানুয়ারী ২০১৮, সোমবার: পেটের ভেতরে কৃমি হয় সেটা সবাই জানেন কিন্তু চোখের ভেতরেও যে কৃমি ঘুরে বেড়াতে পারে তা কি জানেন? যদি না জেনে থাকেন, তবে চলুন জেনে নেয়া যাক।
লোয়া লোয়া একধরনের আফ্রিকান পরজীবী, যা আফ্রিকান আই ওয়ার্ম হিসেবে অধিক পরিচিত। ফিতের মতো দেখতে। গায়ের বর্ণ সাদা। প্রাণীদেহে পরজীবী হিসেবে বসবাসকারী এমন দীর্ঘ কৃমি সচরাচর দেখা যায় না। নামে চোখের কৃমি বলা হলেও, এর বিচরণক্ষেত্র অনেক। চোখ, মস্তিষ্ক, ফুসফুস, চামড়ার নিচে চর্বির স্তর, পুরুষের অণ্ডকোষসহ আরও অনেক সংবেদনশীল স্থানে এটা ঘুরে বেড়ায়। এ সময় প্রচণ্ড প্রদাহ সৃষ্টি করে। আফ্রিকার প্রায় ১ কোটি মানুষ এই কৃমির সংক্রমণের শিকার এবং ২ কোটি ৯০ লক্ষ মানুষ আসন্ন সংক্রমণের তালিকায় রয়েছে।
লোয়া লোয়া কৃমির সংক্রমণকে বলা হয় লোয়াসিস। ক্রিসপস গোত্রের ডিয়ার ফ্লাই ও ম্যাংগো ফ্লাই- এই দু’ধরনের মাছি এই কৃমির বাহক। এই দুই মাছির কামড়ে কৃমি মানুষের দেহে সংক্রমিত হয়। মানবদেহে এরা খুব দ্রুত বংশবৃদ্ধি করে থাকে এবং এরা এত পরিমাণে নতুন কৃমির জন্ম দেয় যে দেহের সেসব স্থানে অনেক সময় ফুলে যায় বা ফুসকুড়ির মতো দেখা দেয়।
১৭৭০ সালে সর্বপ্রথম এই কৃমির সংক্রমণ সম্পর্কে জানা যায়। ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জ থেকে একটি জাহাজে করে কিছু ক্রীতদাস আমেরিকাতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল এবং এই জাহাজে কর্মরত একজন ফরাসী সার্জন সর্বপ্রথম এই সংক্রমণটি সনাক্ত করেন।
সংক্রমণের প্রাথমিক অবস্থায় তা মানবদেহে কোনো লক্ষণের সৃষ্টি করে না। যখন কৃমি প্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় কনজাংকটিভায় চলে আসে, তখন নানারকম লক্ষণ দেখা দেয়।
ক. চোখে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভূত হতে থাকে।
খ. তলপেটে ভয়াবহ ব্যথা, কারণ অন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত।
গ. অণ্ডকোষ ফুলে বড় হয়ে যায়, ব্যথা হয়, তরলও নিঃসৃত হতে পারে।
ঘ. বগল, জঙ্ঘা প্রভৃতি স্থানে ফুলে যায়, ব্যথা হয়, তরল নিঃসৃত হয়।
ঙ. হঠাৎ কিডনি অকেজো হয়ে পড়ে।
চ. গিঁটে গিঁটে প্রচণ্ড ব্যথা হয়, ঠিক বাতের মতো।
প্রতিদিন দুবার করে মোট ২০০ গ্রাম অ্যালবেনডাজল সেবনের পরামর্শ দিয়ে থাকেন অনেক চিকিৎসক। ঔষধ সেবনের মেয়াদকাল ২১ দিন এবং এই ঔষধ সেবনে মাইক্রোফিলারির সংখ্যা অনেকটা কমে যায়। ইভারমেকটিন মাইক্রোফিলারির বিরুদ্ধে বেশ ভালো কাজ করে, তবে প্রাপ্তবয়স্ক কৃমির বিরুদ্ধে এর কার্যক্ষমতা নেই। লোয়া লোয়া কৃমির আক্রমণের হাত থেকে দ্রুত চিকিৎসা প্রদানের জন্য এখন পর্যন্ত কোনো ভ্যাকসিন আবিষ্কৃত হয়নি। আফ্রিকার এই অঞ্চলে যারা ভ্রমণকারী আসেন, তাদের প্রতিষেধক হিসেবে একবার ৩০০ গ্রাম ডিইসি সেবনের জন্য বলা হয়ে থাকে। ইন্টারনেট থেকে

Leave a Reply