হাঙ্গর খালের উপর সেতু!

সাতকানিয়া প্রতিনিধি, ১৭ জানুয়ারী ২০১৮, বুধবার: বড় ভাগ্যবান জামায়াতের এই ব্যক্তি। তার জন্য সাতকানিয়া বাশঁখালীর প্রধান সড়ক কেটে হাঙ্গর খালের উপর সরকারী টাকায় সেতু দেয়া হচ্ছে বলে এলাকায় অভিযোগ উঠেছে। ৮নং ঢেমশা বোর্ড অফিসের নিকটে সাতকানিয়া বাশঁখালীর সড়ক ঘেষে ঢেমশা আলমগীর পাড়ার রাস্তার মাথায় হাঙ্গর খালে মহাসমারোহে সেতুর কাজ চলছে। জানা যায় আদিকাল থেকে ঢেমশা বোর্ড অফিসের সামনে দিয়ে বড় আকারের একটি রাস্তা জনসাধারণের চলাচলের জন্য রয়েছে। যুগযুগ ধরে মানুষ এই রাস্তায় চলাফেরা করে আসছে। এলাকার জনপ্রিয় চেয়ারম্যান মরহুম সরওয়ার কামালের তদারকিতে রাস্তাটি বরাবরই মজবুদ ছিল। রাস্তার পাশে তার বিশাল বাড়ী। তিনি কখনো চিন্তা করেনি পানি নিষ্কাশনের হাঙ্গর খাল ভরাট করে তার বাড়ী যাওয়ার জন্য সোজাসুজি রাস্তা করবেন। তিনি ভাবতেন তার ব্যক্তিগত সুবিধা হলে ও বিরাট ক্ষতি হবে এলাকার জনসাধারণের। হাল জগতের জামায়াতের এক নতুন পয়সাওয়ালা খালের পাড়ে এক বির্ল্ডিং গড়ে তুলে। তখন তিনি বাঁধ সেজেছে। পুরানো রাস্তা দিয়ে তিনি চলাফেরা করবে না। বায়না ধরে খাল ভরাটে। ওইসময় ক্ষমতায় ছিল বিএনপি’র জোট সরকার। সাতকানিয়া লোহাগাড়ার এমপি ছিলেন সামশুল ইসলাম। এই জামায়াতের লোক জামায়াত এমপিকে ম্যানেজ করে ভুয়া প্রকল্প’র মাধ্যমে সরকারী টাকায় হাঙ্গর খাল ভরাট করে কালভার্ট দিয়েছিল। খাল ভরাট করায় পানি নিষ্কাশনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়। তার এই অপকর্ম নিয়ে দৈনিক বীর চট্টগ্রাম মঞ্চ সংবাদ প্রকাশ করেছিল। তাছাড়া তৎকালীন জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন ওই সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ উল্যাহকে খাল থেকে কালভার্ট অপসারণ করার জন সমক্ষে নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্ত তিনি জেলা প্রশাসকের কথা তোয়াক্কা না করে রহস্যজনক কারণে খালের ওই কালভার্ট অপসারণ করেনি। এই সুবাধে এই জামায়াত নেতা গেড়ে বসে এখন কার ইঙ্গিতে কি সাহসে সরকারী টাকায় খাল ভরাট করে তার ব্যক্তিগত বাড়ী যাওয়ার সেতু তৈয়ার করছে। সরকারী লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যয় করে তার বাড়ী যাওয়ার জন্য কে সহযোগিতা করছে সেই প্রশ্ন এখন সাতকানিয়াবাসীর মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে। তাদের অভিযোগ একদিকে সরকারী টাকা তছরুপ অন্যদিকে এলাকাবাসীর ব্যাপক ক্ষতি হওয়ার আশংকা। সরকারী টাকায় এই জামায়াতকে পৃষ্টপোষকতা করায় আ’লীগ রাজনীতির অশনি সংকেত বলে সচেতনমহলের ধারণা। সূত্রেপ্রকাশ এই জামায়াতকে নিয়ে মোটা অংকের টাকার বাণিজ্য করা হয়েছে। এ ব্যাপারটি জরুরী ভিত্তিতে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য এলাকার লোকজন সংশ্লিষ্ট বিভাগের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Leave a Reply