শহর আমার দায়িত্ব কার!

মাহমুদুল হক আনসারী, ১৭ জানুয়ারী ২০১৮, বুধবার: শহর আমার দায়িত্ব কার! মানুষের প্রয়োজনে গ্রাম শহর হচ্ছে। প্রয়োজনের তাকাদায় মানুষ শহরে আসছে। গ্রামের মানুষের দৈনন্দিন অফিসিয়াল কাজে শহরে আসতে হচ্ছে। গ্রামের মানুষের প্রয়োজনে বড় বড় কর্মক্জ সম্পন্ন করতে শহরে আসতে হয়। এখানে সরকারী অফিস আদালত হাসপাতাল রয়েছে। লাখ লাখ কর্মজীবী মানুষ রয়েছে। যারা নিয়মিত ভাবে শহরে এসে তাদের কর্মকাজে যোগদান করেন। তাদের ঠিক সময়ে শহরে প্রবেশ করা লাগে। আবার দৈনিক কর্ম শেষ করে নির্দিষ্ট বাসা বাড়ীতে ফিরতে হয়। পোশাক খারখানার লাখ লাখ শ্রমজীবী মানুষ দৈনিক পরিবহন ব্যবহার করে কর্মস্থলে যাওয়া আসা করতে হয়। মালিক শ্রমিক সকলেই নির্দিষ্ট সময়ে অফিসে আসা যাওয়া করতে হয়। সময় মতো কর্মস্থলে না পৌঁছাতে পারলে উৎপাদন কার্যক্রমের ব্যাঘাত হয়। কর্মজীবীদের জবাবদীহি অফিস টাইম রক্ষা করতে না পারলে চাকরী চলে যায়। জটিল ও মুমর্ষরোগীদের শহরের বড় চিকিৎসাকেন্দ্রে আনতে হয় চিকিৎসার জন্য। কথা হচ্ছে শহরে প্রবেশ কারো জন্যই নিরাপদ যাতায়ত হচ্ছে না। শহরের সবগুলো প্রবেশ মূখে কী সকাল কী বিকেল অফিস ও কর্ম টাইমে নিত্যদিন যানজটের নাকালে পড়তে হয় কর্মজীবী মানুষদের। ঘন্টার পর ঘন্টা কর্ম সময় গাড়ীতে রাস্তায় চলে যায়। শহর প্রশাসনের মালিক সিট্ কর্পোরেশন। শহর শৃংখলার মালিক ট্রাপিক পুলিশ, আইন শৃংখলা বাহীনি। এসব জন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কোনো ধরনের মতামত ভাবে আইনের প্রয়োগ দেখা মিলছেনা। শহর জুড়েই ট্রাপিক পুলিশ আইন শৃংখলা বাহিনী রয়েছে। নির্দিষ্ট ষ্টপিজে তাদের দায়িত্ব। তাদের দায়িত্ব বলা আছে। কাজ কর্ম ডিউটি ঠিক করা আছে। কোথায় গাড়ী থামবে কোন স্পটে গাড়ী রাখবে। সব কিছু একটা নিয়ম থাকার পরও পরিবহন ও যান চলাচল ট্রাপিক শৃংখলা জনজীবনে পাওয়া যাচ্ছেনা। পরিবহন মালিক শ্রমিক নিত্যদিন রাস্তায় নানা জাতের গাড়ি নামাচ্ছে। গাড়ির সঠিক কাগজ পত্র অনেক গাড়ীর নেই। টুকেন দিয়ে মালিক শ্রমিকদের সাথে যৌথ বানিজ্যে রাস্তায় এ গাড়ী চলছে বলে জানা যায়। কোন রোটে কত পরিমান গাড়ী চলবে তার কোনো হিসাব মিলছেনা। রাস্তার চেয়ে গন পরিবহণ বেশী। সাথে এক একজন মানুষের জন্য একটা করে প্রাইভেট গাড়ী। ছাত্র ছাত্রীদের গার্ডিয়ানরা নিয়ে আসে স্কুল টাইমে একটা একটা প্রাইভেট গাড়ী করে। রাস্তায় কোনো পার্কিং এর অনুমতি না থাকলেও রাস্তায় এ পরিবহন গুলোর পার্কিং করে রাখা হয়। রাস্তার দু পাশেই বিশাল এলাকা জুড়ে এসব গাড়ীর পার্কিং। বাস, ট্রাক, টেম্পু, টেক্সী, রিক্সার পার্কিং সারা শহর জুড়েই চোঁখে পড়ে। ফুতপাত অনেকটাই বেদখল। জন চলাচলের জন্য ফুতপাত পাওয়া যায়না। জনগন ফুতপাত ব্যবহার করার কোনো সুযোগ পচ্ছেনা। সারা শহরের ফুতপাত হকারদের দখলে। এসব হকারদের বসিয়েছে এক শ্রেনীর চাঁদাবাজ চক্র। তাদের সাথে আইন শৃংখলা বাহিনীর সাথে যোগাযোগ। প্রতিদিন একজন হকার থেকে নেয়া হয় ২০-১০০ টাকা পর্যন্ত। ফুকপাত যেই দখল করে বসবে তাকে নির্দিষ্ট হারে চাঁদা দিয়ে বসতে হবে। চাঁদা ছাড়া কোনো হকার ফুতপাত রাস্তায় বসতে পারেনা। এ ফুতপাত কারা নিয়ন্ত্রণ করে। কাদের হাতে রাস্তার দোকান আর ফুতপাতের ক্ষমত্।া এ বিষয় সমাজ প্রশাসন অবগত আছেন্ কিন্তু এর সুরাহা কী জনভোগান্তির সমাধান কী হবে সেটা কেউ গুরুত্ব দিচ্ছেনা। ঘন্টার পর ঘন্টা কর্ম সময় শহরগামী মানুষের নষ্ট হচ্ছে সেটার কোনো গুরুত্ব আর সমাধান মিলছেনা শহরগামী মানুষের। নগর জীবন শৃংখলার জন্য সিটি কর্পোরেশন প্রশাসন রয়েছে। রযেছে চট্রগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। মেট্রোপলিটন পুলিশ, ট্রফিক পুলিশ। এত সব বিভাগ থাকার পরও জন জীবনে শহরমূখী মানুষের ভোগান্তির সীমা থাকছেনা। তাহলে শহর রক্ষার দায়িত্ব কার। শহরমূখী মানুষের জীবন জিবিকা নিয়মিত ভাবে গ্যাস পাচ্ছেনা। চুলা জ্বলছেনা। রান্না বান্না হচ্ছেনা, কর্মজীবী মানুষ ঠিকভাবে পেটে আহার দিতে পারছেনা। ছাত্র ছাত্রীদের সঠিক সময়ে অভিভাবকগন আহার দিতে বেগ পেতে হচ্ছে। কোনো কোনো এলাকায় সাপ্তাহে কয়েকদিন পানি মিলছেনা। বিদ্যুৎ থাকেনা বহু বানিজ্যিক এলাকায়। গ্যাস নাই। বিদ্যুৎ নাই। পানি নাই। নিত্য পন্যের লাগামহীন মূল্য, সব মিলিয়ে নগর জীবন এক অস্বস্তীকর অবস্থায় ফেলছে নগরবাসীকে। কে নেবেন এর দায়িত্ব। প্রতিদিন চোঁখ দেখা এসব সমস্যা জনভোগান্তি প্রশাসনের সংষ্লিষ্ট কর্তাদের নজরে আসলেও সুরাহার কোনো সমাধান দেখছেনা নগরবাসী। পরিবহন শৃংখলা, মালিক শ্রমিক শৃংখলা যাত্রী সাধারণের জীবনের নিরাপত্তা ও রাস্তার যানজট মুক্ত করতে প্রশাসনকেই উদ্যোগী হতে হবে। ফুতপাতের জায়গা দখল ও চাঁদাবাজী বন্দ রাখতে হবে। ফুতপাত জন চলাচলের জন্য মুক্ত রাখতে হবে। অবৈধ গনপরিবহণ নিয়ন্ত্রণ ও সব ধরনের চাঁদাবাজী ক্যডার পুনর্বাসন নিয়ন্ত্রন চাই। রাস্তা ও ফুতপাত জনগনের চলাচলের জন্য মুক্ত রাখতে হবে। মাননীয় জেলা প্রশাসনকে শহরবাসীর ভোগান্তি লাগবে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে ফুতপাতমুক্ত রাখার দাবী রাখে জনগন।রাস্তার ফুতপাত দোকান হকার থেকে চাঁদাবাজের উৎখাত চায় নগরবাসী। যান চলাচল ও জন চলাচলের ফুতপাত জনগনের জন্য উম্মোক্ত রাখা হউক। শহরের শৃংখলা রক্ষায় সবধরনের পরিবহনকে শৃংখলার আওতায় আনতে হবে। ক্যাডার চাঁদাবাজ, রাস্তা ও ফুতপাত দখলণকারী সিন্ডিক্যাট চিন্হিত করে জনগনের স্বার্থে শহর প্রশাসনকে এগিয়ে আসতে হবে। দেশী বিদেশী কোনো অথিতি শহরে প্রবেশ করলে দেখাযায় রাস্তায় য়ানজট। এ সংস্কৃতি গ্রহন যোগ্যনয়। রাস্তার শৃংখলা রক্ষা হলে কারো জন্য যানজট হবেনা। দেখা যায় রাষ্ট্রের উচ্চপদস্থ কোনো কর্তা থেকে শুরু করে বিদেশী কোনো মেহমান আসলেই রাস্তায় খবর হয়ে যায় অমুক আসছে, তাই যানজট সৃষ্টি। অমুকের জন্য রাস্তা বন্ধ রাখা হয়েছে। খেলঅর জন্য, খেলোয়াড়ের জন্য এ পথ বন্ধ। এ ধরনের বক্তব্য আর সংস্কৃতির যোগ এখন আর বিশ্বের কোথাও নেই। আধুনিক যুগে আধুনিক ভাবে মানুষের চলাচল বেড়েছে। সেই মন্দা আমলের চিন্তা আর বুদ্ধি দিয়ে দেশ চালানো ঠিঁক না। বাংলাদেশে দেশী বিদেশী অথিতি আসবে সেটাই কাম্য। সে অজুহাত কোনো অবস্থায় রাস্তার যান চলাচলে জন ভোগান্তি প্রত্যাশিত নয়। জনকাম্য নয়। কোনো অবস্থায় কোনো মেহমানের আগমনকে উদ্দেশ্য করে রাস্তার যেন জ্যাম না হয়, ভোগান্তি না হয় সেটায় প্রশাসনকে চিন্তায় রাখা দরকার। শহর আমার। শহরের শৃংখলা রক্ষার দায়িত্ব স্থানীয় প্রশাসন ও সব মানুষের রয়েছে। সকলকে সচেতনতার মধ্যে শহরের সমস্ত শৃংখলা রক্ষায় কাজ করতে হবে। গ্যাস পানি, বিদ্যুৎ, রাস্তার জন ভোগান্তি দূর করুন। প্রশাসনের সব স্তরে সমন্বয় করে জনগনের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্টা দেখতে চায় জনগন। লেখক: প্রাবন্ধিক, গবেষক, কলামিষ্ট।

Leave a Reply