খরুলিয়া কেজি অ্যান্ড প্রিক্যাডেট স্কুল কর্তৃপক্ষের শাস্তি দাবি: ক্যাব

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ০৯ জানুয়ারী ২০১৮, মঙ্গলবার: ককসবাজারের খরুলিয়া কেজি অ্যান্ড প্রি-ক্যাডেট স্কুলের শিক্ষক কর্তৃক পরীক্ষায় নিজের সন্তান ফেল করলো কেনো? ভর্তিতে ও মাসিক ফিস অকারনে কে বৃদ্ধি হলো তার কারন জানতে চাওয়ায় স্কুলের শিক্ষককরা একত্রিত হয়ে অভিভাবকের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে অমানবিক নির্যাতনের ঘটনা বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কেজি স্কুল গুলিতে সরকারী নিয়মনীতি, নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন, সীমাহীন অনিয়ম, সর্বোপরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে সুশাসনের অনুপস্থিতির বর্হিপ্রকাশ। কোন প্রকার সরকারী কর্তৃপক্ষের অনুমোদনবিহীন ব্যাঙ্গের ছাতার মতো স্কুল স্থাপন, সরকারের শিক্ষা বিভাগের কোন প্রকার নজরদারি না থাকায় যে যার ইচ্ছামতো প্রতিষ্ঠানের নিয়মকানুণ তৈরী ও সেঅনুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছে।অন্যদিকে যাদের অর্থে এ সমস্ত প্রতিষ্ঠানগুলি পরিচালিত হয় সেই অভিভাবকদের সাথে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ কোন প্রকার সংলাপ বা আলোচনার পরিবেশ ও সুযোগ না থাকায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচালনায় তাদের অবদান রাখার সুযোগে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্ঠি হচ্ছে, যা শিক্ষার গুনগত মান উন্নয়নে বড় অন্তরায়। এ অবস্থায় খরুলিয়া কেজি অ্যান্ড প্রি-ক্যাডেট স্কুলের শিক্ষকমন্ডলী কর্তৃক অভিভাবকে নির্যাতনের ঘটনা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে সীমাহীন অনিয়ম ও আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শনের সামিল যা আইন নিজের হাতে তুলে নেবার সামিল। তাই অনতিবিলম্বে অভিভাবকে নির্যাতনকারী শিক্ষক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে কঠিন ও দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবি করেছেন দেশের ক্রেতা-ভোক্তাদের স্বার্থ সংরক্ষনকারী জাতীয় প্রতিষ্ঠান কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) নেতৃবৃন্দ।
খরুলিয়া কেজি অ্যান্ড প্রি-ক্যাডেট স্কুলের শিক্ষক কর্তৃক অভিভাবক নির্যাতনের ঘটনায় এক বিবৃতিতে অনতিবিলম্বে ঘটনার মুলহোতাদের গ্রেফতার করে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের আওতায় দোষীদের দৃষ্ঠান্তমুলক বিচারের আওতায় আনা না গেলে এ ধরনের নৈরাজ্য আরো ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাবে, যা পুরো সমাজে অস্থিরতাকে উসকে দিবে। যাদের অর্থে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি পরিচালিত হয়, তাদের মতামত, সংলাপ ও অংশগ্রহনের সুযোগ সীমিত হওয়ায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সুসাশন যেভাবে ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি অনিয়ম, দুর্নীতি ও সরকারের আইন ও নির্দেশনা না মানার সংস্কৃতি ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
নেতৃবৃন্দ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নির্যাতনের ভিডিওটি ভাইরাল হলেও আইন প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষ শুধু মামলা রজ্জু করেই ক্ষান্ত। বিষয়টি দ্রুত আইনের আওতায় এনে আগে গ্রেফতার করা উচিত ছিল। কারন গ্রেফতার করা না হলে অপরাধীরা ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে পারেন। অন্যদিকে স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ ও শিক্ষা প্রশাসন তড়িৎ ব্যবস্থা গ্রহনে বিলম্বের কারনে কারন অপরাধীরা ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার পাশাপাশি দেশে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্ঠি হতে পারে। যা পুরো দেশের সুশাসন ব্যবস্থার ব্যর্থয় ঘটতে পারে ও সামাজিক অস্থিরতা বাড়াতে পারে।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ আরো বলেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা প্রশাসনে অনিয়ম, নৈরাজ্য ও সুসাশনের অভাবের বিষয়ে ক্যাবসহ বিভিন্ন নাগরিক সংগঠনসমুহের বারবার উত্থাপনের পরও এ বিষয়ে শিক্ষা প্রশাসন, শিক্ষা বোর্ড ও শিক্ষা মন্ত্রনালয় কোন উদ্যোগ গ্রহন করেনি। যার কারনে ভর্তিতে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, মাসিক ফিস, টিসি ফিসসহ নানা খাতে বিপুল অর্থ আদায়সহ পাঠ্যপুস্তকে মানহীন অতিরিক্ত বই যুক্ত করা, কোচিং বানিজ্য, ভর্তি বানিজ্যসহ নানা অনিয়মে জড়িয়ে পড়ছে আর দায়িত্বে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানগুলো দিবানিদ্রায় মগ্ন।
বিবৃতিতে যারা স্বাক্ষর করেন তারা হলেন ক্যাব কেন্দ্রিয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন, ক্যাব চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাধারন সম্পাদক কাজী ইকবাল বাহার ছাবেরী, ক্যাব মহানগরের সভাপতি জেসসিন সুলতানা পারু, সাধারন সম্পাদক অজয় মিত্র শংকু, ক্যাব চট্টগ্রাম দক্ষিন জেলা সভাপতি আলহাজ্ব আবদুল মান্নান প্রমুখ।

Leave a Reply