শান্তিময় সমাজ প্রতিষ্ঠায় মহানবী (দঃ) এর আদর্শ অনুসরনের বিকল্প নেই: আইইবি

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ১১ ডিসেম্বর ২০১৭, সোমবার: ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (আইইবি) চট্টগ্রাম কেন্দ্রের উদ্যোগে কেন্দ্রের সেমিনার কক্ষে পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সঃ) উদযাপন উপলক্ষে প্রকৌশলী সন্তানদের অংশগ্রহণে রচনা প্রতিযোগিতা, কেরাত এবং হামদ ও না’ত প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়। প্রতিযোগিতাশেষে কেন্দ্রের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী সাদেক মোহাম্মদ চৌধুরী’র সভাপতিত্বে এবং সম্মানী সম্পাদক প্রকৌশলী প্রবীর কুমার সেন এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তারা উপরোক্ত কথাগুলো বলেন। আলোচনা সভায় অন্যান্যদের মাঝে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রের কেন্দ্রের ভাইস-চেয়ারম্যান (একা. এন্ড এইচআরডি) প্রকৌশলী এম. এ. রশীদ, ভাইস-চেয়ারম্যান (এডমিন. প্রফেশ. এন্ড এসডব্লিউ) প্রকৌশলী উদয় শেখর দত্ত প্রমুখ। প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম স্টেশন রোড জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মামুনুর রশীদ নুরী।
প্রধান আলোচক বলেন, সমগ্র মানবজাতি যখন মানবতা হারিয়ে অন্ধকারচ্ছন্ন হয়ে পড়েছিল সেই অন্ধকার বিশ্বকে আলোকিত করার লক্ষে ইসলামের প্রচারক, শান্তির বার্তাবাহক হিসেবে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) কে মহান রাব্বুল আলামিন সকল সৃষ্টিকুলের জন্য রহমতস্বরূপ ৫৭০ খ্রিষ্টাব্দের ১২ রবিউল আউয়াল মাসে পৃথিবীতে প্রেরণ করেন। তাঁর আচার আচরণ ছিল অত্যন্ত মধুর। শিশুকাল থেকে তিনি ছিলেন অত্যন্ত বিশ্বাসী তাঁর বিশ্বস্ততা দেখে আরবের সবধর্মের লোকেরা তাঁকে আল-আমিন বলে ডাকতেন। তাঁর সংস্পর্শে যারাই এসেছেন তারাই আলোকিত জীবনের সন্ধান পেয়েছেন। আরবের কন্যা সন্তান জন্ম নিলে যখন আরবের লোকেরা অপমান বোধ করত এবং জীবন্ত কবর দিত তখন বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) ভুলুন্ঠিত অধিকার হারা নির্যাতিত ও নিপীড়িত এবং সে যুগে পণ্য হিসেবে যে নারীকে ব্যবহার করা হত সে নারী জাতিকে যথাযথ মর্যাদার আসনে আসীন করেছেন। পৃথিবীর সকল ধর্ম, বর্ণ ও গোত্রের কাছে রাসুলের বাণী, আদর্শ ও কোরআনের বাণী পৌঁছে দিতে হবে তাঁর ভ্রাতৃত্ববোধ সম্প্রীতির আদর্শ। বর্তমান অস্থির ও বিশৃংখল বিশ্বে মহানবী (সাঃ) এর আদর্শ অনুসরণ ও চর্চা করা হলে পরিবার, সমাজ ও দেশের চলমান হানাহানি ও অস্থিরতা কাটিয়ে সুখি ও সমৃদ্ধশালী এবং শান্তিময় সমাজ গঠন করা সম্ভব হবে। বক্তারা বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর জীবনাদর্শ প্রতিটি ব্যক্তির ব্যক্তিগত জীবন, পারিবারিক জীবন, ব্যবসায়িক জীবন, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে অনুশীলন করার মাধ্যমে জীবন গড়ার আহ্বান জানান।
ঈদ-ই মিলাদুন্নবী (সাঃ) উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত রচনা, কেরাত এবং হামদ ও না’ত প্রতিযোগিতা পরিচালনা করেন কেন্দ্রের সম্মানী সম্পাদক প্রকৌশলী প্রবীর কুমার সেন। আলোচনাশেষে প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। সবশেষে দেশের সমৃদ্ধ ও কল্যাণ কামনা করে মিলাদ ও মুনাজাত পরিচালনা করেন অনুষ্ঠানের প্রধান আলোচক মাওলানা মামুনুর রশীদ নুরী।

Leave a Reply