জাইকা’র নগর উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভা

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ১১ ডিসেম্বর ২০১৭, সোমবার: বাংলাদেশ উন্নয়ন সহযোগী জাপান এর জাইকা’র অর্থায়নে সিটি গভর্নেন্স প্রকল্পের আওতায় চট্টগ্রাম নগরীতে প্রথম ব্যাচে ১৭টি প্রকল্পের অধীনে প্রায় ২০০ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ এবং দ্বিতীয় ব্যাচে ১৭টি প্রকল্পের অধীনে প্রায় ৪৪০ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ চলমান আছে। নগর উন্নয়ন সমন্বয়কল্পে জাইকার গাইড লাইনে গঠিত ঈউঈঈ কমিটির সভায় এ তথ্য জানান সভার সভাপতি সিটি মেয়র আলহাজ্ব আ জ ম নাছির উদ্দীন। তিনি বলেন, নগরীর উন্নয়নে এডিপিভুক্ত প্রকল্প ছাড়াও বিএমডিএফ এবং অন্যান্য সংস্থা সহযোগিতা করে যাচ্ছে। মেয়র বলেন, চট্টগ্রাম ওয়াসার পাইপ লাইন স্থাপন কাজের কারণে মুরাদপুর থেকে অক্সিজেন এবং ফ্লাইওভারের র‌্যাম নির্মাণ এবং ওয়াসার পাইপ লাইন স্থাপন কাজের কারণে আরকান সড়কে নাগরিক দুর্ভোগ নিরসন করতে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনকে সময় ক্ষেপন করতে হচ্ছে। ঐকান্তিক ইচ্ছা, আগ্রহ এবং আর্থিক সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও এ দুইটি সড়ক পুরোপুরি সংস্কার করা যাচ্ছে না। তিনি নাগরিক দুর্ভোগ দ্রুত নিরসনে চট্টগ্রাম ওয়াসার সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন। সভায় জনাব আ জ ম নাছির উদ্দীন মাদকের বিষয়ে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন কোন ধরণের ছাড় দেয়ার পক্ষপাতি নয় বলে সাফ জানিয়ে দেন। তিনি বলেন, মাদক নিয়ন্ত্রন বিষয়ে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে পুলিশ প্রশাসন, মাদক নিয়ন্ত্রন কর্তৃপক্ষ, নির্বাচিত কাউন্সিলর ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নানা শ্রেণী ও পেশার নাগরিকদের সাথে মতবিনিময় করে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে মাদকসেবী ও বিক্রেতাদের চিহ্নিত করার মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াধীন আছে বলে সভাকে অবহিত করেন। এ ক্ষেত্রে তিনি পরিবার ও সমাজের বন্ধন সুদৃঢ় করার উপর গুরুত্বারোপ করে সমাজের নেতৃস্থানীয় সকলকে এগিয়ে আসার আহবান জানান। সভায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষে সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার, পৌরকর আদায় এবং আয়বর্ধক প্রকল্প বাস্তবায়ন এর বিষয়ে নানা ধরণের উদ্যোগের কথা সভাকে অবহিত করেন। মেয়র আশা করেন, সমুন্নিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে নাগরিক চাহিদা পুরণ করা সম্ভব হবে। তিনি বলেন, চলমান অর্থ বছর সহ আগামী দুই অর্থ বছর মিলে নগরীর কাঁচা রাস্তা ও ব্রিক সলিং রাস্তা সমূহ কার্পেটিং রাস্তায় উন্নিত করা হবে। এ লক্ষে ৪৫৪ কোটি টাকার একটি প্রকল্প সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়েছে। তিনি আশা করেন, তার দেয়া সময়ের মধ্যে আলোকিত, পরিবেশ বান্ধব ও উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলে চট্টগ্রাম নগরীকে বাসপোযোগী উন্নত নগরী হিসেবে পরিগনিত করা সম্ভব হবে। ১১ ডিসেম্বর ২০১৭ খ্রি. সোমবার, দুপুরে সিটি কর্পোরেশনের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত নগর উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির (সিডিসিসি) সভা উপস্থাপনায় ছিলেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. মুহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান। সভায় বিগত সভার কার্যবিবরণী অনুমোদন, সিডিসিসির সকল সদস্য সংস্থার সাথে তথ্য উপাত্ত বিনিময়, কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন, উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সৃষ্ট সমস্যা ও তার সমাধান এবং আইডিপি’র অগ্রগতি সম্পর্কে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় উপস্থিত সংস্থার সমূহের প্রতিনিধিবৃন্দ নিজ নিজ সংস্থার তথ্য উপাত্ত উপস্থাপন করেন। সভায় চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী এ কে এম ফজলুল্লাহ, বিটিসিএল’র বিভাগী প্রকৌশলী সমিত চাকমা, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাইফুল হাসান চৌধুরী, নারী ঐক্য বাংলাদেশের যুগ্ম সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদৌস, কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিভিশন কো: লি. এর ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী আবদুল হালিম, অতিরিক্ত সহকারী পুলিশ কমিশনার সচিন চাকমা, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সহকারী প্রকৌশলী মো. জাহাঙ্গীর আলম, কাউন্সিলর জহর লাল হাজারী, হাসান মুরাদ বিপ্লব, নাজমুল হক ডিউক, ছালেহ আহমদ চৌধুরী, মো. সলিম উল্লাহ বাচ্চু, মো. জহুরুল আলম জসিম, এম আশরাফুল আলম, এইচ এম সোহেল, শৈবাল দাশ সুমন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আনোয়ার হোছাইন, মো. আবু ছালেহ, মাহফুজুল হক, মনিরুল হুদা, প্রধান স্থপতি এ কে এম রেজাউল করিম, উপ সচিব আশেক রসুল চৌধুরী টিপু, জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আবদুর রহিম, জাইকার প্রকৌশলী তুষার আহমেদ, সনজিত কুমার দাশ, মইনুল হোসেন আলী চৌধুরী, মো. চুন্নু হোসেন, আমিনুর রহমান, মো. ওবায়দুল রহমান, আকিব রেজা আবির, রবি মং মারমাসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

 

Leave a Reply