বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৮ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী ৪৪ মাসের বকেয়া বেতন ভাতা পাননি

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ০৬ ডিসেম্বর ২০১৭, বুধবার: বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাতজন কর্মকর্তা এবং ৫১ জন কর্মচারীসহ মোট ৫৮ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী ৪৪ মাসের বকেয়া বেতন-ভাতা পাননি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতদিনের বেতন-ভাতা না পাওয়ায় পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন এসব কর্মকর্তা-কর্মচারী।
জানা গেছে, ২০১৩ সালের জানুয়ারি মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদানের পর জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি, মার্চ ও এপ্রিল এই চার মাসের বেতন পেলেও ২০১৩ সালের মে মাস থেকে ২০১৬ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত মোট ৪৪ মাসের বেতন-ভাতা পরিশোধ করা হয়নি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মরত এসব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে। পরে ২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে আবার তাদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করা হচ্ছে।
বেতন-ভাতা বঞ্চিত এসব কর্মকর্তা-কর্মচারীর অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের ৪৪ মাসের বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধ করেনি। কেন করেনি এর সুনির্দিষ্ট কোন কারণ তাদের জানানো হয়নি। এ ব্যাপারে তারা কয়েকবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এবং বর্তমান উপাচার্য, রেজিস্ট্রারের সাথে মৌখিক এবং লিখিতভাবে আবেদন করেও কোন সদুত্তোর পাননি বলে অভিযোগ করেন তারা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মুহাম্মদ ইব্রাহীম কবীর বলেন, যেসকল কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন-ভাতা পরিশোধ করা হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) তাদের নিয়োগ সে সময় অনুমোদন করেনি। একারণে তাদের ওই সময়ের বেতন-ভাতা পরিশোধ করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের জনবল পরিস্থিতি ও বকেয়া বেতন-ভাতার উপর গঠিত কমিটির প্রতিবেদন প্রসঙ্গে গত ১৮ এপ্রিল ইউজিসির ২৭তম মাসিক সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হয় যে, দুর্নীতি দমন কমিশনের মামলা চলমান রয়েছে বিধায় এ মুহূর্তে কোন সিদ্ধান্ত প্রদানের সুযোগ নেই।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ড. আব্দুল জলীল মিয়ার সময়ে ইউজিসির অনুমোদন ছাড়াই ২০১৩ সালের জানুয়ারি মাসে ৩৩৮ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী এ্যাডহকের ভিত্তিতে নিয়োগ দেয়া হয়। পরে তাদের বেতন-ভাতা পরিশোধ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে সংকট দেখা দেয়। এই ৩৩৮ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধ করে সে সময়ের চলমান সংকট নিরসন করার জন্য ইউজিসিকর্তৃক ১০ কোটি টাকা থোক বরাদ্দ দেয়া হয়। সেই টাকা দিয়ে ২৮০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধ করা হলেও বাদ পড়ে যান এই ৫৮ জন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সেকশন অফিসার (গ্রেড-২) রফিকুল ইসলাম বলেন, একাধিকবার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের নিকট বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধের আবেদন করেও জানতে পারিনি ঠিক কি কারণে আমাদের বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধ করা হচ্ছে না। কারণ জানার জন্য গত ৩১ অক্টোবর রেজিস্ট্রার বরাবর তথ্য প্রাপ্তির আবেদন করেও এর কোন সদুত্তর পাইনি।
তিনি অভিযোগ করে আরও বলেন, একইসাথে নিয়োগপ্রাপ্ত ৩৩৮ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে ২৮০ জনকে বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধ করা হলেও ৫৮ জন কেন বঞ্চিত করা হলো বিষয়টি আমাদের কাছে স্পষ্ট নয়। তাছাড়া, ইউজিসির নির্দেশনা অনুযায়ী জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে পদায়ন করার কথা থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. নুর-উন-নবীর সময়ে জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে একাধিক ব্যক্তিকে পদায়ন করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ বলেন, এই ঘটনাটি আমার আমলের ঘটনা নয়। এ বিষয়ে আমি কিছ্ইু অবগত না। তাই বিষয়টি নিয়ে এই মুহূর্তে আমি কিছুই বলতে পারছি না।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*