ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে অংশ নেবে বিএনপি

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ০৫ ডিসেম্বর ২০১৭, মঙ্গলবার: ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে উপনির্বাচনে অংশ নেবে বিএনপি। দলটির নেতারা এ উপনির্বাচন নিয়ে নিজেদের মধ্যে শুরু করেছেন প্রাথমিক আলাপ-আলোচনা। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এ নির্বাচনকে চ্যালেঞ্জ হিসেবেই দেখছেন দলটির শীর্ষ নেতারা। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন উপনির্বাচনে মিন্টু পরিবারকে ঘিরেই প্রার্থী চূড়ান্তের চিন্তা করছে বিএনপি। দলটির প্রথম পছন্দ তাবিথ আউয়াল। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টুর ছেলে তাবিথ আউয়াল গত নির্বাচনে মেয়র পদে দলীয় প্রার্থী ছিলেন।
দলে ও সামাজিকভাবে স্বচ্ছ ইমেজ, যুবসমাজের প্রতিনিধিত্ব, ভোটারদের মধ্যে পরিচিতি, দুঃসময়ে নির্বাচনে লড়ার সাহস ও সেবার প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা বিবেচনায় তার পক্ষেই চলছে সব আলোচনা-পর্যালোচনা। সবকিছু ঠিক থাকলে উপনির্বাচনেও ধানের শীষ প্রতীক পাচ্ছেন তাবিথ আউয়াল। বিশেষ পরিস্থিতি তৈরি হলে সেক্ষেত্রে আসবে বিকল্প প্রার্থীর কথা। বিএনপির নীতিনির্ধারক ফোরাম থেকে ঢাকা মহানগর পর্যায়ের বেশ কয়েকজন দায়িত্বশীল নেতা এমন তথ্য জানিয়েছেন। তবে ডিএনসিসি উপনির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক কে পাচ্ছেন তা নিয়ে এখনই মুখ খুলতে চাইছেন না নেতারা। নির্বাচন কমিশন নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করলে দলীয় ফোরামে আলোচনার মাধ্যমেই চূড়ান্ত করা হবে প্রার্থীর নাম।
বিএনপি চেয়ারপারসন কার্যালয় সূত্র জানায়, শনিবার একটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেছেন খালেদা জিয়া। সেদিন দলের সিনিয়র নেতাদের পাশাপাশি ও বিশিষ্টজনরাও সমবেত হয়েছিলেন অনুষ্ঠানে। মোড়ক উন্মোচন শেষে দলের নেতা ও বিশিষ্টজনদের সঙ্গে নানা বিষয়ে কথা বলেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন। সেখানে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রার্থীর বিষয়টিও উঠেছিল। সেদিন এ ব্যাপারে বেশ কয়েকজনের মতামত মনোযোগ সহকারে শুনেছেন তিনি। এদিকে চীন থেকে গতকাল দেশে ফিরেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দলের শীর্ষ দুই নেতার মধ্যে প্রাথমিক আলোচনা শেষে জোট ও দলের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে বসবেন চেয়ারপারসন। তারপর চূড়ান্ত হবে প্রার্থীর নাম।
বিএনপি ও ২০দলীয় জোটের কয়েকজন সিনিয়র নেতা জানান, আনিসুল হক পরিবারের কেউ নৌকা প্রতীক পেলে তার বিপরীতে বিএনপির তাবিথ আউয়ালই হতে পারেন সবচেয়ে শক্তিশালী প্রার্থী। আওয়ামী লীগ যদি হাইপ্রোফাইল কোনো প্রার্থী দেয় তাহলেই হয়তো বিকল্প চিন্তা আসতে পারে। তবে ২০১৫ সালের নির্বাচনে তাবিথ যে সাড়া ফেলেছিল তা নিশ্চয়ই বিবেচনা রাখবেন দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। ইতিমধ্যে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে উপ-নির্বাচন যদি হয়, দল যদি সিদ্ধান্ত নেয় নির্বাচনে যাওয়ার, তাহলে তো প্রার্থী আছেই। তবে পার্টির সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।’ বিগত নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী তাবিথ আউয়াল বর্তমানে বিদেশে অবস্থান করছেন। তার ঘনিষ্ঠ কয়েকটি সূত্র জানায়, তাবিথ আউয়াল বিশ্বাস করেন অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হলে তিনিই বিজয়ী হতেন। আগামী উপনির্বাচনেও দল মনোনয়ন দিলে তিনি নির্বাচন করবেন। বিগত নির্বাচনে তার অবস্থান মূল্যায়ন করে দলীয় হাইকমান্ড তাকেই মনোনয়ন দেবেন বলে আশা তাবিথ আউয়ালের।
ডিএনসিসি উপনির্বাচনে মেয়র পদে আলোচনায় এসেছে বিএনপির কয়েকজন নেতার নামও। দলের একটি অংশ চাইছে প্রার্থী দেয়া হোক সিনিয়র নেতা মেজর (অব.) কামরুল ইসলামকে। অতীতে গুলশান থেকে উত্তরা-বাড্ডা থেকে কচুক্ষেত পর্যন্ত বিশাল নির্বাচনী আসন থেকে একাধিকবার এমপি নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে তার পরিচিতি ও গ্রহণযোগ্যতার পাশাপাশি দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে রয়েছে প্রভাব। অন্যদিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে দলের ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলুর নামও উঠে এসেছে আলোচনায়। বিএনপির একটি অংশ ঢাকা উত্তর সিটি নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে চান একজন নারী প্রার্থীকে। বিগত নির্বাচনে ঢাকা দক্ষিণ সিটি নির্বাচনে মির্জা আব্বাসের স্ত্রী আফরোজা আব্বাসের ক্যারিশম্যাটিক ভূমিকা ও জনপ্রিয়তার কথা বিবেচনায় রেখেই এ দাবিটি উঠে এসেছে। এক্ষেত্রে জিয়া পরিবারের বড় ছেলে ও বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমানের নাম আলোচিত হচ্ছে। তবে দলের একাধিক দায়িত্বশীল নেতা জানান, এ উপনির্বাচনে ডা. জোবাইদা রহমানের প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা কম। অন্যদিকে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের একজন সিনিয়র নেতা বলেছেন, উপনির্বাচনে প্রার্থী নির্ধারণ প্রক্রিয়ায় এবার ভিন্ন কৌশলের চিন্তা-ভাবনা রয়েছে দলটির। এ ক্ষেত্রে সরকারের বাইরে থাকা দলগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে জাতীয় ঐক্যের একটি প্রতিফলন দেখা যেতে পারে। সেক্ষেত্রে জোটের দলগুলোর মধ্যে বিজেপি চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ, জোটের বাইরের দলের মধ্যে আলোচনায় রয়েছে- নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না ও বিকল্পধারার যুগ্ম মহাসচিব মাহী বি. চৌধুরীর নাম।
বিএনপি স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য বলেন, ক্ষমতাসীনরা আগে প্রার্থী চূড়ান্ত করুক, এরপর আমাদের চূড়ান্ত হবে। প্রার্থী নির্ধারণে কিছু কৌশল থাকে। এই কৌশলের আগে অনেকের নামই আলোচনায় আসবে। বিএনপি স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, দলে ও সামাজিকভাবে তাবিথ আউয়ালের ইমেজ ভালো। একবার নির্বাচন করে সে ভোটারদের মধ্যে তার পরিচিতি এবং অবস্থানও তৈরি করেছেন। উপনির্বাচনে নতুন প্রার্থী এনে নতুন করে ভোটারদের মধ্যে পরিচয় করানো কঠিন। তবে এ ব্যাপারে চেয়ারপারসনের নেতৃত্বে নীতিনির্ধারক ফোরামই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ বলেছেন, আমি মনে করি- এই মুহূর্তে তার লাশ দাফনের সঙ্গে সঙ্গে নির্বাচন, কে কি করবেন; এটা আমি খুব একটা শোভন মনে করছি না। ঢাকা উত্তর সিটির নির্বাচন নিয়ে দলের পক্ষ থেকে কয়েক দিন পর জানানো হবে। সূত্র : মানবজমিন

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*