‘রাজনৈতিক সংকট এবং সহিংসতার আশঙ্কা’

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ০৩ ডিসেম্বর, ২০১৭ রবিবার: নির্বাচনের আগে আবার তৎপর সুশীল সমাজ। দির্ঘদিন বিরাজনীতিকরণের ফর্মুলা নিয়ে আবার নেমেছেন দেশের কয়েকজন সুশীল। ড. ইউনূসের নেতৃত্বে একটি অনির্বাচিত সরকারকে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার পথ খুঁজছেন তাঁরা। ড. ইউনূস মনে করেন, বাংলাদেশকে মধ্য আয়ের দেশে নিয়ে যেতে হলে অন্তত ১০ বছর নিরবচ্ছিন্ন রাজনৈতিক কোন্দল এবং দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশ দরকার। কয়েকজন সুশীল ঢাকায় নিয়মিত চা চক্র শুরু করেছেন। ড. কামাল হোসেন ছাড়াও ৫ জন আইনজীবী, দু’জন সম্পাদক, কয়েকজন সাবেক সচিব ও কূটনীতিকরা আসন্ন রাজনৈতিক আচলাবস্থায় করণীয় নিয়ে মতবিনিময় করছেন। এদের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে ড. ইউনূসের।
গত ২৭ নভেম্বর শান্তিতে নোবেল জয়ী অর্থনীতিবিদ ড. ইউনূস জাপান সায়েন্স কংগ্রেসে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। সেখানে তিনি কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ বাঙালির সঙ্গে চা চক্রে মিলিত হন। ওই চা চক্রে তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘আগামী ১০ বছর রাজনীতিমুক্ত থাকলেই কেবল বাংলাদেশ মধ্য আয়ের দেশ হতে পারে।‘ এর ঠিক দু’দিন পর গত ২৯ নভেম্বর ড. কামাল হোসেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি পুনর্ব্যাক্ত করে বক্তব্য রেখেছেন। ড. কামাল তিন মাস আগে অধ্যাপক ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরীর সঙ্গে ঐক্যের লক্ষ্যে আলোচনা শুরু করলেও পিছিয়ে যান। তাঁকে রাজনৈতিক ঐক্যে না গিয়ে সিভিল সোসাইটির ঐক্য করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে জন্যই তিনি পিছিয়ে এসেছেন বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। বেগম জিয়া দুর্নীতি মামলায় দন্ডিত হলে, বাংলাদেশে রাজনৈতিক গোলযোগ হবে, এমন পরিস্থিতিতে ‘সুশীল সরকার’ গঠনের ফর্মুলা নিয়ে এগুচ্ছে কয়েকটি পশ্চিমা দেশ।
এদের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং জাপানও রয়েছে বলে জানা গেছে। ইউরোপের কয়েকটি দেশ ইতিমধ্যেই বাংলাদেশে রাজনৈতিক সংকট এবং সহিংসতার আশঙ্কা করেছে। দেশগুলো মনে করছে, আগামী নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক না হলে, গণতন্ত্র বিপন্ন হবে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, স্পষ্ট করেই বলেছে, তাঁরা আরেকটি ২০১৪ র নির্বাচন মেনে নেবে না। একই মনোভাব দেখিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এই দেশগুলোর কূটনীতিকদের তৎপরতা হঠাৎ বেড়ে গেছে। তাঁরা নিয়মিত বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলছেন।
তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন, এরকম অন্তত দুজন বলেছেন, ‘আসন্ন রাজনৈতিক সংকট এবং করণীয় নিয়ে উন্নয়ন সহযোগীরা জানতে চেয়েছে।’ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন অর্থনীতিবিদ বলেছেন, আগামী নির্বাচন নিয়ে প্রধান দুটি রাজনৈতিক দলের সমবোঝা প্রায় অসম্ভব। এরকম পরিস্থিতিতে করণীয় কী হবে, তা নিয়ে মতবিনিময় চলছে।’ কিন্তু এরকম সুশীল সরকার গঠনে যে নেপথ্য শক্তির সমর্থন প্রয়োজন সেই সমর্থন এখনো নেই এবং তেমন সমর্থন পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। তাই ১০ বছরের রাজনীতিহীন সরকারের স্বপ্ন শুধু চায়ের কাপের ঝড় হিসেবেই থাকবে কিনা সেটাই দেখার বিষয়। বাংলা ইনসাইডার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*