বার্নিকাটেরর সতর্ক বিজিএমইএকে

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ১৯ অক্টোবর ২০১৭, বৃহস্পতিবার: বিদেশি পোশাক ক্রেতারা তাদের ক্রয়াদেশের বেলায় বাংলাদেশের আগামী জাতীয় নির্বাচনে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির আশঙ্কা বিবেচনায় নিতে পারে বলে বিজিএমইএকে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট। গতকাল বুধবার বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি সিদ্দিকুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতে এ কথা বলেন তিনি। বিজিএমইএর পক্ষ থেকে আজ সন্ধ্যায় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়। বিজিএমইএ অফিসে ওই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিজিএমইএর সহসভাপতি (অর্থ) মোহাম্মদ নাছির, পরিচালক মিরান আলী ও পরিচালক মো. মুনির হোসেন।
রানা প্লাজা দুর্ঘটনা পরবর্তীতে পোশাকশিল্পে নিরাপদ কর্মপরিবেশ সৃষ্টির অগ্রগতি সম্পর্কে সন্তোষ প্রকাশ করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, এদেশে অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্সের কার্যক্রম শেষ হয়ে গেলে একটা রূপান্তর প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগুলোর দায়িত্ব সরকারের ওপর ন্যস্ত করা হবে। তাই সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ মিলে আলোচনা করে ঐকমত্যের ভিত্তিতে এই রূপান্তর প্রক্রিয়া কীভাবে হবে, তা নির্ধরণ করা বাঞ্ছনীয়।
২০১৩ সালের এপ্রিলে রানা প্লাজা ধসের পর পোশাক কারখানার কর্মপরিবেশ উন্নয়নে পাঁচ বছরের জন্য ইউরোপীয় ক্রেতাদের জোট অ্যাকর্ড অন ফায়ার অ্যান্ড বিল্ডিং সেফটি ইন বাংলাদেশ ও উত্তর আমেরিকার ক্রেতাদের জোট অ্যালায়েন্স ফর বাংলাদেশ ওয়ার্কার সেফটি গঠিত হয়। কারখানার মালিকপক্ষ চায় সময় শেষ হওয়ার পর তারা যেন আর বাংলাদেশে কাজ না করে।
আজ বৃহস্পতিবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অ্যাকর্ড প্রতিনিধিদলের সঙ্গে আলোচনায় বসবেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। এতে বিজিএমইএর সভাপতি সিদ্দিকুর রহমানের নেতৃত্বে বিজিএমইএর একটি প্রতিনিধিদলও থাকবে বলে বিজিএমইএর পক্ষ থেকে জানানো হয়।
বুধবার মার্কিন রাষ্ট্রদূতের কাছে বিজিএমইএ নেতৃারা চলতি বছরের প্রথম থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশ থেকে যে পোশাক রপ্তানি ধারাবাহিকভাবে কমছে সেটা তুলে ধরেন। এ সময় মার্কিন রাষ্ট্রদূত পরিস্থিতি উন্নয়নে কয়েকটি বিষয়ে আরও কাজ করার পরামর্শ দেন। তিনি আবকাঠামো উন্নয়ন বিশেষ করে চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা, দক্ষতা ও নিরাপত্তা বৃদ্ধির ওপর জোর দেন।

মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, লিড টাইম মোকাবেলা করার জন্য চট্টগ্রাম বন্দরকে আরও দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে। প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও মেশিনারিজ ক্রয় করে বন্দরের আধুনিকায়ন করতে হবে।
মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, এ দেশে বিভিন্ন সময়ে জাতীয় নির্বাচনগুলো কেন্দ্র করে যে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে তা বিবেচনায় নিয়ে ক্রেতারা সংগতভাবেই আগামী জাতীয় নির্বাচনের সময় অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির আশঙ্কা করতে পারেন। সে অনুযায়ী সে সময়ের অর্ডারগুলো দিতে পারে তারা। এ সময় বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ কোনো ধরনের সন্ত্রাস পছন্দ করে না। আশা করি আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে না। সূত্র : ঢাকাটাইমস

 

Leave a Reply