ফার্মাসিস্টদের অগ্রণী ভূমিকায় ঔষধ শিল্প আজ রপ্তানী শিল্পের দ্বিতীয় বৃহত্তম খাত: ফার্মাসিস্ট এসোসিয়েশন

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ২৫ সেপ্টম্বর ২০১৭, সোমবার: আজ ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭, বিশ্ব ফার্মাসিস্ট দিবস উপলক্ষে ফার্মাসিস্ট এসোসিয়েশন চট্টগ্রাম এর উদ্যোগে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে ঔষধ নীতি ২০১৬ প্রণয়নের জন্য এবং মডেল ফার্মাসীর ধারণার সাথে বাংলাদেশের মানুষকে পরিচয় করিয়ে দেবার জন্য গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবং ঔষধ প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানানো হয় ।
সংবাদ সম্মেলনে আরো জানান, বিশ্ব ফার্মাসিস্ট দিবস ২০১৭ উপলক্ষে দেশের স্বাস্থ্যসেবায় ফার্মাসিস্টদের অবদান ও ফার্মাসিস্টদের বর্তমান অবস্থার চিত্র তুলে ধরেন। ১৯৮২ সালের ঔষধনীতির প্রণয়নের পূর্বে দেশের চাহিদার মোট ৮% ঔষধ নিজেরা উৎপাদন করলেও বাকী ৯২% ঔষধ আমদানী করে চাহিদা পূরণ করতে হত। কিন্তু ১৯৮২ সালের ঔষধনীতিতে ১৩ (ক) ধারার মাধ্যমে ঔষধ উৎপাদন, বিপণন ও মান নিয়ন্ত্রণে ফার্মাসিস্টদের তত্ত্বাবধান বাধ্যতামূলক করার পর এই চিত্র ধীরে ধীরে বদলাতে শুরু করে। যার ফলশ্র“তিতে এখন দেশের চাহিদার প্রায় ৯৭% ঔষধ নিজেরা উৎপাদন করার পাশাপাশি প্রায় ১৩৫ টির বেশি দেশে ঔষধ রপ্তানী করে আসছে। যা বাংলাদেশের সামগ্রিক রপ্তানী শিল্পের দ্বিতীয় বৃহত্তম খাত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এই মুহূর্তে বাংলাদেশে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানে সকল ক্ষেত্রে সুষ্ঠু ফার্মেসী চর্চা প্রয়োগ করা অধিক জরুরী। সুষ্ঠ ফার্মাসী চর্চা আইন না থাকলে ঔষধের অপব্যবহার বা অতিব্যবহারের ফলে ঔষধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় অঙ্গহানি ও মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে পারে। ঔষধের সঠিক ব্যবহার কার্যকারিতা ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে ফার্মাসিস্টগণ সম্যক ওয়াকিবহাল। ফলে সুষ্ঠ ফার্মাসি চর্চার বিভিন্ন দিক সম্পর্কে গ্র্যাজুয়েট ফার্মাসিস্ট তথা দক্ষ ঔষধবিদদের তত্ত্বাবধানে সকল স্বাস্থ্য সেবাদানকারীদের সমন্বয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে গণসচেতনতা তৈরি করতে হবে। তাই বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে ফার্মাসিস্টদের সরাসরি অংশ গ্রহনের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবায় সর্বোচ্চ মান উন্নয়নের লক্ষ্যে ফার্মাসিস্ট এসোসিয়েশন নিম্নোক্ত দাবীগুলো সদয় বিবেচনার জন্য পেশ করেন:১। আন্তর্জাতিক ফার্মাসিউটিক্যাল ফেডারেশন ও বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা প্রণোদিত সুষ্ঠ ফার্মাসী চর্চা আইন অবিলম্বে বাস্তবায়ন করা। ২। পদোন্নতির সুবিধা রেখে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন কর্তৃক ফার্মাসীকে “ক্যাডার বিষয়” হিসাবে ঘোষণা করা হউক। তাদের নাম হবে “ফার্মাসিউটিক্যাল অফিসার”। এরা বিভিন্ন সরকারী হাসপাতালে “হসপিটাল ফার্মাসিস্ট” হিসাবে প্রথম শ্রেণীর সরকারী কর্মকর্তা হিসাবে নিয়োগ প্রাপ্ত হবে। ৩। দেশের সকল সরকারী, বেসরকারী হাসপাতাল ও কমিউনিটি ক্লিনিকে গ্র্যাজুয়েট ফার্মাসিস্টদের তত্ত্বাবধানে হসপিটাল ফার্মেসী ও ক্লিনিক্যাল ফার্মেসী চালু করতে হবে। ৪। বিভিন্ন সরকারী প্রতিষ্ঠান যেমন ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সহ অন্যান্য সরকারী প্রতিষ্ঠানে ফার্মাসিস্টদের নিয়োগ দিতে হবে। ৫। “ড্রাগ থেরাপিউটিক কমিটি” গঠন করে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনায় গ্র্যাজুয়েট ফার্মাসিস্টদের অন্তর্ভূক্ত করতে হবে। ৬। জেলা পর্যায়ের সকল ঔষধ সংরক্ষণাগারে ফার্মাসিস্টদের তত্ত্বাবধান নিশ্চিত করতে হবে, যাতে করে ঔষধের যথাযথ সংরক্ষণ নিশ্চিত করা যায়।বাংলাদেশের স্বাস্থ্য সেবার মান উন্নয়নে স্বাস্থ্য খাতে গ্র্যাজুয়েট ফার্মাসিস্টদের সক্রিয় অংশগ্রহন নিশ্চিত করার জন্য উপরোক্ত দাবী সমূহ পূরণে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহনে কর্তৃপক্ষের সদয় দৃষ্টি কামনা করেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ফার্মাসিস্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি প্রফেসর মুহাম্মদ মহিউদ্দিন চৌধুরী, এ সময় সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন ফার্মাসিস্ট এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম চৌধুরী কায়সার, আরো উপস্থিত ছিলেন ইউ এস টি সি ফার্মেসী বিভাগের চেয়ারম্যান ডক্টর কিশোর মজুমদার,চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসী বিভাগের চেয়ারম্যান এম মোয়াজ্জেম হোসেন, ফার্মাসিস্ট এসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি সৈয়দ শাহ ইরফান, সাংগঠনিক সম্পাদক মৃনাল কান্তি দত্ত, জহির রায়হান।

 

Leave a Reply