চান্দগাঁওয়ে সন্ত্রাসী কর্তৃক প্রবাসীর জানমালের উপর চরম হুমকীর প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ২৪ সেপ্টম্বর ২০১৭, রবিবার: ২০ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে চট্টগ্রামের চান্দগাঁওয়ে মোহাম্মদ ইয়াকুব সুনিক নামের এক ব্যবসায়ীকে গুম ও খুন করার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে। এ ছাড়া অভিযুক্ত সন্ত্রাসী মহসিন ও তাঁর সহযোগীরা প্রতিনিয়ত হুমকী দিয়ে যাচ্ছে। রবিবার দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন ব্যবসায়ী মোহাম্মদ ইয়াকুব সুনিক। এ সময় তিনি আরো বলেন, ‘গত কোরবানীর ঈদের সময় মহসিন ৭/৮ জন সন্ত্রাসী নিয়ে চট্টগ্রামস্থ আমার বাসায় এসে ২০ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবী করে। চাঁদা পরিশোধ না করলে আমি ও আমার পরিবারের সদস্যদের হত্যা করে লাশ গুম করে ফেলারও হুমকি দেয় ওই সন্ত্রাসী।’ মোহাম্মদ ইয়াকুব সুনিক চট্টগ্রাম জেলার চান্দগাঁও খাজা রোড মনু কন্ট্রাক্টর বাড়ীর বাসিন্দা।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মোহাম্মদ ইয়াকুব সুনিক বলেন, তিনি ১৮ বছর বিদেশে সুনামের সাথে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। আমিরাতে বাংলাদেশ কমিউনিটিতে আমার বিশেষ অবদানও রয়েছে। আমি দুবাই বিজনেসম্যান কাউন্সিলে এক্সিকিউটিব মেম্বর হিসেবে এবং এর সুবাদে কমিউনিটির বিভিন্ন জাতীয় অনুষ্ঠানে যোগদানসহ নেতৃত্ব দিয়ে আসছি। তিনি লিখিত বক্তব্যে আরো বলেন, বৈধ চ্যানেলের মাধ্যমে উপার্জিত অর্থ দেশে প্রেরণ ও প্রেরিত রেমিটেন্স’র মাধ্যমে বাংলাদেশে বিনিয়োগসহ অর্থনীতির নানা ক্ষেত্রে অবদান রাখছি। বাংলাদেশের একজন নাগরিক হিসেবে দেশের আইন কানুনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে একজন প্রবাসী হিসেব বৈধ উপায়ে দেশে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার চেষ্টায় ব্রত আছি। এমতাবস্থায় আমার সকল উদ্যোগ স্থানীয় সন্ত্রাসী দ্বারা প্রবল প্রতিবন্ধকতায় পতিত হয়েছে এবং বর্তমানে জানমালের চরম হুমকী হয়ে দাঁড়িয়েছে। চাঁদাবাজির মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো ও দেখে নিবে বলে হুমকি দেওয়াতে আমি তাড়াতাড়ি দুবাই চলে যায়। কিন্তু সন্ত্রাসীদের তৎপরতা তারপরও থেমে থাকেনি। গত ৬ সেপ্টম্বর এর পরিপ্রেক্ষিতে দুবাইস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেটে একটি অভিযোগ দাখিল করি। পরে বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের নেতৃবৃন্দের পরামর্শে বাংলাদেশে এসে স্থানীয় প্রশাসনের কাছে গত ২০ সেপ্টম্বর চান্দগাঁও থানায় সন্ত্রাসী মহসিনের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দাখিল করতে যায়। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অভিযোগটি এস আই আবদুর রহিমকে দেখভাল করে লিপিবদ্ধ করার নির্দেশ দেন। এরপর থেকে এস আই আবদুর রহিম অভিযুক্ত মহসিনের পক্ষ অবলম্বন করে আমাকে হয়রানী শুরু করে। এস আই অভিযোগ তুলে নেয়ার জন্য চাপ দেয়। চান্দগাঁও থানার খাজা রোড বাদামতল মুন্সি বাড়ীর মৃত আবদুস সবুরের পুত্র মহসিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রত্যাহার না করলে আমাকে ভিন্ন মামলায় জড়িয়ে গ্রেফতারের হুমকী দেয়। এসব ঘটনায় বিপর্যস্ত পরিবারটি প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করে রবিবার ২৪ সেপ্টম্বর দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে তারা এ আকুতি জানান। তিনি লিখিত বক্তব্যে আরো বলেন, আমার পরিবারের ক্ষতি করার জন্য সন্ত্রাসীরা আমাদের পেছনে লেগেছে। ফলে আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছি। আমাদেরকে একের পর এক মিথ্যা মামলায় জর্জরিত করছে। মামলায় জড়ানোর হুমকী দিচ্ছে। এসব কারণে আমরা ভীত সন্ত্রস্থ হয়ে পড়েছি। সংবাদ সম্মেলনে মহসিনসহ তার সহযোগীদর গ্রেফতার করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকার এবং প্রশাসনের প্রতি দাবি জানান। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আলী আকবর চৌধুরী, জাহেদুল আরম, ওসমান গণি সিকদার, মো. হাসেম প্রবাসী, প্রকৌশলী আলা উদ্দিন সিদ্দিকী, মো. আয়ুব প্রবাসীসহ এলাকার লোকজন। নগরীর চান্দগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল বাশার বলেন, প্রবাসী এক ব্যবসায়ীর কাছে চাঁদা দাবি করেছে এমন কোন অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

Leave a Reply