রোহিঙ্গা শরণার্থী সমস্যার স্থায়ী সমাধানে চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের সংবাদ সম্মেলন

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ২৩ সেপ্টম্বর ২০১৭, শনিবার: রোহিঙ্গা মুসলমানদেরকে গণহারে হত্যা, গণধর্ষণ এবং দেশ ছাড়তে বাধ্য করে তারই ধারাবাহিকতায় নতুনভাবে ৫ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা স্মরণার্থী প্রবেশ করে এবং বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় দশ লক্ষ রোহিঙ্গা শরাণার্থী রয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন, চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার মনোয়ার হোসেন। সূচনা বক্তব্য প্রদান করেন চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের মহাসচিব মো. কামাল উদ্দিন, অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- ফোরামের ভাইস চেয়ারম্যান হাসিনা জাফর, ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ ইউনুছ, ভাইস চেয়ারমন্যান নুর আলী, ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ বেলাল উদ্দিন, ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ মুছা, যুগ্ম-মহাসচিব ডা নাহিদা খানম শীমু, যুগ্ম-মহাসচিব আকরাম হোসেন, হাজ্বী আবুল বশর, ডা. শেখ মোহাম্মদ জাহেদ, মোঃ আবুল বশর, মোঃ আলী, নূর নবী , এস এম শফিক উল্লাহ মামুন, রহিমা আক্তার ডলি, লাভলী লি, ব্যারিস্টার মনোয়ার হোসেন সংবাদ সম্মেলনের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। নাগরিক ফোরামের নেতৃবৃন্দ বলেন, রোহিঙ্গা স্মরণার্থীদের অবস্থান সরেজমিনে অবলোকন করার জন্য আমরা চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের পক্ষ থেকে ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে ২০ সেপ্টেম্বর টেকনাফ উখিয়া এলাকায় আমি ও অন্যান্য নেতৃবৃন্দ শরণার্থী ক্যাম্প ও রিলিফ সেন্টার পরিদর্শন করেছি। বিশেষ করে শরণার্থীদের জীবন যাপনের বিষয় রাতে এবং দিনে পার্থক্য কি দেখার জন্য ঐ সব এলাকায় মাঝ রাত পর্যন্ত ভিডিও ক্যামেরাসহ রিপোর্টার নিয়ে সরেজমিনে পরিদর্শন করে দেখেছি। অনির্দিষ্ট কালের জন্য শরণার্থীদের আবাসস্থান ক্যাম্পে কিংবা পাশর্^বর্তী এলাকায় হয়ে গেলে এর ফলশ্রুতিতে অত্র এলাকায় তথা বৃহত্তর চট্টগ্রামের উপর যে বিভিন্নভাবে প্রভাব পড়বে এ ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই এবং সর্বোপরি জাতীয়ভাবেই দেশের উপর প্রভাব পড়বে। এমনিতেই বৃহত্তর চট্টগ্রামের স্বাস্থ্য, শিক্ষা, যোগাযোগ ও আইন শৃংখলার সার্বিক অবস্থা উল্যেখযোগ্য ভাবে উন্নত নয়। যে কোন সময় মহামারী আকারে স্বাস্থের হুমকি সৃষ্টি হতে পারে। এর সার্বিক চাপ সামলানো সম্ভব নয়। কাজেই চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরাম সরকার ও আন্তর্জাতিক সংস্থা গুলোর কাছে নাগরিক ফোরামের প্রস্তাবনা তুলে ধরেন- ১। যথাযথ লবিং ও চাপ সৃষ্টির মাধ্যমে শরণার্থীদেরকে যথাশীঘ্র সম্ভব বার্মায় নিরাপদে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ নেয়া। ২। মায়ানমার সরকারের উপর আমেরিকা, জাপান, যুক্তরাজ্য ও জাতি সংঘের মাধ্যমে অর্থনৈতিক অবরোধ অর্পন করা। ৩। রোহিঙ্গাদের সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য জাতি সংঘের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেয়া। ৪। ভারত, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ গুলিকে এই রিফিউজিদের কিছু কিছু ভার দেওয়ার জন্য আহবান জানানো। ৫। ক্যাম্প ও ক্যাম্প সংলগ্ন এলাকায় পর্যাপ্ত পরিমান স্বাস্থ্য কেন্দ্র স্থাপন করা। ৬। পর্যাপ্ত আইনশৃংখলা বাহিনী নিয়োগ করে শরণার্থীদের ক্যাম্প ও ক্যাম্প সংলগ্ন এলাকার বাহিরে আসা নিয়ন্ত্রণ রাখা। ৭। ক্যাম্পগুলিতে শিশু-কিশোরদের জন্য শিক্ষা ও শিক্ষামূলক কর্মকান্ড ব্যাবস্থা করা। ৮। প্রত্যেক শরণার্থীদের পরিচয়পত্র জরুরী ভিত্তিতে ব্যাবস্থা করা। ৯। সেনিটেশন ও পানিয় জলের ব্যাবস্থা রাখা। ১০। শীত বস্ত্রের সুব্যবস্থা করা। ১১। সেনাবাহিনীর মাধ্যমে সকল ত্রাণ কাজের পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ করা। ১২। বর্তমান ক্যাম্পগুলিকে যথাযথভাবে ও স্বাস্থ্যকর উপায়ে পরিচালনা করা এবং বাহিরের নিয়ন্ত্রহীন বস্তি গুলোকে নতুন ক্যাম্পে আওতায় নিয়ে আসা। ১৩। শরণার্থী ও ক্যাম্প গুলির জন্য আরব, ইউরোপ, আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশের সাহায্যের জন্য সরকারের মাধ্যমে আহবান জানানো। ১৪। সব ধরণের ত্রাণ বিশেষ করে বিদেশী সাহায্য যথাযথ সমন্ত্রিত ত্রাণ তৎপরতার মাধ্যমে সুষ্ঠ বিতরণ করা।
সংবাদ সম্মেলনে সূচনা বক্তব্য প্রদান করেন চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের মহাসচিব মো. কামাল উদ্দিন, অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- ফোরামের ভাইস চেয়ারম্যান হাসিনা জাফর, ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ ইউনুছ, ভাইস চেয়ারমন্যান নুর আলী, ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ বেলাল উদ্দিন, ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ মুছা, যুগ্ম-মহাসচিব ডা. নাহিদা খানম শীমু, যুগ্ম-মহাসচিব আকরাম হোসেন, হাজ্বী আবুল বশর, ডা. শেখ মোহাম্মদ জাহেদ, মোঃ আবুল বশর, মোঃ আলী, নূর নবী , এস এম শফিক উল্লাহ মামুন, রহিমা আক্তার ডলি, লাভলী লি, সংবাদ সম্মেলনের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন নাগরিক ফোরামের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার মনোয়ার হোসেন।

 

Leave a Reply