দক্ষিণ জেলা ইসলামী ফ্রন্টের মানববন্ধন

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ২৩ সেপ্টম্বর ২০১৭, শনিবার: মিয়ানমারে নির্বিচারে রোহিঙ্গা মুসলিম গণহত্যা, নারী ধর্ষণ ও নৃশংস বর্বতার প্রতিবাদে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট চট্টগ্রাম মহানগর দক্ষিণ আজ ২৩ সেপ্টেম্বর’১৭ শনিবার দুপর ২ টায় চট্টগ্রাম লালদিঘী চত্বরে মাওলানা নুরুল ইসলাম জিহাদীর সভাপতিত্বে বিশাল মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আশরাফ হোসাইনের সঞ্চালনায় এতে প্রধান অতিথি ছিলেন- ইসলামী ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় সহ-দপ্তর সচিব ইঞ্জিনিয়ার মুহাম্মদ নুর হোসাইন। প্রধান বক্তা ছিলেন, ছাত্রসেনার কেন্দ্রীয় সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন, আনজুমানে খোদ্দামুল মুসলেমীন কুয়েত শাখার সেক্রেটারি মুহাম্মদ রহিম উদ্দীন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের কেন্দ্রীয় সদস্য মুহাম্মদ আবদুল হালিম। মহানগর ইসলামী ফ্রন্ট, যুবসেনা ও ছাত্রসেনার নেতৃবৃন্দের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মাওলানা গিয়াস উদ্দিন নেজামী, মুহাম্মদ শফিকুল আলম চৌধুরী, মুহাম্মদ ফজলুল করিম তালুকদার, মুহাম্মদ আলমগীর ইসলাম বঈদী, মুহাম্মদ জসিম উদ্দিন ছিদ্দিকী, হাফেজ নুর আলম, মুহাম্মদ রেজাউল করিম, মুহাম্মদ মাহমুদুল হক, খ ম নজরুল হুদা, নুর মুহাম্মদ সওদাগর, মাওলানা মুজিবুর রহমান, মাওলানা মুহাম্মদ জহির উদ্দিন তুহিন, মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, কে.এম. নুরুদ্দীন চৌধুরী খোকন, হাফেজ মুহাম্মদ আনছারুল হক, মাওলানা কামাল উদ্দিন, যুবনেতা মুহাম্মদ নাজিম উদ্দীন, ছাত্রসেনা নগর দক্ষিণ সভাপতি মুহাম্মদ রিয়াজ হোসাইন, সম্পাদক মুহাম্মদ ফোরকান কাদেরী, রেজাউল করিম ইয়াছিন, আব্দুল আলিম, আমির হোসেন, কোতয়ালী থানা ছাত্রসেনা সভাপতি মহিউদ্দিন কাদেরী, বন্দর থানা সভাপতি জহির উদ্দিন, জসিম উদ্দিন, ডবলমুরিং থানার আহমদ শফি প্রমুখ। মানববন্ধনে বাংলাদেশ আরাকান সলিডারিটি কাউন্সিল সেক্রেটারি অধ্যাপক মুছা কলিমুল্লাহ একাত¦তা প্রকাশ করেন।
প্রধান অতিথি বক্তব্যে ইঞ্জিনিয়ার নূর হোসাইন বলেন, অত্যাচারী সূচি সরকারকে মানবতা বিরোধী অপরাধের শাস্তির মুখোমুখি করতে হবে। আর রোহিঙ্গা সমস্যার স্থায়ী সমাধান হচ্ছে মিয়ানমারে তাদের নাগরিক অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া। এজন্য বক্তব্য-বিবৃতিতে সীমাবদ্ধ না থেকে বিশ্বনেতৃত্বকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা মুসলিমদের সহায়তা কার্যক্রম সমন্বিত হওয়া জরুরী। রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পে এখনো অনেক রোহিঙ্গা মুসলমান মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। তাদের কাছে এখনো সরকারি-বেসরকারি ত্রাণ পৌঁছেনি। তাই রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়াতে যারা ত্রাণসামগ্রী নিয়ে যাচ্ছেন তাদের ত্রাণ বিতরণে সরকারকে সহযোগিতা করতে হবে। তিনি মিয়ানমার থেকে সরকারের চাল আমদানির তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, এর ফলে তাদের বর্বরতাকে বৈধতা দেওয়া হল।
প্রধান বক্তা ফরিদুল ইসলাম বলেন, মিয়ানমারের নেত্রী অংসান সূচির বক্তব্য মিথ্যাচারে ভরপুর। বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের প্রতিবাদ ও বিশ্ব নেতৃত্বের প্রতি বৃদ্ধাংগুলি প্রদর্শনের শামিল। মিয়ানমারের এ বর্বরতা বন্ধে অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ করতে হবে এবং রোহিঙ্গাদের রাখাইনে (আরাকানে) সেইফ জোন করে বাংলাদেশ থেকে ফিরিয়ে নিতে হবে।
সভাপতি নুরুল ইসলাম জিহাদী বলেন, ‘মানুষ মানুষের জন্য’ এ কথা বাংলাদেশ সরকার আবার প্রমাণ করেছে। এ ঘনবসতিপূর্ণ বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে সরকার মানবতার অনন্য নজির স্থাপন করেছে। রোহিঙ্গারা দেশ ছেড়ে জীবন বাঁচানোর জন্য বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন, এ জন্য মানবিক কারণেই তাদেরকে বাঁচতে দিতে হবে। বাঁচার জন্য বাড়িঘর, খাবার, পোশাক, খাবার পানি, চিকিৎসাসেবা, পয়ঃনিষ্কাশনের জন্য সেনাবাহিনীর সহায়তা দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া। না হয়, বিভিন্ন ধরণের রোগের বিস্তার লাভ করতে পারে।

 

Leave a Reply