পাকিস্তান ও ইরানের সেনাপ্রধানদের কথোপথন

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ১৮ সেপ্টম্বর ২০১৭, সোমবার: ইরান এবং পাকিস্তানের সামরিক প্রধানরা মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নির্যাতিত রোহিঙ্গা মুসলমানদের বিরুদ্ধে সহিংসতা বন্ধে আরো সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেয়ার জন্য মুসলিম বিশ্বের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। রোহিঙ্গাদের মানবিক ত্রাণ বিতরণে গোটা মুসলিম বিশ্বের সকল সামরিক ও বেসামরিক সংস্থাগুলোর সম্পদ এবং স্থাপনা ব্যবহারের আহ্বানও জানান তারা।
ইরানি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ বাকেরি এবং পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল কামার জাভেদ বাজওয়া রোববার ফোনালাপের সময় এ আহ্বান জানান। রোহিঙ্গা মুসলমানদের চলমান অমানবিক পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা করেন উভয় দেশের সেনাপ্রধানরা।
রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য যেসব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে তা পর্যাপ্ত নয় বলে মন্তব্য করেন উভয়ই। রোহিঙ্গা মুসলমানদের মধ্যে দ্রুত মানবিক ত্রাণ বিতরণে গোটা মুসলমান বিশ্বের সব সামরিক ও বেসামরিক সংস্থার সম্পদ ও স্থাপনা ব্যবহারের আহ্বান জানান তারা।
এ ছাড়া, পাক-ইরান অভিন্ন সীমান্তে নিরাপত্তা বজায় রাখার ক্ষেত্রে দেশ দু’টির সেনাবাহিনীর মধ্যে সহায়তার বিষয়েও আলাপ করেন তারা।রোহিঙ্গা ইস্যুতে তুর্কি ফার্স্ট লেডির আলোড়ন সৃষ্টিকারী নতুন উদ্যোগ তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তৈয়েব এরদোগানের স্ত্রী ফার্স্ট লেডি এমিনি এরদোগান রোহিঙ্গাদের সহযোগিতায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সক্রিয় করতে বিশ্বনেতাদের স্ত্রীদের কাছে চিঠি লিখেছেন। চিঠিতে তিনি বাংলাদেশের কুতুপালং রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শনের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন এবং বিশ্বে শান্তি ফিরিয়ে আনতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
রোহিঙ্গা সঙ্কটের কথা তুলে ধরে চিঠিতে তুর্কি ফার্স্ট লেডি লিখেছেন, চলমান মানবিক সঙ্কটে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় তাদের কান বন্ধ করে রেখেছে এবং না দেখার ভান করছে, এটি খুবই লজ্জাজনক। ধর্ষণের শিকার অসংখ্য নারী, যাদের শিশু ও স্বামীদের জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে চোখের সামনে তাদের দুর্দশার কথা শোনা ছিল ভীষণ কষ্টের। আমি কখনো ওই নারী ও শিশুদের কথা ও বেপরোয়া চাহনি ভুলতে পারব না। প্রাথমিকভাবে আমরা রোহিঙ্গা শিবিরে মানবিক সহায়তা প্রদান করেছি।
চিঠিতে এমিনি এরদোগান তুরস্কের পক্ষ থেকে রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিভিন্ন সময় সহযোগিতার কথা তুলে ধরেছেন। রাখাইনে চলমান সহিংসতা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ঘোষণার লঙ্ঘন বলে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি লিখেছেন, একজন মা, নারী ও মানুষ হিসেবে আমি মনে করি আমাদের উচিত এমন একটি পৃথিবী গড়ে তোলা যেখানে কেউ জাতিগত বা ধর্মীয় বৈষম্যের শিকার হবে না। তুর্কি ফার্স্ট লেডি আশা প্রকাশ করেন, বিশ্বনেতাদের স্ত্রীরা এমন পৃথিবী গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারবেন।
উল্লেখ্য, ৭ সেপ্টেম্বর কক্সবাজারের কুতুপালং রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করেন এমিনি এরদোগান। এ সময় তার সাথে তুুর্কি রাজনীতিবিদ ও দেশটির ত্রাণ সংস্থার প্রধান সফরসঙ্গী ছিলেন। রোহিঙ্গা শিবিরে তিনি ত্রাণ বিতরণ করেন। ডেইলি সাবাহ।
রোহিঙ্গাদের নিয়ে কথা বলায় ভারতে মুসলিম নেত্রীর যা হলো

অত্যাচারে প্রাণ যাওয়া রোহিঙ্গাদের প্রার্থনা সভায় সবাইকে আমন্ত্রণ জানানোর ‘অপরাধে’ সাসপেন্ড হলেন অসম তথা উত্তর-পূর্বে বিজেপির তিন তালাকবিরোধী লড়াইয়ের নেত্রী বেনজির আরফান। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ইউনাইটেড মাইনরিটি পিপলস ফোরাম মিয়ানমারে খুন হওয়া রোহিঙ্গাদের জন্য গত শনিবার ফ্যান্সি বাজারে প্রার্থনা সভার আয়োজন করে। ভারতীয় জনতা মজদুর মোর্চার কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য বেনজির দলের ফেসবুক পেজে ওই সভায় সবাইকে যোগ দেয়ার জন্য আহ্বান জানিয়ে পোস্ট লেখেন।
তার জেরেই আসাম প্রদেশ বিজেপির সাধারণ সম্পাদক দিলীপ শইকিয়া বেনজিরকে সাসপেন্ড করে তিন দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিস দেন। বলা হয়, দলের সাথে কোনো আলোচনা না করে, দলের নীতি-আদর্শের তোয়াক্কা না করে, মিয়ানমারের ঘটনা নিয়ে অন্য সংগঠনের হয়ে কর্মসূচির কথা এ ভাবে পোস্ট করে নিময় ভেঙেছেন বেনজির।
এ নিয়ে বেনজিরের অভিযোগ, দলীয় সভাপতি রঞ্জিৎ দাসের দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারের বিরুদ্ধে মুখ খোলাতেই তার বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ হয়েছে দল। তিনি ভুল করে ওই বার্তায় ‘প্রতিবাদী অনশন’ লিখেছিলেন এবং শেষ পর্যন্ত ওই কর্মসূচিতে যোগও দেননি। কিন্তু দলের সংখ্যালঘু ফোরামের মুখ্য আহ্বায়ক রোশেনারা বেগম ওই সভায় অংশ নিলেও তাকে সাসপেন্ড করা হয়নি।
বেনজির আনন্দবাজারকে বলেন, ‘২০১২ সাল থেকে বিজেপিতে আছি। দলের খারাপ সময়ও সঙ্গ ছাড়িনি।
বিজেপির ভিত্তি না থাকলেও জনিয়াতে বিজেপির হয়ে বিধানসভা নির্বাচনে লড়ে ভালো ফল করেছি। তারপরেও যে ভাবে সামান্য ভুলে আমার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হলো- তা অন্যায়। তিন তালাকের শিকার এক মহিলার বিরুদ্ধে সভাপতির এ আক্রোশমূলক কাজের জবাব প্রধানমন্ত্রীর কাছে তার প্রতিকার চাইব আমি।’
তার প্রশ্ন, রঞ্জিৎ দাসের বিরুদ্ধে দুর্নীতির এত অভিযোগ থাকলেও কেন তাকে সরানো হচ্ছে না? রাজ্য বিজেপি ও রঞ্জিৎবাবু খোদ অবশ্য বেনজিরের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন। বেনজির জানিয়েছেন, তিনি পদত্যাগ করবেন না। দল তাকে বহিষ্কার করলেও তিনি লড়াই চালিয়ে যাবেন।

 

Leave a Reply