বিভীষিকাময় ঘটনার কথা ১০ বছরের রোহিঙ্গা শিশুর মুখে

এস এম ফয়েজ, ১৪ সেপ্টম্বর ২০১৭, বৃহস্পতিবার: উখিয়ায় শরণর্থী ক্যাম্পের পাশের পাহাড়ের গাছ তলায় বসে কাঁদছে ১০ বছরের এক রোহিঙ্গা শিশু, যার নাম আশরাফ। চুপচাপ কারো সাথে কথা বলছে না। শুধু কাঁদছে। হঠাৎ চোখ পড়লো তার দিকে। প্রথমে মনে করেছিলাম পরিবাবের সবার সাথে আশ্রয় নিয়েছে বাংলাদেশে। কিন্তু আমার সে ধারণাটা ছিল ভুল। পরে আশরাফের কাছে গিয়ে বসে জিজ্ঞাসা করলাম তুমি কান্না করছো কেন। কিছুই বলে না সে। জিজ্ঞাসা করলাম তোমার বাবা, মা, ভাই বোন কোথায়। তাও কথা বলে না। পরে আরেক রোহিঙ্গা নারীকে জিজ্ঞেস করলাম এ কি আপনার ছেলে। সে বললো না। বললাম চিনেন তাকে। মহিলাটি বললেন, জীবন বাঁচাতে আমি আমার সন্তানকে নিয়ে ছয় দিনের পথ পাড়ি দিয়ে অনেক কষ্টে বাংলাদেশে আসি। এ ছেলেটিও আমার সাথে সাথে হেটে আসে। আমি বললাম তার বাবা, মা কোথায়। বললেন জানি না। একটু কৌতুহল জাগলো জানার। তারপর ছেলেটার গায়ে হাত রেখে বললাম কি হয়েছে তোমার কাঁদছো কেন। তোমার কি ক্ষুধা লেগেছে। ছেলেটি বললো গত ছয় দিন কোন খাবার খাইনি। খুব ক্ষিধে লেগেছে। পরে তাকে বিস্কুট ও পানি দেই। খাওয়া শেষে আবারও বললাম তোমার বাবা, মা, ভাই বোন কোথায়। তখন কান্না কন্ঠে বলতে লাগলো তার জীবনের করুন ইতিহাস। শিশু আশরাফ বর্ণনা দিতে লাগলো বিভীষিকাময় ঘটনার কথা। বলেন, মিয়ানমারের সেনারা চোখের সামনে আমার মা ও বোনকে ধর্ষণ করে গলা কেটে হত্যা করে। মা আর বোনের নিথর দেহ পড়ে আছে তখন মেঝেতে। আমার বাবার হাত পা বেঁধে খুচিয়ে খুচিয়ে হত্যা করে মিয়ানমার সেনারা। আর ছোট্ট ভাইটাকে দুই টুকরো করে ফেলে এ কোপে। রক্ত এসে তখন আমার গায়ে পড়ে। এসময় আমি চিৎকার দিয়ে বাঁচাও বাঁচাও বলি, তখন সেনারা আমার মুখ চেপে ধরে। অনেক কাকুতি মিনতি করে কোন রকমে জীবন বাঁচাই। কিছুদুর আসার পর দেখি অনেক মানুষ দৌড়াচ্ছে তাদের সাথে আমি এখানে আসি। তার কথা শুনার পর নিজের চোখের পানি ধরে রাখতে পারিনি। ঘুমাতে পারেনি কয়দিন। বার বার মনে পড়েছে শিশুটির কথা। এখনও মনে পড়ে। মানুষ মানুষকে এভাবে হত্যা করতে পারে তা জানা ছিল না। ১০ বছরের শিশু আশরাফের বর্ণনায় তা জানলাম। মানুষ কতটা খারাপ হতে পারে! কতটা নরপিশাচ হতে পারে, কতটা পশু হতে? লেখক: বাংলাভিশন টিভি সংবাদকর্মী।

 

Leave a Reply