দোহাজারী হাসপাতাল চিকিৎসক সংকটে

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ১৪ সেপ্টম্বর ২০১৭, বৃহস্পতিবার: চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক সংলগ্ন দোহাজারী পৌরসভার দোহাজারী ৩১ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও চিকিৎসক সংকটের কারণে নিয়মিত ভোগান্তির শিকার হচ্ছে রোগীরা। চন্দনাইশ উপজেলাসহ আশেপাশের উপজেলা থেকে বহি: ও জরুরী বিভাগে চিকিৎসা সেবা নিতে আসে কয়েকশ রোগী। অসুস্থ রোগীদের নির্ভরশীল এই হাসপাতালটির দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও জনবল সংকটে ভুগছে।
অসহায়, গরীব, দরিদ্র, হতদরিদ্র, নিবিত্ত, মধ্যেবিত্ত এমনকি ধনী ব্যক্তিরাও চিকিৎসা সেবার জন্য ছুটে আসে এ হাসপাতালে। যথাক্রমে দোহাজারী, রায়জোয়ারা, ধোপাছড়ি, বৈলতলী, জাফরাবাদ, হাছনদন্ডী, সাতবাড়ীয়া, চাগাচর, কালিয়াইশ, ধর্মপুর, খাগরিয়া, মৈশামুড়া, রসুলাবাদ, নলুয়া, বরকল, বরমা, পূর্ব-কাটগড়, পশ্চিম-কাটগড়, বাজালিয়া, পুরানগড়, নয়াহাট ও শিলঘাটা এসব এলাকার রোগীরা চিকিৎসা সেবা নিতে আসেন।
পর্যাপ্ত সংখ্যক চিকিৎসক না থাকায় অনেককে বিনা চিকিৎসায় ফিরে গিয়ে বিভিন্ন ডায়গনষ্টিক সেন্টার, প্রাইভেট হাসপাতাল ও পল্লী চিকিৎসকদের অর্থ দিয়ে চিকিৎসা সেবা নিতে হয়। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপনার কারণে দুরাবস্থার মধ্যে পতিত হয়েছে হাসপাতালটি। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বহি:বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক আছেন মাত্র ১জন।
কিন্তু রোগীদের সংখ্যা প্রায় ১৫০ জনের মতো। তাই প্রতিদিন রোগীদের সেবা দিতে হিমশিম খেয়ে উঠতে হয় কর্তব্যরত ডাক্তারদের। যদিও, সংসদ সদস্য আলহাজ্ব নজরুল ইসলাম চৌধুরী’র সার্বিক সহযোগিতায় একটি নতুন এম্বুল্যান্স প্রদান করলেও ড্রাইভার না থাকায় তা অচল হয়ে পড়ে আছে। জরুরী অবস্থার রোগীদেরকে প্রাইভেট হাসপাতালের এম্বুল্যান্সের ও ভাড়ায়কৃত যানবাহনের সহযোগিতা নিতে হয়। দন্ত বিভাগের আধুনিক সরঞ্জাম থাকলেও চিকিৎসকের অভাবে এ বিভাগের মূল্যবান যন্ত্রপাতির অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়।
গাইনি বিশেষজ্ঞের অভাবে গর্ভবতী ও প্রসূতি মায়েরা চরম অবহেলার শিকার হয়। নানা দুর্ঘটনার শিকার হওয়া রোগীদের জন্য নেই সার্জারি বিশেষজ্ঞ। রোগ পরীক্ষাগারেও আছে জনবল সংকট। হাসপাতালে ১৭নং বেডে চিকিৎসারত রোগী দিলোয়ারা বেগম বলেন, সরকারি উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহেলার কারণে আমরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাঃ মোঃ শেখ সাদী’র সাথে কথা বলে জানা যায়, এসব বিষয়ে আমরা উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করেছি। কিন্তু কোন ধরনের পদক্ষেপ এখনো গ্রহণ করা হয়নি।
কাগজে কলমে হাসপাতালটি ১০ থেকে ৩১ শয্যাতে উন্নীত হলেও অপ্রত্যাশীতভাবে মন্ত্রালয়ের খাতায় এখনো ১০ শয্যায় রয়ে গেছে। হাসপাতাল ৩১ শয্যা বিশিষ্ট হলেও কিন্তু বরাদ্দ আসে সেই ১০ শয্যা অনুযায়ী। যার কারণে রোগীদের চিকিৎসা সামগ্রী ও স্বাস্থ্য উপকরণ রোগীদের চাহিদানুযায়ী প্রদান করতে অক্ষম। শূন্য পদ গুলো সম্পর্কে তিনি বলেন, দন্ত চিকিৎসক, কানসালটেন্ট সার্জারী ও গাইনি বিশেষজ্ঞ পদ গুলো দীর্ঘদিন ধরে শূন্যই রয়ে গেছে। তবুও রোগীদের সেবার কথা চিন্তা করে সিনিয়র চিকিৎসকে অনুরোধ করে সেবা প্রদানের জন্য আনা হয়। সিভিল সার্জান ডাঃ আজিজুর রহমান সিদ্দিকী জানান, প্রত্যেক উপজেলার হাসপাতাল গুলোতে নানা সমস্যা রয়েছে। শতভাগ চিকিৎসা সেবা কোন হাসপাাতালে দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। এসব সমস্যার সমাধানের জন্য আমি সাধ্যমত চেষ্টা করছি। উর্ধ্বতন মহলে বেশ কয়েকবার জানানো হয়েছে ।
দফায় দফায় হাসপাতালের নানা সমস্যা ও সংকটের বিষয় তুলে ধরেও কোনো সাড়া মেলেনি। আশাকরি খুব শ্রীঘই এসব সমস্যার সমাধান হবে এবং রোগীরা শতভাগ চিকিৎসা সেবা পাবে।

 

Leave a Reply