টাস্কফোর্সের সভা অনুষ্ঠিত

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ১১ সেপ্টম্বর ২০১৭, সোমবার: চট্টগ্রাম মহানগরীর প্রাকৃতিক খালসমূহ হতে অবৈধ দখলদারগণকে উচ্ছেদের জন্য উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা ও নিয়মিত মনিটরিং করার জন্য গঠিত টাস্কফোর্স এর প্রথম সভা ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৭ খ্রি. বিকেলে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আলহাজ্ব আ জ ম নাছির উদ্দীন এর বাসভবনে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন টাক্সফোর্স এর আহবায়ক সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আলহাজ্ব আ জ ম নাছির উদ্দীন। সভায় কমিটির সদস্য চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার এর প্রতিনিধি উপ-পরিচালক (স্থানীয় সরকার) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধি নির্বাহী প্রকৌ শলী মোহাম্মদ শামীম, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক এর প্রতিনিধি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক প্রতিনিধি রাজস্ব মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন, চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন পুলিশ এর প্রতিনিধি উপ পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) এস এম মোস্তাইম হোসেন বিপিএম, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স চট্টগ্রাম প্রতিনিধি জোনাল অফিসার পূর্ণচন্দ্র মুৎসুদ্দি, পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম নগরীর প্রতিনিধি পরিবেশ কর্মকর্তা খন্দরকার মো. তাহাজ্জুত আলী, কাউন্সিলর মোহাম্মদ শফিউল আলম, নাজমুল হক ডিউক, হাসান মুরাদ বিপ্লব, এ কে এম জাফরুল ইসলাম, মো. মোর্শেদ আকতার চৌধুরী, মো. হাবিবুল হক, এইচ এম সোহেল, হাজী নুরুল হক, মো. মোবারক আলী, মো. মোরশেদ আলম, মো. জহুরুল আলম জসিম, সাইয়্যেদ গোলাম হায়দার মিন্টু, মো. ইয়ছিন চৌধুরী আশু, মো. আযম, মো. হারুনুর রশিদ, মো. সাইফুদ্দিন খালেদ, এম আশরাফুল আলম, কমিটির সদস্য সচিব ড. মুহম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান, মেয়রের একান্ত সচিব মোহাম্মদ মঞ্জুরুল ইসলাম, এক্সিকিউটিভ ম্যাজিষ্ট্রেট সনজিদা শরমিন, স্পেশাল ম্যাজিষ্ট্রেট জাহানারা ফেরদৌস, ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলাম, তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আনোয়ার হোছাইন, আবু ছালেহ, কামরুল ইসলাম সহ সংশ্লিস্ট প্রকৌশলীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সভায় সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আলহাজ্ব আ জ ম নাছির উদ্দীন ৯ আগস্ট একনেকে অনুমোদিত চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর স্বউদ্যোগে অনুমোদিত ৫ হাজার ৬ শত ১৬ কোটি ৫০ লাখ টাকার প্রকল্পকে চট্টগ্রাম এর ইতিহাসে মেগা প্রকল্প বলে আখ্যায়িত করে বলেন, চট্টগ্রাম এর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিকতা থেকেই জিওবি প্রকল্পের অধীনে বিশাল এ প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সমন্বিত উদ্যোগ নেয়ার যে নির্দেশনা দিয়েছিলেন তারই আলোকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ২৮ আগস্ট ২০১৭ খ্রি. তারিখে টাক্সফোর্স গঠন করেছে। সরকার জলাবদ্ধতা নিরসনে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়,পানি সম্পদ মন্ত্রনালয়, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছে। মেয়র বলেন চট্টগ্রাম এর জলাবদ্ধতা নিরসন করতে শুধু সিডিএ নয় এর পাশাপাশি অন্যদেরও একযোগে কাজ করতে হবে। মেয়র সিডিএ’র মাধ্যমে চট্টগ্রাম এর জলাবদ্ধতা নিরসনের দায়িত্ব প্রদান করায় সিডিএকে ধন্যবাদ জানান। মেয়র বলেন, চট্টগ্রাম ওয়াসা সমীক্ষার মাধ্যমে ড্রেনেজ মাষ্টারপ্লান ও সোয়ারেজ মাস্টারপ্লান প্রণয়ন করেছে। তাদের প্লান অনুসরন করে ডিপিপি বাস্তবায়ন করা হলে সুফল পাওয়া যাবে। সভায় চট্টগ্রাম মহানগরীর প্রাকৃতিক খাল সমুহের অবৈধ দখলদার প্রসঙ্গে সচিত্র প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। প্রতিবেদনে নগরীতে ৫৭ টি খাল উল্লেখ করা হয় যার দৈর্ঘ্য ১৬৩.৫০ কি.মি. সেসকল খালগুলো কর্ণফুলি নদী এবং বঙ্গোপসাগরের সাথে সংযুক্ত রয়েছে। প্রতিবেদনে অবৈধ দখল প্রসঙ্গে প্রধান প্রধান খাল সমূহের তালিকা, ওয়াসা ড্রেনেজ মাস্টারপ্লান-২০১৬ এর সাথে তুলনামূলক তথ্য উপস্থাপন করা হয়। তাতে বলা হয় খালের দুই পাড়ে অবৈধভাবে নির্মিত ৪ তলা ভবন, ১ তলা ভবন, সেমিপাকা ঘর, টিনশেড দোতলা ঘর সহ অসংখ্য স্থাপনা বিদ্যমান রয়েছে। এসকল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ঝুকিপূর্ণ কাজের অংশ। তা সত্বেও জনস্বার্থে খাল দখলমুক্ত করে খালের দু পাশে রাস্তা নির্মাণ এবং খালের ধারন
ক্ষমতা বৃদ্ধি করা অতীব জরুরী। সভায় ওয়াসার ড্রেনেজ মাস্টারপ্লান ও সিডিএ’র প্রস্তাবিত ডিপিপি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। ওয়াসার ডিপিপি’র সাথে ওয়াসার মাস্টারপ্লানের অসংগতিগুলোও খতিয়ে দেখা হয়। সভায় কমিটির সদস্যদের নিকট আলোচ্যসূচির একটি তথ্যচিত্র হস্তান্তর করা হয়। সভায় খাল সমূহের দু পাশে বেদখলকৃত সরকারী জায়গা উদ্ধার, খাল সমুহ হতে মাটি উত্তোলন, খনন ও ভরাটকৃত খালের মাটি ও আবর্জনা অপসারন করে খাল সমুহের স্বাভাবিক প্রবাহ অব্যাহত রাখার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এছাড়াও উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার বিষয়ে আর্থিক সংশ্লিষ্টতা থাকায় তা নিরসনে সভার সভাপতিকে প্রকল্প গ্রহণ করার জন্য প্রস্তাব করা হয়।

Leave a Reply