অধিনায়কত্ব ছাড়তে মাশরাফিকে চন্ডিকা হাথুরুসিংহে

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ১০ সেপ্টম্বর ২০১৭, রবিবার: দলকে চমৎকার নেতৃত্ব দেওয়া সত্ত্বেও চলতি বছরের মার্চে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টির আগে মাশরাফিকে আচমকাই অধিনায়কত্ব ছাড়তে বলেছিলেন কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে। ব্যক্তিত্বসম্পন্ন মাশরফি রাগে ক্ষেভে টি-টোয়েন্টি দল থেকেই সরে দাঁড়ান কোচের মুখ থেকে এ কথার শোনার পর। অবশ্য মাশরাফির টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ার শেষ করার আগেই মুমিনুলের ওয়ানডে ক্যারিয়ার শেষ করে দেন কোচ। এক সময় দুই ফরম্যাটের দলেই ছিলেন মুমিনুল। কিন্তু হঠাৎই কোচ আবিষ্কার করে বসেন, নাহ, মুমিনুল ওয়ানডের উপযুক্ত নয়।
এরপর থেকে শূধু টেস্টই খেলে আসছিলেন মুমিনুল। ঘরোয়া ক্রিকেটে বহুবার ওয়ানডে উপযুক্ত ইনিংস খেললেও ৫০ ওভারের দলে আর ফেরানো হয়নি তাকে। টেস্ট গড়ে মুমিনুলের দেশের যে কোনো ব্যাটসম্যানের অনেক উপরে। দেশসেরা টেস্ট ব্যাটসম্যানই বলা হয় মুমিনুলকে।
মাত্র দুই ম্যাচে রান না করায় শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে শেষ টেস্টে তাকে বাদ দিয়ে প্রচণ্ড সমালোচিত হন কোচ। এরপর আরেক কাণ্ড ঘটান অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষ ঢাকা টেস্টের ১৪ সদস্যের দলে না রেখে। প্রচণ্ড সমালোচনার মুখে এবং বোর্ড সভাপতির হস্তক্ষেপে পরে তাকে দলে নেওয়া হলেও তাকে একাদশে না রেখে আরেকবার সমালোচনার মুখে পড়েন হাথুরুসিংহে।
চট্টগ্রাম টেস্টের একাদশে নেওয়া হলেও দ্বিতীয় ইনিংসে রহস্যজনকভাবে আটে ব্যাট করতে পাঠানা হয় মুমিনুলকে। অধিনায়কের ইচ্ছাতে নয়, এটা যে কোচের ইচ্ছাতেই হয়েছে সেটা কারো অজানা নয়।
প্রশ্ন উঠেছে, কেন মুমিনুলের মতো টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানকে আট নম্বরে ব্যাট করতে পাঠালো হলো! ডান বামের যে কম্বিনেশনের কথা বলা হয়েছে, সেটা মেনে নেওয়ার মতো নয়। অনেকে, এটাকে মুমিনুলের উপর মানসিক চাপ বাড়ানোর কোচের বিশেষ কৌশল হিসেবে দেখছেন। মুমিনুল অবিচারের শিকার হলেও সৌম্য ও ইমরুল কোচের কাছ থেকে পাচ্ছেন বিশেষ আনুকূল্য। আর সেই আনুকূল্যে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরেও নাকি থাকছেন টেস্টে ব্যর্থ ও দুই ব্যাটসম্যান।
জানা গেছে, মুশফিকের সঙ্গেও কোচের সম্পর্ক ভিভরে ভিতরে খারাপ। কোচের কারণেই দুজনের এ শীতল সম্পর্ক। মুমিনুলের পর এবার মুশফিকেরও পিছনে লেগেছেন কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে। অবশ্য কোচের অতিরিক্ত খবরদারিতে কখনও স্বাধীনভাবে অধিনায়কত্ব করতে পারেননি মুশফিক। অধিনায়ক টিম ম্যানেজমেন্টের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলেও দল নির্বাচন বা একাদশ ঠিক করতে কোচের মতামতই সব।মুশফিককে এসব বিষয়ে পাত্তাই দেন না কোচ।
শুধু তাই নয়, বোলিং পরিবর্তন, মানে কখন কাকে দিয়ে বলা করতে হবে এবং এমনকি ফিল্ড পশিজনও নাকি কোচের ডিরেকশন মতো করতে হয় মুশফিককে। উইকেট কিপিং সবময়ই খুব পছন্দ মুশফিকের। কিন্তু যতদূর জানা গেছে, তাতে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে মুশফিকের কাছ থেকে কিপিং কেড়ে নিতে চাচ্ছেন কোচ। মুশফিককে খেলাতে চাচ্ছেন স্পেশালিস্ট ব্যাটসমান হিসেবে। যেটা মুশফিকের অপছন্দ। ব্যাটিংয়ের সঙ্গে কিপিংও সমান উপভোগ করেন, এটা বারবারই বলে আসছেন মুশফিক।
অথচ অস্ট্রেলিয়া সিরিজে বেশ ভালো কিপিং করেছেন তিনি। মনে রাখার মতো ক্যাচও ধরেছেন মুশফিক। মুশফিক কিপিং ছেড়ে শুধু ব্যাটসম্যান হিসেবে খেললেও দলেরই ক্ষতি। মুশফিক কিপিং না করলে সেক্ষেত্রে উইকেটের পিছনে হয়তো দেখা যাবে লিটন কুমার দাসকে। ব্যাটিংয়ে যিনি বরাবরই ব্যর্থ।
মুশফিক কিপিং করলে অতিরিক্ত একজন ব্যাটসম্যান একাদশে থাকতে পারেন। সেক্ষেত্রে দলের ব্যাটিং শক্তি বৃদ্ধি পায়। যেটা দলেরই লাভ। কিন্তু যতদূর জানা গেছে তাতে, দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে মুশফিককে দিয়ে কিপিং করাতে চাচ্ছে না কোচ। কিছু কারণে নাকি মুশফিকের উপর বেশ বিরক্ত কোচ। মুশফিকও খুশি নন কোচের উপর। যেটার বহি:প্রকাশ ঘটিয়েছেন চট্টগ্রাম টেস্ট শেষে সংবাদ সম্মেলনে। যেখানে টিম ম্যানেজমেন্টে নিজের অসহত্বের প্রকাশ ঘটিয়েছেন মুশফিক।

 

Leave a Reply