পাওনা আর অধিকার নিয়ে কথা বললেই ভারতবিরোধী: ফখরুল

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ২৬ এপ্রিল ২০১৭, বুধবার: বিএনপি কখনোই ভারত এবং দেশটির জনগণের বিরোধী নয় মন্তব্য করে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রশ্ন তুলেছেন, পাওনা আর অধিকার নিয়ে কথা বললে কেউ ভারতবিরোধী হয়ে যায় কি না। বুধবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে মুক্তিযুদ্ধ ও জিয়াউর রহমান গবেষণা পরিষদ আয়োজিত ‘জিয়াউর রহমান বীর উত্তম’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন ও ওয়েবসাইটের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরের প্রসঙ্গ তুলে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ভারত সফর থেকে তিনি খালি হাতে ফিরেছেন। সব দিয়ে এসেছেন। এ সরকার জনগণের স্বার্থ রক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে।’ বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘আমরা খুব খারাপ অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। দুঃসহ অবস্থার সৃষ্টি করে সরকার দেশের অস্তিত্ব বিপন্ন করে ফেলেছে।’
হাওরের বন্যা পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে ফখরুল বলেন, হাওরের পানি উজান থেকে আসছে। ভারত বাঁধ দিয়ে রাখে। বেশি পানি হলে বাঁধ ছেড়ে দেয়। তখন বাংলাদেশের অনেক অঞ্চল ডুবে যায়।’ পানির ন্যায্য হিস্যা আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী বণ্টনের দাবি জানান তিনি। ফখরুল বলেন, ‘আমার পাওনা কোথায়? পাওনার কথা বললেই ভারতবিরোধী হয়ে গেলাম?’ তিস্তার ন্যায্য হিস্যার দাবিতে প্রয়োজনে জাতিসংঘে যেতে সরকারকে পরামর্শ দেন মির্জা ফখরুল।
যাকে ঘিরে অনুষ্ঠানের আয়োজন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানকে একজন ক্ষণজন্মা পুরুষ দাবি করে ফখরুল বলেন,‘দুর্ভাগ্য তাকে বেশিদিন ধরে রাখতে পারিনি আমরা। তিনি রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন না, কিন্তু জাতির প্রয়োজনে সময়ের প্রয়োজনে বড় ভূমিকা পালন করেছেন্। জাতিকে যুদ্ধের আহ্বান জানিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে নামিয়েছেন, আমরা একটা স্বাধীন দেশ পেলাম।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আওয়ামী লীগ যত কথাই বলুক, সত্যকে অস্বীকার করার সুযোগ নেই। দেশের মানুষ শুনেছে, যারা যুদ্ধ করেছে আর যারা করেনি তারাও শুনেছে, জিয়াউর রহমান প্রথম মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণা দিয়েছেন।’
জিয়াউর রহমানকে হত্যার কারণ কী ছিল- এমন প্রশ্ন রেখে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘কারণ জিয়াউর রহমান জাতীয়তাবাদী নেতা হিসেবে খুবই অল্প সময়ে গোটা জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন। উন্নয়নের দিকে অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে কৃষি, শিল্প, সংস্কৃতি- সব ক্ষেত্রে তিনি হাত দেন। এখনো দেখবেন সব জায়গায় তার অস্তিত্ব আছে।’
সংগঠনের সভাপতি মাহতাব উদ্দিন জিমির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, শওকত মাহমুদ, সৈয়দ মোহাম্মদ ইবরাহীম, হাবিবুর রশীদ হাবিব, কবি আব্দুল হাই শিকদার প্রমুখ। অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন জামিল হুসাইন মোরসালিন ও জোবায়ের হোসেন।

Leave a Reply