জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান দিবস পালিত

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ২৬ এপ্রিল ২০১৭, বুধবার: বিভিন্ন অনুষ্ঠানে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার বক্তব্যের প্রতি ইঙ্গিত করে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, কোনো দেশের প্রধান বিচারপতি প্রকাশ্যে এত কথা বলেন না। আইনমন্ত্রী বলেন, ‘যদি প্রধান বিচারপতির কোনো কষ্ট থাকে, তাহলে তা তিনি আমাদের কাছে বলতে পারেন। আমরা তার কষ্ট শোধ করার চেষ্টা করব।’ বুধবার নিজ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন মন্ত্রী।
সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, ‘গতকাল (মঙ্গলবার) প্রধান বিচারপতি বলেছেন, প্রশাসন বিচার বিভাগকে স্বাধীন হতে দিতে চায় না। বিচার বিভাগের সঙ্গে নির্বাহী বিভাগের আসলে সংকটটা কোথায়?’
জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘এই কথাটা যে উনি বলেছেন, এটার কারণ দিয়ে যদি বলতেন, তাহলে আমার মনে হয়, অনেক সুবিধা হতো।’ এ সময় মন্ত্রী বিচারকদের বেতন-ভাতা বাড়ানোর পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বেতন বাড়ানোসহ আনুষঙ্গিক সুবিধাদি যা একজন বিচারপতির মর্যাদা রক্ষার জন্য দরকার, সেটা দেয়া হয়েছে।’
আনিসুল হক বলেন,  ‘বিমাতাসুলভ আচরণের যে কথাটা এসেছে, সেটা যদি এই সরকারের আচরণের মধ্যে থাকত, তাহলে প্রধানমন্ত্রী এসব জিনিস বিচারপতিদের জন্য করতেন না।’ বিচারক ও বিচারপতিরা যাতে স্বাধীনভাবে বিচার করতে পারেন, সে জন্য  প্রত্যেক ক্ষেত্রে এই অবকাঠামোগুলো করা হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। মন্ত্রী বলেন, ‘তাহলে কেউ যদি বলে এই সরকার বিচার বিভাগের সঙ্গে বিমাতাসুলভ আচরণ করে, সেটা অত্যন্ত দুঃখজনক।’
মঙ্গলবার হবিগঞ্জে এক অনুষ্ঠানে প্রধান বিচারপতি অভিযোগ করেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতার বিষয়ে বর্তমান সরকারসহ দেশের প্রতিটি সরকার বিচার বিভাগের প্রতি বিমাতাসুলভ আচরণ করেছে। প্রধান বিচারপতির এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধান বিচারপতির প্রতি অত্যন্ত শ্রদ্ধাশীল হয়ে বলব, উন্নয়নশীল ও উন্নত দেশ এমনকি প্রতিবেশী দেশেও বিচারকাজ ছাড়া প্রধান বিচারপতিরা এত উষ্মা, এত কথা পাবলিকলি বলেন না।’
আনিসুল হক বলেন, ‘নিশ্চয়ই উনি প্রয়োজনে বলেন, আমি এটা অস্বীকার করি না। কিন্তু উনি এসব কথা, ওনার যদি কোনো দুঃখকষ্ট থেকে থাকে, তা উনি পাবলিকলি না বলে আমাদের জানান, তাহলে আমরা হয়তো সেগুলো সুরাহা করার চেষ্টা করতে পারি।’
বর্তমান সরকারের মধ্যে বিমাতাসুলভ আচরণ দেখছেন দাবি করে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আমি তো কোনো দ্বন্দ্ব দেখি না। আমাদের আচরণে কোনো সৎমাসুলভ ব্যবহার দেখি না। আমি অত্যন্ত পরিষ্কারভাবে বলে দিতে চাই, এই সরকার শেখ হাসিনার সরকার, বিচারকাজে কখনাই হস্তক্ষেপ করে না, কখনোই হস্তক্ষেপ করবে না। বিচার বিভাগ স্বাধীন।’ প্রধান বিচারপতির অভিযোগ নির্বাহী বিভাগের সঙ্গে বিচার বিভাগের দূরত্বের ইঙ্গিত দেয় কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘আমি কোনো দূরত্ব দেখি না।’ তিনি আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সবকিছু নিরসনের জন্য আহ্বান জানান প্রধান বিচারপতির প্রতি। সংবাদ সম্মেলনে আইনসচিব আবু সালেহ শেখ মো. জহিরুল হকও উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply