প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির ২ দিনের কর্মসূচি

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ২৫ এপ্রিল ২০১৭, মঙ্গলবার: পদোন্নতি ও বেতন বৈষম্য দূরীকরণের দাবিতে বাংলাদেশে প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি দুই দিনের কর্মসূচি ঘোষণ্ াকরেছে। আগামী ২ মে সারাদেশের উপজেলায় মানববন্ধন ও ৪ মে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে স্মারকলিপি পেশ করা হবে বলে জানানো হয় সংগঠনটির পক্ষ থেকে।
মঙ্গলবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির ছোট মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন থেকে এ তথ্য জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আবুল কাসেম।
আবুল কাসেম বলেন, অবিলম্বে সহকারী শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষকদের শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতি প্রদান করতে হবে। ২০০৯ সাল থেকে আট বছর ধরে সহকারী শিক্ষকদের প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি বন্ধ রয়েছে। সহকারী উপজলা শিক্ষা অফিসার পদে নিয়োগ বন্ধ করে প্রধান শিক্ষক থেকে সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার পদে পদোন্নতি পুনরায় চালু করতে হবে।
শিক্ষক নেতা বলেন, আগামী ১ মের মধ্যে আমাদের দাবি বাস্তবায়ন না হলে ২ মে বেলা ১১টায় সব উপজেলায় মানববন্ধন করা হবে এবং ৪ মে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে স্মারকলিপি দেয়া হবে।
সব বিভেদ ভুলে প্রাথমিক শিক্ষকদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে এ শিক্ষক নেতা বলেন, আমাদের এই দুই দফা দাবি শিক্ষক সমাজের প্রাণের দাবি। সব রেষারেষি ও অপপ্রচার পেছনে ফেলে শিক্ষকদের কল্যাণে বৃহত্তর স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানা তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, সংগঠনের সভাপতি আতিকুর রহমান, প্রধান উপদেষ্টা আবুল বাসার, সিনিয়র সহ-সভাপতি ইসমাইল হোসেন, প্রকাশনা  সম্পাদক সাহিদা বেগম প্রমুখ।
বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির আন্দোলন কর্মসূচি
ছয় হাজার বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ ও সেখানে কর্মরত প্রায় ২৪ হাজার শিক্ষকদের চাকরি সরকারিকরণের লক্ষে ২০১৭-১৮ সালের জাতীয় বাজেটে অর্থ বরাদ্দের দাবিতে আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি বাংলাদেশ। মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে সংগঠনটি আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন থেকে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের প্রধান সমন্বয়কারী মোহাম্মাদ শামসুল আলম। তিনি বলেন, ‘১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার এক ঘোষণায় প্রায় ৩৭ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ ও কর্মরত শিক্ষকদের সরকারিকরণ করেন। এরপরে প্রায় ৪০ বছর অতিবাহিত হওয়ার পরে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৯ জানুয়ারি ২০১৩ তার এক ঘোষণায় ২৬ হাজার ১৯৩টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যায় জাতীয়করণ ও কর্মরত শিক্ষকদের সরকারিকরণ করেন।
শিক্ষক নেতা বলেন, প্রধানমন্ত্রী ঘোষণার পরেও বর্তমানে চলমান, স্থাপিত-আবেদিত অনুমতিপ্রাপ্ত, ২৪ মে ২০১২ এর পূর্বে দলিলকৃত, ২০১২ সালের প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী উপজেলা ও জেলা যাচাই-বাছাই কমিটি কর্তৃক সুপারিশকৃত প্রেরিত ও অপেক্ষমাণ প্রায় ছয় হাজার  প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কর্মরত শিক্ষক শিক্ষিকরা প্রাথমিক শিক্ষার সফল বাস্তবায়নে কর্মরত আছেন।
এসময় তিনি দাবি আদায়ের লক্ষে বেশ কয়েকটি আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করে সেগুলো হলো- আগামী ৩ মে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জমায়েত হয়ে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত, ১৫ মে ২০১৭ সোমবার থেকে ২৫  মে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ৬৪টি জেলায় পর্যায়ক্রমে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান এবং ১০ জুলাই সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে গোলটেবিল বৈঠক।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, সমন্বয়কারী মৃগেন্দ মোহন সাহা, এস এম আব্দুল মান্নান সিদ্দিকী, আতাউর রহমান, হাফিজুর রহমান, রফিক আহমেদ, আতাউর রহমান, আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ।

Leave a Reply