দেশীয় শিল্পকে সংরক্ষণ, উৎপাদনমূখী ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি বাজেটের মূল লক্ষ্য: এনবিআর চেয়ারম্যান

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ২৩ এপ্রিল ২০১৭, রবিবার: আসন্ন ২০১৭-১৮ অর্থ বছরের জাতীয় বাজেটের প্রাক্কালে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সচিব ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মোঃ নজিবুর রহমান দি চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রি’র সদস্য ও অত্র অঞ্চলের ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের সাথে ২৩ এপ্রিল সকালে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারস্থ বঙ্গবন্ধু কনফারেন্স হলে এক মতবিনিময় সভায় মিলিত হন। বক্তব্যে চেয়ারম্যান বলেন-চিটাগাং চেম্বার কর্তৃক নির্মিত বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্র বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ইতিবাচক অবদান রাখছে। চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীদের বাজেট প্রস্তাব অত্যন্ত উন্নতমানের উল্লেখ করে চেম্বারের সাথে মতবিনিময়ের মাধ্যমে এ অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্যে গতিশীলতা অক্ষুন্ন রাখার ধারণা স্পষ্ট হয়েছে বলে মোঃ নজিবুর রহমান মন্তব্য করেন। তিনি বলেন-দেশীয় শিল্পকে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা, রপ্তানিতে প্রণোদনা অব্যাহত রাখা, জনগণের কর্মসংস্থান সৃষ্টির পদক্ষেপ গ্রহণ, বিনিয়োগ ও উৎপাদনমূখী বাজেট প্রণয়ন করা হবে এবং সাধারণ মানুষের জীবন স্পর্শকারী পণ্য কর অব্যাহতি পাবে। আগামী ১লা জুলাই থেকে ভ্যাট ও এসডি আইন বাস্তবায়ন অনলাইন ভিত্তিতে কার্যকর হবে উল্লেখ করে তা ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব হবে বলে প্রত্যাশা করেন এনবিআর চেয়ারম্যান। 
সভায় সূচনা বক্তব্যে চিটাগাং চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম ব্যক্তিগত বর্তমান করমুক্ত আয়ের সীমা ২ লক্ষ ৫০ হাজার থেকে ৪ লক্ষ, মহিলা এবং ৬৫ বছরের উর্ধ্বে ৩ লক্ষ থেকে ৫ লক্ষ এবং প্রতিবন্ধীদের ক্ষেত্রে ৩ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকার পরিবর্তে ৪ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা, পাবলিকলি ট্রেডেট কোম্পানীর কর হার ২৫% এর পরিবর্তে ২০% এবং প্রাইভেট লিঃ কোম্পানীর কর হার ৩৫% এর পরিবর্তে ৩০% নির্ধারণের প্রস্তাব করেন। তিনি রেফ্রিজারেটর এস্যাম্বলিং ইন্ডাষ্ট্রি আমদানিকৃত উপকরণের শুল্ক যৌক্তিকভাবে হ্রাস করা, উৎপাদনমূখী শিল্পে উন্নীত হওয়ার লক্ষ্যে বিনিয়োগবান্ধব এস.আর.ও প্রণয়ন, চট্টগ্রামে গ্লোবাল ডিস্ট্রিবিউশন সেন্টার স্থাপনের আহবান জানান। চেম্বার সভাপতি নতুন ভ্যাট আইনে কর হার ৭-১০% নির্ধারণ, প্রয়োজনীয় অনলাইন ইনফ্রাস্ট্রাকচার নিশ্চিত করা, ক্ষুদ ও কুটির শিল্পের অব্যাহতি ৫০ লক্ষ টাকা, টার্নওভার কর নিবন্ধন সীমা ৮০ লক্ষ টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ১ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা নির্ধারন করা, মূল্য সংযোজনের হার ২০% এর পরিবর্তে ১৫% ধরে এর করের হার ৩% এর পরিবর্তে ২% করার সুপারিশ করেন। তিনি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য প্যাকেজ ভ্যাট বিবেচনার অনুরোধ জানান।
বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দ্রুত গতিতে বে-টার্মিনাল বাস্তবায়ন, লালদিয়ার চরে খালি কন্টেইনার ইয়ার্ড তৈরী করা, গ্যান্ট্রি ক্র্যানের বিকল্প হিসেবে মোবাইল হার্বার ক্র্যান সংগ্রহ করা, বন্দরে স্ক্যানার সংখ্যা বৃদ্ধি করা, ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং কনভেয়র বেল্ট স্থাপনের পরামর্শ দেন। এছাড়া বারিক বিল্ডিং হতে বিমান বন্দর পর্যন্ত ফ্লাইওভার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নির্মাণ, কর্ণফুলী ব্রীজ থেকে মেরিন ড্রাইভ বারিক বিল্ডিং পর্যন্ত সম্প্রসারণ, চাকতাই-খাতুনগঞ্জ পাইকারী বাজারকে জোয়ারের পানি থেকে রক্ষা করতে কর্ণফুলী নদীর সাথে সংযুক্ত খালসমূহ সংস্কার, কালভার্ট নির্মাণ, স্লুইচ গেইট নির্মাণে আগামী বাজেটে বিশেষ বরাদ্দের দাবী জানান।
সমাপনী বক্তব্যে চেম্বার সিনিয়র সহ-সভাপতি মোঃ নুরুন নেওয়াজ সেলিম বলেন- শিল্পায়ন ও ব্যবসাবান্ধব বাজেট ও রাজস্ব নীতি ব্যাপক কর্মসংস্থান দেশের রাজস্ব আয়, প্রবৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি নিশ্চিত করে। তাই বিনিয়োগ ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশের উন্নয়নের মাধ্যমে অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের গতিধারাকে আরো বেগবান করতে হবে। তিনি আগামী বাজেটে শুল্ক, আয়কর ও মূল্য সংযোজন কর সংক্রান্ত ব্যবসায়ী সমাজের প্রস্তাবনার প্রতিফলন ঘটবে বলে প্রত্যাশা করেন।
সভায় আরো বক্তব্য রাখেন রাজস্ব বোর্ডের সদস্য ব্যারিস্টার জাহাঙ্গীর হোসেন, চেম্বার পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ ও এম. এ. মোতালেব, প্রাক্তন সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আলী আহমেদ, রাউজান উপজেলা চেয়ারম্যান এহসানুল হায়দার চৌধুরী (বাবুল), কর আইনজীবী সমিতির সভাপতি মোঃ মাহফুজুল হক মনি, বিজিএমইএ’র পরিচালক কাজী মাহবুব উদ্দিন জুয়েল, বিকেএমই’র সাবেক পরিচালক শওকত ওসমান, ওম্যান চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রি’র সিনিয়র সহ-সভাপতি আবিদা মোস্তফা, আইসিএবি’র প্রাক্তন সভাপতি শওকত হোসেন, বাংলাদেশ আয়রণ এন্ড স্টীল মিল এসোসিয়েশন’র সভাপতি আনামুল হক ইকবাল, দোকান মালিক সমিতি ফেডারেশন’র সালামত আলী, বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি সালেহ আহমেদ সুলেমান, মটর পার্টস এন্ড টায়ার টিউব মার্চেন্ট এসোসিয়েশন’র আবু তাহের, চিটাগাং মেট্রোপলিটন শপ ওনার্স এসোসিয়েশন’র সভাপতি আবুল কাশেম, বিএসআরএম’র ইমতিয়াজ উদ্দিন চৌধুরী, চিটাগাং আবাসিক হোটেল মালিক এসোসিয়েশন’র সভাপতি হাবিবুর রহমান, ফার্নিচার এসোসিয়েশন’র সহ-সভাপতি মাকসুদুর রহমান, ফ্রেশ ফ্রুটস এক্সপোর্টার্স এসোসিয়েশন’র মাহবুব রানা ।
এ সময় চেম্বার পরিচালকবৃন্দ মাজহারুল ইসলাম চৌধুরী, এ. কে. এম. আক্তার হোসেন, কামাল মোস্তফা চৌধুরী, জহিরুল ইসলাম চৌধুরী (আলমগীর), মোঃ অহীদ সিরাজ চৌধুরী (স্বপন), মোঃ জহুরুল আলম, মোহাম্মদ হাবিবুল হক, হাবিব মহিউদ্দিন, অঞ্জন শেখর দাশ, মোঃ জাহেদুল হক, মোঃ আরিফ ইফতেখারসহ প্রাক্তন পরিচালকবৃন্দ, রাজস্ব বোর্ডের সদস্যবৃন্দ পারভেজ ইকবাল ও জনাব মোঃ লুৎফর রহমান, উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, চট্টগ্রামস্থ কর ও শুল্ক কমিশনারবর্গ এবং বিভিন্ন খাতের ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply