উন্নয়ন কাজ করতে গিয়ে জনভোগান্তি: সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ২৩ এপ্রিল ২০১৭, রবিবার: রাজধানীর মগবাজার ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন উড়ালসড়ক নির্মাণে ধীরগতি এবং ভোগান্তি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, উন্নয়ন কাজ করতে গিয়ে জনভোগান্তি তৈরি হচ্ছে। এটা মেনে নেয়া যায় না। অন্যদিকে নগরীতে ফ্লাইওভার নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন। রবিবার দুপুরে রাজধানীর নগরভবনে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের পরিচালনা পরিষদের নবম সভায় এসব কথা উঠে আসে।
রাজউক এর উদ্যোগে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বে ফকিরাপুল-নাইটিংগেল মোড় হয়ে বাবুবাজার ব্রিজ পর্যন্ত ফ্লাইওভার করার অনুমোদন নিয়ে আলোচনা হয় এই সভায়। এ সময় সড়ক মন্ত্রী ঢাকায় উড়াল সড়ক নির্মাণে ধীরগতিতে জন অসন্তোষের আশঙ্কার কথা প্রকাশ করেন ওই সভায়। আগামী জাতীয় নির্বাচনে এই অসন্তোষের প্রভাব পড়ে কি না সে নিয়েও দুশ্চিন্তায় তিনি।
রাজধানীতে গত তিন বছরেরও বেশি সময় চলছে মগবাজার ফ্লাইওভারের নির্মাণ কাজ। এ নিয়ে মৌচাক, মগবাজার, বাংলামোটর, মালিবাগ, শান্তিনগর শাহজাহানপুরসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় জনভোগান্তি চরমে উঠেছে। বিশেষ করে বৃষ্টিতে ওই চরম হয়রানিতে পড়ে এলাকাবাসী।
এর আগে একইভাবে মানুষ ভুগেছে গুলিস্তান-যাত্রাবাড়ী এবং খিলগাঁও ফ্লাইওভার নির্মাণের সময়। ঢাকার পাশাপাশি চট্টগ্রাম এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বিভিন্ন ফ্লাইওভার নির্মাণ কাজেও ধীরগতিতে ভোগান্তির কারণে জনঅসন্তোষ তৈরি হয়েছে। এসবই উঠে আসে এই আলোচনায়।
সভার শুরুতেই ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমাদের ফ্লাইওভারের অভিজ্ঞতা সুখকর নয়। জনদুর্ভোগ শুরু হয়ে যায়। আর সামনে নির্বাচন। কাজেই এখন সিদ্ধান্ত নিতে হবে ভেবেচিন্তে।’
সড়ক মন্ত্রী বলেন, ‘ফেনীতে চার লেনের ফ্লাইওভার হচ্ছে, দুর্ভোগ নেই। সেনাবাহিনী কাজ করলে ট্রাফিকটা নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারে। কিন্তু মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারে দুর্ভোগ হয়েছে। চট্টগ্রাম শহরের উপর ফ্লাইওভার বানাতে গিয়ে দুর্ভোগ তৈরি করা হয়েছে। বিশেষ করে মৌচাক ফ্লাইওভারে কী হচ্ছে?’ তিনি বলেন, ‘সামনের সময়টা আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। জনদুর্ভোগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে এটি করার দরকার নেই। আপনারা কীভাবে করবেন, তা দেখবেন।’
সভায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাইদ খোকনও ফ্লাইওভার নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েই বিরূপ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘শহরের ভেতর ফ্লাইওভার করার কোন উদাহরণ নেই অন্য দেশে। যানজট নিয়ন্ত্রণে এসব করতে গিয়ে আমরা চনভোগান্তি বাড়াচ্ছি। আর জন ভোগান্তি বাড়লে আমরা ভাল কাজ করলেও লাভ হবে না।’
সভা শেষে ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেন, ‘কদমতলী ইন্টার সেকশন থেকে দক্ষিণে কাবুবাজার ব্রিজ হয়ে চুনকুটিয়া ইন্টারসেকশন পর্যন্ত রাজউকের ফ্লাইওভার হবে।’
মন্ত্রী বলেন, ‘উন্নয়নের যন্ত্রণা যেন না হয়, জনদুর্বোগ সহনীয় পর্যায়ে রাখতে, এফিসিয়েন্ট ট্রাফিক ব্যবস্থা রাখতে হবে। এ জন্য সবোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
ফ্লাইওভার নির্মাণের সময় জনদুর্ভোগের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের অভিজ্ঞতা ভাল নয়। অন্য ফ্লাইওভারের কারণে জনগণ সাফার করেছে, এখনো করছে। নতুন ফ্লাইওভার নির্মাণের সময় এটা যেন না হয় সে বিষয়ে কথা হয়েছে।’

Leave a Reply