নেতাকর্মীদের সক্রিয় করার উদ্যোগ নিয়েছে বিএনপি

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ২২ এপ্রিল ২০১৭, শনিবার: এবার তৃণমূলে সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরো ত্বরান্বিতকরণ, অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব-কোন্দল নিরসন ও নেতাকর্মীদের সক্রিয় করার উদ্যোগ নিয়েছে বিএনপি। ইতোমধ্যে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নির্দেশে কেন্দ্রীয় নেতাদের নেতৃত্বে প্রায় ৫০টি টিম গঠন করেছে দলটি। আজ শনিবার থেকে শুরু হচ্ছে সাংগঠনিক সফর। চলবে আগামী ৭ মে পর্যন্ত। গত মঙ্গলবার বিএনপির কেন্দ্রীয় দফতর থেকে দায়িত্বপ্রাপ্ত দলনেতার কাছে এ সংক্রান্ত একাধিক চিঠি পাঠানো হয়েছে। যেখানে চিঠি পাঠানো সম্ভব হয়নি সেখানে মোবাইলে সংশ্লিষ্ট দল নেতাকে বলা হয়েছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য, ভাইস চেয়ারম্যান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও যুগ্ম মহাসচিবদের টিম লিডার করা হয়েছে। এসব টিমের নেতারা দেশব্যাপী ৭৫টি সাংগঠনিক জেলা সফর করবেন। সংশ্লিষ্ট জেলা সফর শেষে দলনেতারা বিএনপির কেন্দ্রীয় দফতরে জেলার সার্বিক পরিস্থিতির ওপর প্রতিবেদন জমা দেবেন। অতঃপর একটি সার্বিক প্রতিবেদন তৈরি করে বিএনপি চেয়ারপারসনের কাছে জমা দেয়া হবে বলে সশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গতকাল সন্ধ্যায় নয়া দিগন্তকে বলেন, আমরা তৃণমূলের নেতাকর্মীদের খোঁজখবর নিতে দেশের ৭৫টি সাংগঠনিক জেলা শাখায় প্রায় ৫০টি টিম গঠন করেছি। দায়িত্বপ্রাপ্ত দলনেতারা সংশ্লিষ্ট জেলা সফর করবেন এবং জেলা শাখার সাংগঠনিক কার্যক্রমের খোঁজ খবর নিয়ে কেন্দ্রে প্রতিবেদন দেবেন।
এ দিকে কেন্দ্রীয় নেতারা যেমন ঢাকার বাইরে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের কাছে যাবেন, তেমনি ঢাকায় মে দিবসে শ্রমিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখবেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। আগামী পয়লা মে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশের ব্যাপারে সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানিয়েছে দলটিÑ জানতে চাইলে বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান বলেন, মে দিবসে ঢাকায় সমাবেশ করবে শ্রমিক দল। প্রতি বছরই বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ওই সমাবেশে অংশগ্রহণ করে থাকেন। এবারো তিনি অংশ নিতে পারেন।
জানা গেছে, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত চিঠিতে জেলা সফরে নেতাদের করণীয় সম্পর্কে বেশকিছু নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এতে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশক্রমে এবং দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট জেলার নেতাদের নিয়ে কর্মিসভা করার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি জেলার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের সাথে যোগাযোগ করে কর্মিসভার দিনক্ষণ চূড়ান্ত করা এবং বিভাগীয় সাংগঠনিক ও সহসাংগঠনিক সম্পাদকদের তা অবহিত করতে বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট জেলার সব কেন্দ্রীয় নেতাকে টিমে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানানো হয়েছে চিঠিতে। জেলা বিএনপির উদ্যোগে এসব কর্মিসভায় টিম প্রধানদের দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, দলের অবস্থান ও দলের ঐক্য সম্পর্কে বক্তব্য রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে। সেই সাথে ৭ মে’র পরে দলনেতা কর্মিসভার প্রতিবেদন বিএনপির কেন্দ্রীয় দফতরে প্রেরণ করবেন। সংশ্লিষ্ট সবাইকে সহযোগিতার অনুরোধ জানানো হয়েছে চিঠিতে।
জেলা সফরের দায়িত্বপ্রাপ্ত একাধিক দলনেতা জানিয়েছেন, সফরকালে প্রতিটি জেলা ও উপজেলা কমিটির নেতৃত্বের দুর্বলতা খুঁজে বের করা, দ্বন্দ্ব-কোন্দল-গ্রুপিং থাকলে তা নিরসন করা, কর্মিসভার মাধ্যমে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করার চেষ্টা করা হবে। যাতে ভবিষ্যৎ আন্দোলনে তৃণমূলের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা যায়। কেন্দ্রীয় নেতাদের সংস্পর্শে আসার কারণে তৃণমূলের নেতারা অনুপ্রাণিত-উজ্জীবিত হবেন বলে তারা মনে করেন।
বিএনপির মহাসচিব স্বাক্ষরিত সাংগঠনিক সফরসংক্রান্ত চিঠি পাওয়ার কথা জানিয়েছেন রাজশাহী জেলা ও মহানগরের দায়িত্বপ্রাপ্ত দলনেতা ও স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তিনি সংশ্লিষ্টদের সাথে আলাপ করে দ্রুত তার কার্যক্রম শুরু করবেন বলে জানান।
ফেনী জেলা টিমের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আতাউর রহমান ঢালীকে। তিনি বলেন, দ্রুত সংশ্লিষ্ট এলাকায় যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি। ভবিষ্যৎ আন্দোলন ও আগামী নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত হওয়াই সাংগঠনিক এ সফরের লক্ষ্য।
বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নিজ জেলা বগুড়া এবং গাইবান্ধা জেলার দলনেতা হয়েছেন যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল। তিনি আগামী বুধবার নাগাদ সংশ্লিষ্ট জেলা সফর করবেন বলে জানা গেছে।
দিনাজপুর ও সৈয়দপুর সাংগঠনিক জেলা সফরের দলনেতা করা হয়েছে রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবিব দুলুকে। তিনি গতকাল নয়া দিগন্তকে বলেন, আমাকে দুইটি জেলার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। কোথাও কোনো সমস্যা আছে কিনা? কমিটি গঠনে বিলম্ব হচ্ছে কেন বা অভ্যন্তরীণ কোনো দ্বন্দ্ব রয়েছে কি না? এসব বিষয়ে খোঁজখবর নেয়া হবে। তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সাথে কথা বলে সংশ্লিষ্ট জেলার একটি সাংগঠনিক প্রতিবেদন তৈরি করা হবে। বিশেষ করে আন্দোলন করার মতো সাংগঠনিক সক্ষমতা রয়েছে কিনা, সে সম্পর্কে বিস্তারিত থাকবে এ প্রতিবেদনে। আগামী নির্বাচনে যারা অংশ নিতে চান, নিজ নিজ এলাকায় তাদের গ্রহণযোগ্যতার বিষয়টিও তাতে স্থান পাবে। এর মাধ্যমে দলকে আরো বেশি ত্বরান্বিত করা হবে।
ঢাকা বিভাগীয় বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ নয়া দিগন্তকে জানিয়েছেন, আমরা তৃণমূলের সংগঠনকে আরো বেশি শক্তিশালী করতে চেয়ারপারসনের ও স্থায়ী কমিটির নির্দেশে একটি চিঠি পেয়েছি। দায়িত্বপ্রাপ্ত সংশ্লিষ্ট জেলা সফর করা হবে এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই সফর শেষ করে একটি অগ্রগতি প্রতিবেদন কেন্দ্রে পাঠানোর চেষ্টা করব ইনশাল্লাহ।
তিনি বলেন, সরকারবিরোধী বিগত দুইটি আন্দোলনের পর সরকারের মামলা-হামলা, নির্যাতন-নিপীড়নে আমাদের সারা দেশের নেতাকর্মীরা জর্জরিত। এ অবস্থা থেকে তাদের সক্রিয়-উজ্জীবিত করার অংশ হিসেবে এ সাংগঠনিক সফর। নির্দলীয়-নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি আদায়ে বিএনপির ভবিষ্যৎ আন্দোলনে আমরা আবারো তৃণমূলের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে চাই।

Leave a Reply