ছাত্রলীগে কোনো পকেট কমিটি হবে না: ওবায়দুল কাদের

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ২২ এপ্রিল ২০১৭, শনিবার: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ছাত্রলীগের পকেট কমিটির আশঙ্কা করছেন সংগঠনটির  গুরুত্বপূর্ণ এই ইউনিটের সাবেক ও বর্তমান অনেক নেতাকর্মী। সম্মেলনের তিন সপ্তাহেও নতুন কমিটি না হওয়ায় এই আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে জানান তারা।
গত ৩০ মার্চ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের প্রথম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সেদিন প্রধান অতিথির বক্তব্যে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছিলেন, ছাত্রলীগে কোনো পকেট কমিটি হবে না। ত্যাগী ও দক্ষ নেতাকর্মীরাই নেতৃত্ব পাবেন।
কিন্তু তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ছাত্রলীগের সাবেক ও বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির শীর্ষ নেতারা জবি ছাত্রলীগে নিজেদের কর্মীদের জায়গা নিশ্চিত করতে দর-কষাষিতে ব্যস্ত।
এদিকে জবি শাখা ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা নিয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পাওয়া যাচ্ছে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছ থেকে। ২৩ দিনেও কমিটি না পেয়ে অনেকটা অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছে জবি ছাত্রলীগের মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীরা। অথচ জবি ছাত্রলীগের সম্মেলনের পর দেশের আরো কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং তারা ইতিমধ্যে নতুন কমিটিও পেয়েছে।
এর আগে ২০১২ সালের ৩ অক্টোবর এফ এম শরিফুল ইসলামকে সভাপতি এবং এস এম সিরাজুল ইসলামকে সাধারণ সম্পাদক করে এক বছরের জন্য জবি ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল। এক বছরের কমিটি প্রায় সাড়ে চার বছর পার করলেও নতুন কমিটি দেয়া সম্ভব হয়নি কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের। বহু আলোচনা-সমালোচনার পর কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ওবায়দুল কাদেরকে প্রধান অতিথি করে গত ৩০ মার্চ নতুন কমিটির জন্য সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু ছাত্রলীগের সিন্ডিকেট ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মাঝে সমঝোতা না হওয়ায় ২৩ দিন পার হলেও নতুন কমিটি দিতে পারেনি কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ।
কমিটি না থাকায় এখন অনেকটা ঝিমিয়ে পড়েছে জবি ছাত্রলীগের মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম। তবে নতুন কমিটিতে পদ পেতে অনেক নেতাকর্মী আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতা ও ছাত্রলীগের বর্তমান ও সাবেক নেতাদের বাড়ি ও অফিসে ধরনা দিচ্ছেন। এসব মিলিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস প্রায় ছাত্রলীগশূন্য।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা জানান, ছাত্রলীগের সিন্ডিকেটের বিভিন্ন নেতা ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে সমঝোতা না হওয়ায় এখনো জবি শাখা ছাত্রলীগের নতুন কমিটি দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। নিজেদের পছন্দের বাইরে অন্য কারো কর্মীরা কমিটিতে স্থান পাক সেটা চাইছেন না তারা।
ওই নেতারা আরো বলেন, একটি গুরুত্বপূর্ণ শাখা হওয়া সত্ত্বেও এখনো জবি ছাত্রলীগের নতুন কমিটি না হওয়ায় তারা আশঙ্কা করছেন, এবার হয়তো এখানে পকেট কমিটি দেখতে হবে তাদের। বঞ্চিত হতে পারেন ত্যাগী ও যোগ্য নেতারা।
জবি ছাত্রলীগের কমিটির বিষয়ে গত কয়েক দিন একাধিকবার যোগাযোগ করা হয় ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসাইনের সঙ্গে। কমিটি ঘোষণার জন্য সোহাগ নির্দিষ্ট সময়ের কথা বললেও সেটি কোনো ফল দেয়নি। আর জাকির হোসাইন বলছেন, এই মাসেই ঘোষিত হবে জবি কমিটি।
সভাপতি সোহাগ ১৬ এপ্রিল জানান, ১৭ এপ্রিল গোপালগঞ্জ অনুষ্ঠান শেষ করে ১৮ এপ্রিল জবির নতুন কমিটি দেওয়া হবে। কিন্তু তা না হওয়ায় গতকাল (২০ এপ্রিল) আবার জানতে চাইলে তিনি বলেন, দুই-এক দিনের মধ্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কমিটি দেওয়া হবে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট হিসেবে উল্লেখ করে সাধারণ সম্পাদক জাকির বলেন, ‘এই ইউনিটের কমিটির বিষয়ে একটু চিন্তা-ভাবনা করতে হবে। আবার প্রার্থীদের যাচাই-বাছাই করারও একটি বিষয় রয়েছে। তাই নতুন কমিটি দিতে একটু দেরি হচ্ছে।’ গতকাল (২০ এপ্রিল) যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের নতুন কমিটি এই মাসের ভেতরেই দেওয়া হবে।

Leave a Reply