চট্টগ্রামে লতিফীয়া সড়কটির ধ্বস

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ২২ এপ্রিল ২০১৭, শনিবার:  চট্টগ্রামের মিরসরাই পৌরসভার কয়েকটি ইউনিয়নের অন্তত ৫টি গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষের যাতায়াতের লতিফীয়া সড়কটি ধসে পতিত হয়েছে আমির আলী খালে। শুধু এই সড়কই নয় এই অঞ্চলের কয়েক শত বছরের ইতিহাস ঐতিহ্যের স্মৃতি মন্ডিত খানকায়ে লতিফীয়া দরবার শরীফের একাংশ ও ধ্বসে পড়ছে খালে। ইতিমধ্যে একটি গেইট ও সাইডওয়াল ধসে গেছে। অবশিষ্ট অংশ ও ধসে পড়ার অপেক্ষায়। কিন্তু এই জনভোগান্তি ও ক্ষয়ক্ষতির দায়িত্ব কে নেবে এই প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছে না উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নকারী কর্তৃপক্ষ।
সরেজমিনে পরিদর্শন করে দেখা গেছে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মিরসরাই সদরের লতিফীয়া গেট হয়ে মাওলানা আব্দুল লতিফ সড়কটি দিয়ে কোয়ার্টার কিলোমিটার গেলে লতিফীয়া বাড়ীর দক্ষিন পাশে ব্রীজ হয়ে পশ্চিম দিকে ৫ শত ফুট এলাকা জুড়ে সিসি ঢালাই করা পুরো সড়ক ধসে পাশে আমিরআলী খালে পতিত হয়েছে। এর মধ্যে সামান্য অংশ জুড়ে চলছে আরসিসি ওয়াল নির্মান কাজ। পুরো সড়ক খালে পতিত হয়ে ও ঘটনা শেষ নয়। এর পার্শ্বের প্রাচীন কয়েক শত বছরের ইতিহাস ঐতিহ্যের স্মৃতি মন্ডিত লতিফীয়া দরবার এর লতিফীয়া মাদ্রাসার মরহুম অধ্যক্ষ তাজুল ইসলাম লতিফীর ঘর, গেইট এবং সাইডওয়াল এর বিভিন্ন অংশ ইতিমধ্যে পতিত হয়েছে খালে। জনগনের এসব ক্ষয়ক্ষতি ও সর্বসাধারনের ভোগান্তির বিষয়ে জানতে চাইলে খালের পাড় দিয়ে চলাচলকারী পথচারি তারাকাটিয়ার আবুল হোসেন (৪৮) বলেন, ‘বাবুরে আমরা কি কমু, আমনেরাই তো দেখতেছেন, আমরা এই সড়ক দিয়ে না চললে আধা কিলোমিটারের পথ অন্তঃত ৭ কিলোমিটার দূর পথ দিয়ে সদর বাজারে যেতে হবে। এখন এইভাবে কতদিন দূর্ভোগ পোহাতে হবে বুঝতে পারছি না। এলাকার বাসিন্দা আজিজুল হক বলেন, এভাবে পুরো সড়ক ড্রেজার দিয়ে কেটে ফেলে দেয়া এটাকি উন্নয়ন নাকি ভোগান্তির জন্য বুঝতে পারছি না, আবার বৃষ্টি হলেই তারাকাটিয়া, মিঠানালা, সৈয়দপুর, ঘীনাল, কিছমত জাফরাবাদ মানুষের দূর্ভোগ কি করে লাঘব হবে তা ভেবে ও এখন থেকেই আতংকে আছি আমরা।
মুক্তিযোদ্ধা হারুন অর রশিদ বলেন, আমরা এভাবে ইচ্ছেকরে আমাদের ঘরবাড়ি সহ খালে পতিত করে সড়ক ও খালকাটার উন্নয়ন এর কথা আর শুনি নাই। এগুলো কেন উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ এসে সরেজমিনে দেখে ব্যবস্থা নিচ্ছে না আমরা বুঝতে পারছি না
ক্ষতিগ্রস্থ লতিফী পরিবারের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জনৈক এলাকাবাসী বলেন লতিফীয়া খানকায়ে গত ১০২ বছর ধরে অদ্যাবধি প্রতি বছর কয়েকটি ওরশ শরীফে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে অন্তত ১০ হাজার ভক্তকূল এখানে নিজেদের ধর্মীয় আদর্শের অনুসারী হিসেবে এখানে আসেন। এই জনপদের ঐতিহ্যমন্ডিত উক্ত ইসলামী আবেগপূর্ণ সমাগম এর কেন্দ্র উক্ত দরবারের বিষয়ে কারো স্বেচ্ছাচারী খামখেয়ালীপূর্ণ এমন কর্মকান্ডের জের হিসেবে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে উদাসীন মনোভাব মুসলমান ধর্মপ্রাণের মধ্যে ও যথেষ্ট বৈরী সম্পর্কের সূত্রপাত বলে মনে করেন। তিনি এই বিষয়ে গৃহায়ন ও গনপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এই বিষয়ে রাস্তার উন্নয়ন কাজের প্রকল্প বাস্তবায়নকারী স্থানীয় সরকার স্থানীয় তদারকি কর্মকর্তা প্রকৌশলী সমর মজুমদারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,আমি প্রতি কয়েকদিন পর পর রুটিন মাফিক উক্ত প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে যা যা নির্দেশনা দিয়েছি তার কোনটিই মানেননি ঠিকাদার। তিনি বলেন সিসি ঢালাই এর স্থানটি জনগুরুত্বপূর্ণ ও ঝুকিপূর্ণ বলে আমরা ২০ ফুট করে শ্রমিক দ্বারা কাটা এবং কাটার সময় প্রোটেকশান ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। কিন্তু ঠিকাদার কোন প্রকার প্রোটেকশান ব্যবস্থা না করায় এমন অবস্থা। আবার বিকল্প সড়ক ব্যবস্থা নিশ্চিত করার বিষয় সহ সকল নির্দেশনাই আমরা প্রকল্পাধিন গাইড বহিতে নোট ও নির্দেশনা দিয়েছি। এর কোনটিই না মানার দায় দায়িত্ব প্রকল্প বাস্তবায়নকারী কর্তৃপক্ষ নিবে না। এর জন্য তিনি ঠিকাদারের লোকবল সহ নানান সীমাবদ্ধতাকেই দায়ী করেন। তবে আবার এই বিষয়ে ওই এমজিএসপি প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক শেখ মোজাক্কা জাহের বলেন প্রকল্প বাস্তবায়নে জনগনের কোন প্রকার ক্ষয়ক্ষতি যেন না হয় তার নির্দেশনা ও দেয়া আছে, তবু ও বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবহিত ছিলাম না, এখন থেকে যথাশীঘ্রই সকল প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন এর উদ্যোগ নেয়া হবে তিনি জানান।
এ বিষয়ে মিরসরাই পৌরসভার মেয়র গিয়াস উদ্দিন বলেন, ইতিমধ্যে আমরা ঠিকাদারের কাছে চিঠি দিয়েছি জনভোগান্তি দ্রুত লাঘবের সকল ব্যবস্থা গ্রহন করতে। আবার ক্ষতিগ্রস্থদের সকল ক্ষয়ক্ষতি ও ঠিকাদারের দায়িত্ব প্রয়োজনীয় ক্ষতিপূরন এর নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে
ওই প্রকল্পের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মালিক এম এ রশিদ এর পক্ষে তত্বাবধানকারী সাবেক পৌর মেয়র ঠিকাদার এম শাহজাহান বলেন, আমাকে অনেক কম মূল্যে এই কাজ নিতে হয়েছে। তাই প্রকল্প ব্যয় সংকুলান করতে ও কাজের নির্ধারিত ছক পূরণ করতে ড্রেজার ব্যবহার করতে হয়েছে।

Leave a Reply