উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ বৃটেনের নির্বাচনে প্রার্থী হবেন

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ২২ এপ্রিল ২০১৭, শনিবার: যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গোপন নথি ফাঁস করে আলোচনায় আসা উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ জুনে আগাম নির্বাচনের প্রার্থী হওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছেন। কমনওয়েলথভুক্ত দেশ অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক হওয়ার ফলে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে অ্যাসাঞ্জের কোনও আইনি বাধাও নেই।
বুধবার একটি টুইটে অ্যাসাঞ্জ তার সমর্থকদের কাছে জানতে চেয়েছেন নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে তারা কি ভাবছেন। টুইটে অ্যাসাঞ্জ ভক্তরা এ ধারণাকে সমর্থন জানিয়েছেন।
নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার বিষয় শুধু টুইটারেই সীমাবদ্ধ কিনা জানতে চাইলে ফেয়ারফ্যাক্স সংবাদমাধ্যমকে অ্যাসাঞ্জ জানান, সত্যিকার অর্থেই অ্যাসাঞ্জ বিষয়টি ভাবছেন।
ব্রিটেনের সংসদ সদস্যদের (এমপি) সংসদে সশরীরে উপস্থিতি বাধ্যতামূলক নয়। সুইডেনে যৌন হয়রানির মামলা থাকলেও প্রাথমিকভাবে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে আইনি জটিলতা বাধা হবে না। তবে কোনওভাবে নির্বাচিত হয়ে গেলেও অ্যাসাঞ্জের পক্ষে ভোট দেয়া সম্ভব হবে না। কারণ ২০১২ সাল থেকে লন্ডনের ইকুয়েডর দূতাবাসে রাজনৈতিক আশ্রয়ে রয়েছেন অ্যাসাঞ্জ।
নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে অ্যাসাঞ্জকে ৫০০ ব্রিটিশ পাউন্ড জামানত দিতে হবে। প্রয়োজন হবে নির্বাচনী এলাকার দশজন ভোটারের সমর্থনমূলক স্বাক্ষর। যদি পাঁচ শতাংশ ভোট পান তাহলে জামানত ফেরত পাবেন।
এর আগেও নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন অ্যাসাঞ্জ। ২০১৩ সালে অস্ট্রেলিয়ার সিনেট নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছিলেন তিনি। নির্বাচনে তিনি ৪১ হাজার ৯২৬ ভোট পেয়েছিলেন, যা মোট ভোটারের ১ দশমিক ২৪ শতাংশ।
সুইডেনের দুই নারী অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ দায়েরের পর ২০১২ সালের জুন থেকে লন্ডনের ইকুয়েডর দূতাবাসের আশ্রয়ে আছেন তিনি। তবে অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে এখনো কোন আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়নি। অ্যাসাঞ্জের আশঙ্কা, তিনি সুইডেনে গেলে সুইডিশ সরকার তাকে গ্রেপ্তার করে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কাছে তুলে দেবে এবং মার্কিন সরকার গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দেবে।

Leave a Reply