প্রেরণায় হৃদয় হাসান

মীর নাজমিন, ২০ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার: হৃদয় মানে আতœ বা মন, আর হাসান মানে বন্ধু। হৃদয় হাসান মানে বন্ধু হৃদয় বা হৃদয়ের বন্ধু। অর্থাৎ সুখে-দুঃখে যিনি সর্বদা মানুষের পাশে দাঁড়ান, হৃদয় দিয়ে যিনি মানুষকে ভালোবাসেন, মানুষকে কাছে টেনে নেন তিনিই হৃদয় হাসান।
নামটা তিনি যথার্থই ধারণ করেছেন। “সবারে বাসিব ভালো করিবনা আতœ-পর ভেদ” এমনই মানসিকতা তাঁর। কী ধনী-কী গরীব, কী ছোট-কী বড়, কী শিক্ষিত-কী অশিক্ষিত, কী নারী-কী পুরুষ, জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের বন্ধু তিনি। সকলের প্রিয় বাবুভাই। যেখানে যান সেখানেই সবার প্রিয়ভাজন হয়ে যান এই মানুষটি। শুধু ছেলেরাই নয় সব বয়সী নারী ও পুরুষ উনার ভক্ত। যারাই তাঁর সান্নিধ্যে এসেছেন তারাই উনার হৃদ্যতাপূর্ণ আচরণে বাধ্য হয় তাঁকে ভালোবাসতে। বলছিলাম চট্টগ্রামের স্বনামধন্য ব্যক্তিত্ব, সদা হাস্যোজ্জ্বল, সুমিষ্টভাষী সাহাব উদ্দীন হাসান বাবুর কথা। শুধু হৃদয় হাসান কেন, যেকোন বিশেষণ অনায়াসেই মানিয়ে যায় তাঁর নামের পাশে। একাধারে তিনি কবি, প্রাবন্ধিক, গল্পকার, সমাজকর্মী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, দক্ষ সংগঠক, ব্যবসায়ী এবং পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ। আরো কত বিশেষণ যে এই নামের অধিকারে আছে তা আমার ক্ষুদ্র জ্ঞানের বাইরে। এমন একজন মানুষের সাথে পরিচিত হতে পেরে এবং তাঁকে নিয়ে কিছু লিখার সুযোগ পেয়ে সত্যিই আমি ধন্য মনে করছি নিজেকে। আমি অবাক হয়ে যাই তাঁকে দেখে দেখে। একজন মানুষের পক্ষে কিভাবে সম্ভব এতোকিছু সামলানো? পুরো চট্টগ্রাম মিলে এমন ক’জন মানুষ আছে আমি জানিনা। সব্যসাচী, মনে হয় তাঁর মতো মানুষকেই বলে।
দারুণ পোক্ত তাঁর লেখালেখির হাত। সাহিত্যের প্রায় সকল শাখায় তাঁর বিচরণ আছে। তাঁর প্রাঞ্জল লেখনী, নিপুণ শব্দ চয়ন, সহজ সরল ভাষায় উপস্থাপনা সহজেই ছুঁয়ে যায় পাঠক হৃদয়। ইতোমধ্যে দেশের জাতীয় দৈনিক সহ চট্টগ্রামের শীর্ষস্থানীয় দৈনিক এবং সাপ্তাহিক পত্রিকা ও বিভিন্ন ম্যাগাজিনে প্রায় শতাধিক প্রবন্ধ ও গল্প প্রকাশিত হয়েছে। পাশাপাশি কবিতাও। ২০১৬ ঢাকা বই মেলায় বিদ্যানন্দ প্রকাশন থেকে প্রকাশিত গল্প সঙ্কলনে তাঁর দুটি গল্প প্রকাশিত হয়েছে। এবং ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে প্রকাশিত বিভিন্ন কবিতা সঙ্কলনে তাঁর বেশ কিছু কবিতাও প্রকাশিত হয়েছে নিয়মিতভাবে। সবচেয়ে মজার ব্যাপার হল অত্যন্ত প্রত্তুৎপন্নমতি লেখক তিনি। কিছু একটা লিখতে তাঁর মোটেও সময়ের প্রয়োজন হয়না। তাৎক্ষণিক তিনি অত্যন্ত প্রাঞ্জল ও সাবলীলভাবে লিখে ফেলেন যেকোন বিষয়ে। উপন্যাস লেখার মতো দূরহ কাজেও ইতোমধ্যে হাত দিয়েছেন তিনি। আশা করছি সামনের কোন এক শুভক্ষণে আমরা উনার লেখা উপন্যাসও হাতে পেয়ে যাব। অদূর ভবিষ্যতে তিনি যে দেশের প্রথম সারির লেখকদের একজন হবেন তাতে কোন সন্দেহ নেই।
সমাজসেবক হিসেবেও তিনি অনন্য। ভুপেন হাজারিকার “মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য” এই নীতিতে বিশ্বাসী এই মানুষটার এমন একটা দিন যায়না যেদিন কারো না কারো কোন একটা কাজে ব্যস্ত থাকেননা। আজ এটাতো কাল ওটা, আজ এখানে তো কাল সেখানে। এসব করতে গিয়ে অনেক সময় নিজের পরিবারকেও সময় দিতে পারেননা। অসহায়, দুঃস্থ মানুষের একমাত্র স্বজন যেন এই মানুষটি। কখনো আর্থিকভাবে, কখনো নিজে গিয়ে পাশে থেকেই সাহায্য সহযোগিতা করেন তাদের। কারো কোন বিপদের কথা শুনলেই তিনি নিজের কথা ভূলে যান। নাওয়া-খাওয়া ভূলে গিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন যে কারো দুর্দিনে, দুঃসময়ে। সময় অসময় নেই, রাত দিন নেই-যখনই কারো বিপদের কথা শুনেন ছুটে যেতে তিনি অলসতা করেননা। যেকোন ব্যাপারে সাহায্য চেয়ে তাঁর কাছ থেকে খালি হাতে ফিরে যেতে দেখিনি কাউকে। নিজের সর্বোচ্চটা দিয়ে সাহায্যের চেষ্টা করেন। এমন উদার মনের মানুষ আমার জীবনে খুব কমই দেখেছি। পারিবারিক কোন সমস্যায় তিনিই সবার আগে। আতœীয়-স্বজনের যেকোন সমস্যার সহজ সমাধান এই বাবুভাই। আজ হাসপাতাল তো কাল ক্লিনিকে, পাসপোর্ট অফিসে, থানায়, বিমানবন্দর, শপিংমল অথবা কারো ভাসায় এভাবেই কেটে যায় তাঁর সময়। কেউ কিছু বললেই বলেন-“আমার জন্ম হয়েছে মানুষের জন্য। যতদিন বেঁচে আছি এসব করেই যাব।” নট নড়ন নট চড়ন মানে এর কোর ব্যাত্যয় হবে না।
অত্যন্ত সংস্কৃতিমনা একজন মানুষ এই সাহাব উদ্দীন হাসান বাবু। সাংস্কৃতিক বিভিন্ন কর্মকান্ডের প্রতি যেমন রয়েছে তাঁর প্রাণের টান তেমনি সংস্কৃতির বিভিন্ন শাখায় রয়েছে তাঁর দীপ্ত পদচারণা। তাঁর দরাজ গলায় আবৃত্তি শুনে মুগ্ধ হয়েছিলাম ভালোবাসা দিবসের একটি অনুষ্ঠানে। খুবই ভালোমানের একজন আবৃত্তিকার তিনি। তাঁর স্বরচিত কবিতা আবৃত্তির রেকর্ডিং এর কাজও শুরু হয়েছে ইতোমধ্যে। আশা করছি খুব শীঘ্রই মেধাবী এই শিল্পীর আবৃত্তির এলবাম আমাদের হাতে এসে পৌঁছুবে। “নিষিদ্ধ ঠিকানা” ও “তবুও তুমি আমার” শীরোনামে ২টি স্বরচিত কবিতা আবৃত্তি ইউটিউবেও পাবেন। গানের কণ্ঠও তাঁর চমৎকার। যদিও নিছক মজা করার জন্য এবং সবাইকে মজা দেওয়ার জন্যই গান করেন তিনি। নিজের লেখা বেশকিছু গানের সরকার ও গীতিকার তিনি। গানের কলি বা কথামালা শুনলে মন ছুঁয়ে যাবে। সবচেয়ে বেশি আকর্ষণীয় মনে হয় তাঁর উপস্থাপনার কাজটি। খুব কম উপস্থাপকই পারেন এতো সাবলীল, আকর্ষণীয় এবং শৈল্পিকভাবে একটি অনুষ্ঠানকে উপস্থাপনার মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলতে। এই কঠিন কাজটি তিনি অত্যন্ত সাবলীলভাবে স্বাচ্ছন্দ্যে করতে পারেন। সংস্কৃতির প্রতি এমন আকর্ষন থেকে তিনি নিজেই প্রতিষ্ঠা করেন “স্বাধীন সাংস্কৃতিক একাডেমি” নামে একটি সৃজনশীল সাংস্কৃতিক সংগঠন। যা চট্টগ্রামের শীর্ষস্থানীয় সাংস্কৃতিক সংগ্রণগুলোর মধ্যে একটি। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই এই প্রতিষ্ঠানটি দেশ মানবতার কল্যাণে অনন্য ভুমিকা রেখে চলেছে। এছাড়াও মঞ্চ নাট্যদল সমীকরণ থিয়েটারসহ বেশ কয়েকটি সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে তিনি ওতপ্রোতভাবে জড়িত আছেন।
সংগঠক ও ক্রীড়াব্যক্তিত্ব হিসেবেও তিনি সমধিক খ্যাত। একজন দক্ষ ও বিচক্ষণ নেতাই পারেন ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা সবাইকে একত্রিত করার কঠিন কাজটি করতে। আর সেই কঠিন কাজটি খুব সহজেই যিনি সম্পন্ন করতে পারেন তিনিই সাহাব উদ্দীন হাসান বাবু। এই কাজটি করতে একটুও বেগ পেতে হয়না তাঁকে। সবাই তাঁর ডাকে যে কোন কাজে সম্মোহনীর মতোই সাড়া দেন। তাইতো অনেক অকল্পনীয় কাজও তিনি সম্পন্ন করতে পারেন সবার সহযোগিতায়। কবিগুরুর গানের মতো তাঁকে কখনো “যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে তবে একলা চলরে” নীতি অবলম্বন করতে হয়নি।
চট্টগ্রাম আবাহনী সমর্থক গোষ্ঠীর পরপর দুইবার নির্বাচিত সভাপতি সাহাব উদ্দীন হাসান বাবু অত্যন্ত ক্রীড়াপ্রেমি একজন ব্যক্তিত্ব। খেলাধুলার প্রতি তাঁর আকর্ষন সেই ছোটবেলা থেকেই। এর স্বীকৃতি স্বরূপ তিনি চট্টগ্রাম স্পোর্টস একাডেমীর সাবেক যুগ্ম সম্পাদক, চট্টগ্রাম আবাহনী লিমিটেডের সদস্য, নাসিরাবাদ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক, চট্টগ্রাম ছাত্র উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক, জেডিসি ক্রিকেট একাডেমির সাধারণ সম্পাদকের গুরোত্বপূর্ন পদে আসীন ছিলেন এবং আছেন।
রাজনৈতিকভাবেও অত্যন্ত সফল এই মানুষটি। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি রাজনীতির সাথে জড়িত হন। বিভিন্ন রাজনৈতিক আন্দোলনে তিনি সম্মুখে থেকেই নেতৃত্ব দিয়েছেন। নিজের জীবনের পরোয়া না করে কাজ করে যাচ্ছেন দেশের স্বার্থে। কিন্তু গতানুগতিক ব্যক্তি স্বার্থের রাজনীতির উর্দ্ধে উঠে খুবই স্বচ্ছ এবং পরিচ্ছন্ন রাজনীতির ধারক-বাহক তিনি। দীর্ঘ এই রাজনৈতিক জীবনে কলুষতা তাঁর চরিত্রকে ছুঁয়ে দিতে পারেনি একবারের জন্যও।
বহুমূখী প্রতিভার অধিকারী এই মানুষটির জীবনের একেকটি বাঁক বৈচিত্রতায় পরিপূর্ণ। তাই তাঁর বর্ণাঢ্য জীবন সম্পর্কে জানতে হলে দীর্ঘ সময় নিয়ে তাঁকে অধ্যয়ন করতে হবে। আমার মতো ক্ষুদ্র জ্ঞানের একজনের পক্ষে এমন একজন মানুষের জীবনের সবটা তুলে ধরা শুধু কঠিনই নয়, অসম্ভবই বটে। এতো এতো কাজের পাশাপাশি বর্তমানে তিনি সমাজ সংস্কারের দিকেও মনোযোগ দিয়েছেন। কাজ করে যাচ্ছেন সমাজের প্রচলিত বিভিন্ন দুষ্টু প্রথার বিরুদ্ধে। তাঁর এতোসব বৈচিত্রপূর্ণ সৃজনশীল কর্মকান্ড দেখে আমি যেমন বিস্ময়াভিভূত হই তেমনি উৎসাহ পাই, প্রেরণা পাই দেশ মানুষের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত করার। নিজের সুখকে বিসর্জন দিয়ে পরের কল্যাণে ঝাঁপিয়ে পড়ার। শুধু আমি কেন? শত তরুণের আদর্শ তিনি, যুবসমাজের স্বপ্নদ্রষ্টা। এই স্বপ্নময় হেমিলনের বাঁশিওয়ালা বটবৃক্ষটি যেন তাঁর ছাঁয়ায় আলোকিত প্রজন্ম গড়ার কাজ অব্যহত রাখেন। বহু গুণে গুণান্বিত এই দেশপ্রেমিক, মানবপ্রেমিক ব্যক্তিত্ব দীর্ঘদিন সুস্থ থেকে দেশ মনবতার কল্যাণে এভাবেই নিয়োজিত রাখুক নিজেকে। মহান রাব্বুল আলামীন যেন তাঁকে দীর্ঘায়ু দান করেন। লেখক ঃ শিক্ষক ও প্রাবন্ধিক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*