হিটলারের ইহুদি নির্যাতন কেন্দ্র কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্প

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ১৯ এপ্রিল ২০১৭, বুধবার: ১৯৩৯ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলেও হিটলারের ইহুদি নির্যাতন কেন্দ্র কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্পগুলোর প্রথম সন্ধান পাওয়া গিয়েছিল ১৯৪৪ সালেই। সোভিয়েত বাহিনী সর্বপ্রথম পোল্যান্ডে এমন একটি ক্যাম্পের সন্ধান পায়। বলা হয়, তখনই প্রথম হিটলারের হলোকাস্ট সম্পর্কে জানতে পেরেছিল মিত্রশক্তি।
কিন্তু সম্প্রতি জাতিসঙ্ঘের উন্মোচন করা কিছু নথিতে দেখা যায়, মূলত কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্প আবিষ্কারের আড়াই বছর আগেই হিটলারের ইহুদি নিধন সম্পর্কে জানতে পারে মিত্রশক্তি। ওই সময়ে তারা হিটলার এবং অন্য নাৎসি নেতাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধপরাধ মামলার প্রস্তুতি নিলেও হলোকাস্টের ব্যাপারে নীরব ছিল। উদ্বাস্তুর ঢল নামার আশঙ্কায় এবং বাণিজ্য সম্পর্ক খারাপ হওয়ার আশঙ্কায় নাৎসি নেতাদের বিচারের মুখোমুখি করতে অনীহা প্রকাশ করে ব্রিটেন।
৭০ বছরেরও বেশি সময় পরে এসে জাতিসঙ্ঘের প্রকাশিত নথি থেকে জানা গেল এসব তথ্য। নথিতে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং সোভিয়েত ইউনিয়ন (বর্তমান রাশিয়া) ১৯৪২ সালের ডিসেম্বরেই জানতে পেরেছিল যে, ২০ লাখ ইহুদিকে ইতোমধ্যে হত্যা করা হয়েছে এবং আরো ৫০ লাখ মৃত্যুঝুঁকিতে আছে।
কিন্তু সেই সময়ে তাদের ওই অবস্থা থেকে উদ্ধার কিংবা আশ্রয়দানের জন্য কিছুই করা হয়নি। ১৯৪৩ সালের মার্চে উইনস্টন চার্চিলের মন্ত্রিসভার যুদ্ধবিষয়কমন্ত্রী ভিসকাউন্ট ক্র্যাবোর্নে মন্তব্য করেছিলেন, ইহুদিদের বিষয়টিকে বিশেষ কোনো ঘটনা হিসেবে দেখা উচিত হবে না। ব্রিটিশ সাম্রাজ্য ইতোমধ্যে উদ্বাস্তুতে পূর্ণ হয়ে গেছে। এখানে আর কাউকে আশ্রয় দেয়ার জায়গা নেই। এ বিষয়ে ‘হিউম্যান রাইটস আফটার হিটলার’ বইয়ের লেখক ড্যান প্লেখ বলেন, ‘যে সময়ে ইহুদি গণহত্যার বিষয়টি জানা গেছে বলে মনে করা হয়, তারও আড়াই বছর আগে প্রধান শক্তিগুলো এ নিয়ে কথা বলতে শুরু করেছিল। ধারণা করা হয়, প্রথম কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্পের সন্ধান পাওয়ার পরই তারা ইহুদি নিধনের বিষয়টি জানতে পেরেছিল। কিন্তু আসলে ১৯৪২ সালের ডিসেম্বরেই এ নিয়ে আলোচনা করছিল তারা।’
ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের এই অধ্যাপক জানান, ওইসব ক্যাম্প থেকে পাওয়া বিভিন্ন স্যাপ্রমাণের ওপর ভিত্তি করে মিত্রশক্তি যুদ্ধাপরাধ মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। ১৯৪২ সালের ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং অন্য দেশগুলো এ নিয়ে একটি ঘোষণাও দিয়েছিল।
এই সময়ে নাৎসি নেতাদের বিচারের বিষয়েও অনীহা প্রকাশ করেছিল মিত্রশক্তি। প্লেখ বলেন, মার্কিন প্রশাসনের অনেক কর্মকর্তা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জার্মানির অর্থনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন। তাদের ধারণা ছিল, নাৎসি নেতাদের বিরুদ্ধে বিচার শুরু করলে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

Leave a Reply