সিলেটে কুয়েত যাত্রী আসাদুজ্জামান হত্যার ঘটনায় ৩ হত্যাকারী গ্রেফতার

সিলেট সংবাদদাতা, ১৮ এপ্রিল ২০১৭, মঙ্গলবার: সিলেটে কুয়েতে যাত্রী আসাদুজ্জামান হত্যাকান্ডের ঘটনায় তিন হত্যাকারীকে পুলিশ সোমবার মেট্রোপলিটন এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃতরা হলো, সিলেট সদর উপজেলার এয়ারেপোর্ট থানার খাঁসদবির এলাকার নুরুল হকের ছেলে সুমন ওরফে মানিক,  হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার দও গ্রামের আমির উদ্দিনের ছেলে  জমির উদ্দিন, সুনামগঞ্জ পৌর শহরের হাসন নগর এলাকার মাহমুদ আলীর ছেলে হাসান আলী।  
জানা গেছে , গত ১২ এপ্রিল নিলফামারী জেলার কিশোরগঞ্জের আসাদুজ্জামান রিপন ও তার স্ত্রী হাছনা হেনা কুয়েত যাওয়ার উদ্দেশ্যে মেডিকেল চেকআপের জন্য বাড়ি হতে সিলেটে আসেন। ওই রাতে সিলেটের কদমতলী বাস স্ট্যান্ডে  থেকে রাত আড়াইটার দিকে তারা হযরত শাহজালাল (রহঃ) মাজার এলাকার রাস্ত্রী যাপন ও বিশ্রামের জন্য  অটোরিক্সায় আসার পথে বন্দর বাজার পয়েন্টে অটোরিক্সাটি পৌঁছা মাত্র ০২ জন যুবক অটোরিক্সার গতিরোধ করে ধারালো  ছুরি ধরে আসাদুজ্জামান রিপনের  সাথে থাকা নগদ ১৪ হাজার টাকা ও তার ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোন সেট ছিনিয়ে নেয়। এরপর ছিনতাইকারীরা হাছনার  সাথে থাকা ব্যাগ নিতে চেষ্টা চালানে আসাদুজ্জামান বাঁধা দিলে এক ছিনতাইকারী হাতে থাকা ধারালো  ছুরি দিয়ে তার বুকে উপর্যুপরি আঘাত করে তাকে সড়কে ফেলে রেখে যায়।  পরবর্তীতে  হাছনার চিৎকার শুনে আশে পাশের পথচারীগণ এসে আসাদুজ্জামানকে চিকিৎসার জন্য এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করে।
সিলেট মেট্রাপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ( মিডিয়া ) মো. জেদান আল মুসা  সোমবার রাতে গণমাধ্যমে জানান, এ ঘটনার  পরদিন ১৩ এপ্রিল নিহতের স্ত্রী হাছনা নেহা বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
তিনি আরো বলেন, এ ঘটনায় সিনিয়র সহকারি পুলিশ কমিশনার মো. সাদেক কাউসার দস্তগীরের নেতৃত্বে পুলিশের এক বিশেষ অভিযানে সিলেট মেট্রোপলিটন এলাকা থেকে আসাদুজ্জামান রিপনকে হত্যা ও ছিনতাইর ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে সুমন মিয়া ওরফে মানিক, জমির উদ্দিন,  হাসান আলীকে গ্রেফতার করা হয় এবং  হত্যা ও ছিনতাই কাজে ব্যবহৃত ছুরিটি আসামী সুমন মিয়া ওরফে মানিকের হেফাজত থেকে উদ্ধার করা হয়।

Leave a Reply