জঙ্গীবাদ ও সন্ত্রাসবাদ ইহুদীবাদেরই সৃষ্টি, মুসলিম উম্মাহ তার নিরহ বলী: আল্লামা নিজামী

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ১৭ এপ্রিল ২০১৭, সোমবার: ইসলামী ঐক্যজোট চট্টগ্রাম মহানগর কর্তৃক আয়োজিত জঙ্গীবাদ, সন্ত্রাসবাদ ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় আলেম সমাজের ভূমিকা শীর্ষক আলোচনা সভা চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব ইঞ্জিনিয়ার আবদুল খালেক মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি মাওলানা মাঈনুদ্দীন রুহীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মাওলানা আবদুল লতিফ নিজামী, বিশেষ অতিথি ছিলেন ভাইস চেয়ারম্যান আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী,প্রধান বক্তা ছিলেন ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব জননেতা আল্লামা মুফতি ফয়েজুল্লাহ। বক্তব্য রাখেন মাওলানা আমিরুজ্জামান মেহরী, মাওলানা আমিন শরীফ, মাওলানা শামীম, মাওলানা আ ন ম রহিমুল্লাহ, মাওলানা হাজী মোজাম্মেল হক, মাওলানা জিয়াউল হাসান, মাওলানা কারী ইদ্রীস, মাওলানা কারী আব্দুল মাবুদ, মাওলানা ক্বারী মুবিনুল হক, মাওলানা মোহাম্মদ আলী, মাওলানা আলমগীর মাসুদ, মাওলানা ওসমান, মাওলানা মুফতি হারুন এজহার চৌঃ, মাওলানা এ কে এম আশরাফুল হক, মাওলানা জয়নাল আবেদিন কুতুবী, মাওলানা আলমগীর, মাওলানা মুহাম্মদ শামীম, মাওলানা হেলাল উদ্দীন, মাওলানা হাফেজ ফয়সাল, মাওলানা আ.ন.ম আহমদ উল্লাহ, মাওলানা মোহাম্মদ ইউনুচ, মাওলানা জোনায়েদ জওহর, ছাত্রনেতা ওসমান কাসেমী, মাওলানা আবু তাহের ওসমানী, মাওলানা ইব্রাহীম সিকদার, মাওলানা কারী সওকত, মাওলনা ইকবাল খলিল, মাওলানা ইয়াছির মোহাম্মদ আরিফ, মাওলানা নুরুল হামিদ, মাওলানা আশরাফ বিন ইয়াকুব, মাওলানা আজিজুল্লাহ বাবুনগরী, মাওলানা রফিকুল ইসলাম বোয়ালী, মাওলানা আব্দুর রহমান, মাওলানা ইউছুপ, মাওলানা ওসমান কাশেমী, মাওলানা নাজমুস শাকিব, মাওলানা আবুল কাসেম, মাওলানা ফয়েজুর রহমান ফয়েজ, মাওলানা মাহমুদুল হাসান হাকি, মাওলানা হেলাল উদ্দিন প্রমুখ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাওলানা আবদুল লতিফ নিজামী বলেছেন, ইসলামী ঐক্যজোট শুধু ক্ষমতার জন্য রাজনীতি করে না। ইসলামী ঐক্যজোট একটি দক্ষ আদর্শ নি:লোভ দেশ প্রেমিক সৈনিক তৈরী করতে নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছে। আজ আমাদের এই মার্তৃভূমি ভোগ বিলাস ও ক্ষমতার দ্বন্দে মোহ রাজনীতিতে ব্যস্ত। এই প্রবণতা প্রশাসন থেকে নিয়ে গ্রামীন জনপদে ছড়িয়ে পড়েছে। আল্লামা মুফতি আমীনি (র:) আজীবন এর বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে গেছে।
প্রধান বক্তা আল্লামা মুফতি ফয়েজুল্লাহ বলেন, প্রথমে চট্টগ্রামে এসে আমি চট্টগ্রামবাসীদের ধন্যবাদ জানাই কারণ চট্টগ্রাম থেকে বিটিশ বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে দেশের যে কোন ক্রান্তিকালের যে কোন আন্দোলন চট্টগ্রাম থেকে শুরু হয়েছে। এবার চুড়ান্ত আন্দোলন জঙ্গিবাদ এর বিরুদ্ধে শুরু করলাম বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ এর স্থান চিরতরে ধ্বংস করতে হবে। জঙ্গীবাদ আমাদের দেশে নাস্তিকদের আমদানী করা একটি টিউমার। পৃথিবীর ইতিহাসে জঙ্গী -জঙ্গিবাদ সৃষ্টির ঘোড়ায় সবচেয়ে বেশী করেছে ইহুদীরা। এই ইহুদীরা এক দেশে এক এক অজুহাতে মুসলমানদের ধ্বংস করার জন্য কাজ করে যাচ্ছে। বাস্তবে ইসলাম ও মুসলমানদের সাথে জঙ্গীবাদের কোন সম্পর্ক নেই। তিনি বলেন, কাওমী মাদ্রাসার স্বীকৃতি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী একটি বিরাট দায়িত্ব আদায় করেছে। তার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই। তবে সাথে সাথে প্রধানমন্ত্রী ইসলাম বিরোধী যে কোন ষড়যন্ত্র কঠোরভাবে দমন করবে আশা করি। আল্লামা শাহ মুহিবুবল্লাহ বাবুনগরী বলেন, গ্রীক মৃর্তি সরাবেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। কিন্তু নাস্তিদের মাতা ব্যথা হয়েছে। তারা চায় বাংলাদেশে হিন্দুত্ব কায়েম করে সরকার এবং আওয়ামী লীগের বদনামী করতে। আগামীতে সরকার ইসলামের জন্য আরো বড় কিছু করবে।
মাওলানা মুফতি হারুন বলেন, ইসলামী ঐতিহ্য রক্ষার জন্য কওমী মাদ্রাসা এবং ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করার জন্য মুফতি আমিনী (রহ) আজিবন সংগ্রাম করেছে তার সবচেয়ে বড় আদর্শ ছিল আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে মানুষকে জাগ্রত করা। আজ তার মত বড় মাপের একজন সংগ্রামী নেতার বড় প্রয়োজন। সভাপতির বক্তব্যে মাওলানা মঈনুদ্দিন রুহী বলেন, কওমী মাদরাসার স্বীকৃতি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী স্বরনিয় হয়ে থাকবে। তিনি বলেন, স্বীকৃতি আমাদের অধিকার। এটা কারো দয়া নয় প্রধানমন্ত্রী উপলব্ধি করে আমাদের অধিকার ফিরিয়ে দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী গ্রীক দেবী সরাবেন এটা আমাদের আশা। আর যদি গ্রীক মূর্তির জন্য রাজপথে জীবন দিতে হয়ে আমরা তার জন্যও প্রস্তুত আছি। তাই তিনি সরকারকে অনতিবিলম্বে গ্রীক মুর্তি সরানোর জন্য আহবান জানান। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মাওলানা আ ন ম আহমদ উল্লাহ ও মাওলানা সায়েদ হোসাইন।

Leave a Reply