আমরা সর্বজনীন শিক্ষাব্যবস্থা চেয়েছি: সুলতানা কামাল

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ১৭ এপ্রিল ২০১৭, সোমবার: মানবাধিকারকর্মী সুলতানা কামাল বলেন, আমরা পাকিস্তান আমল থেকে আসাম্প্রদায়িক, সর্বজনীন শিক্ষাব্যবস্থা চেয়েছি। নবনীতা চৌধুরীর সঞ্চালনায় ডিবিসি’র নিয়মিত অনুষ্ঠান রাজকাহনে ‘বাস্তবতার রাজনীতি’ বিষয়ক আলোচনায় তিনি একথা বলেন। এছাড়া ছিলেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাবেক সভাপতি নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু। সুলতানা কামাল বলেন, ’৬০ এর দশক থেকে আমরা অসাম্প্রদায়িক সর্বজনীন শিক্ষার জন্য আন্দোলন করেছি। তাতে ছাত্ররা প্রাণ দিয়েছে। আমরা কখনো চাইনি আমাদের দেশে এমন শিক্ষা ব্যবস্থা হোক লক্ষ লক্ষ ছেলে মেয়েরা অন্য একটা শিক্ষার মাধ্যমে থেকে বঞ্চিত থাকুক। আমার তরুণ প্রজন্ম যাতে না মনে করে তারা তাদের প্রাপ্য শিক্ষাটা পেল না। তাহলে এই বোধ নিয়ে তারা থাকবে কেন নিজের দেশে।
আমরা একমুখী শিক্ষার জন্য যে শিক্ষানীতি প্রণয়ন করলাম সেই শিক্ষানীতি বাস্তবায়ন করার দায়িত্ব কি আমাদের সরকারের ছিলো না? আমাদের সরকার এত দুর্বল। আমাদের যথেষ্ট আন্তরিকতার অভাবের কারণে শিক্ষা ব্যবস্থায় এমন অযাচিত একটি কান্ড দেখতে পেলাম। আমরা মুসলমানরা এমনিতে তো কুরআন পড়ি সেটা তো কোন বিষয় না। সেটার জন্য একটা ডিগ্রি দেওয়া এটা মেনে নেওয়া যায় না।
আমাদের মূলধারার শিক্ষা ব্যবস্থায় দশ বছর মাধ্যমিক শিক্ষা তারপরে ৪ ও ১ বছর শিক্ষা নিয়ে একটা ডিগ্রি অর্জন করি। আর কওমি মাদ্রাসায় দশ বছর পড়েই এই ডিগ্রি অর্জন করা যাবে। এই ডিগ্রি দিয়ে তারা কি করবে। একটা ব্যাংক কি তাদের চাকরি দেবে? কোন বাধ্যবাধকতা এলে হয়ত দিতেও হতে পারে। কিন্তু কওমি মাদ্রাসার ওই ছেলেটা একটা মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে কাজ করতে পারবে? মূলধারার শিক্ষা ব্যবস্থায় কি শিক্ষকতা করতে পারবে?

Leave a Reply