শফি হুজুর ভোটের রাজনীতিতে এখন মিষ্টি!

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ১৬ এপ্রিল ২০১৭, রবিবার: বছর কয়েক আগে আল্লামা শফী হুজুরের একটি বয়ান নিয়ে সারাদেশ ব্যাপী তীব্র হৈচৈ শুরু হয়েছিল। ওনার মত একজন গুণধর আলেম মেয়েদের তেঁতুলের সঙ্গে তুলনা করায় অনেকে বিক্ষোভ প্রকাশ করেন। আরব দেশে এক প্রকার তেঁতুল পাওয়া যায় যা মিষ্টি। দেখে মনে হচ্ছে শফি হুজুর ভোটের রাজনীতিতে এখন মিষ্টি তেঁতুলে পরিণত হয়েছেন।
পুত্র শোকে যাতে বেগম খালেদা জিয়া ভেঙ্গে না পড়েন, এই আহবান জানিয়ে হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা আহমেদ শফী বেগম জিয়াকে বলেছিলেন, দেশের ক্রান্তিকালে দেশবাসী বিএনপি নেত্রীর দিকে তাকিয়ে আছে। হাটহাজারীর ইউপি নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থীকেই শফী হুজুর সমর্থন জানিয়েছিলেন। সেই আল্লামা শফী এখন আর জঙ্গি নন। সরকারি দলের নেতা ও মন্ত্রীরা একাধিকবার শফী হুজুরকে জঙ্গি থেকে শুরু করে দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টির জন্যে দায়ী করেছেন।
রাজনীতিতে চিরশত্রু বলে কিছু নেই। এদেশের রাজনীতির মর্মই হচ্ছে জলের মত স্বচ্ছ। যে পাত্রে রাখা যায় সে পাত্রের আকার ধারণ করে। রাজনীতিতে ভোটের বিষয় আছে। নির্বাচন আছে। নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসে, ততই শত্রু মিত্র ভেদাভেদ জ্ঞান রাজনীতি থেকে নির্বাসনে যায়। শফী হুজুরের কি দোষ! দোষ একটাই, শফী হুজুররা নারী নেতৃত্বে বিশ্বাস না করলেও, নিজেদের দলে নারী নেতৃত্ব সৃষ্টি না করলেও, মঞ্চে নিজেদের নারী নেত্রীদের কথা বলার সুযোগ না দিলেও অন্য দলের নারী নেতৃত্বে কোনো আপত্তি নেই।
ধর্মের প্রয়োজনে কখনো কখনো রেলের জমি প্রয়োজন পড়ে। কুছ পরোয়া নেই। এবার কওমী মাদ্রাসার শিক্ষার্থী বিসিএস পরীক্ষা দিতে পারবেন। মাদ্রাসার সিলেবাস আধুনিক না হোক, প্রযুক্তি নির্ভর জ্ঞান ও আধুনিক ধারার অর্থনীতিভিত্তিক না হোক, তারা সম্পদ সৃষ্টির কৌশল রপ্ত করতে না পারুক এনিয়ে কোনো মাথা ব্যথা নেই। প্রয়োজনে অন্যকেউ এসে বিকল্প হেফাজত প্লাটফর্ম গড়ে তুলে ময়দান দখলে নিতে পারেন এ আশঙ্কা জবরদস্ত হয়ে সামনে এসে পড়লে শফী হুজুর এ বয়সে কিইবা করতে পারেন।
বামধারার নেতারা শফী হুজুরকে নিয়ে আগেও এবং বর্তমানে সন্তষ্ট নন। তাদের আশঙ্কা প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক ধারার সঙ্গে শফী হুজুররা যান না। তেলের সঙ্গে জলের যেমন সংমিশ্রণ ঘটে না। কিন্তু ভোটের রাজনীতিতে সবই মিশে যায়। কত রাজাকার স্বাধীনতা পক্ষের শক্তির স্বপক্ষে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে গেল। আলোকজেন্ডারের সেই বিখ্যাত উক্তির মত, হায় সেলুকাস!কি বিচিত্র এদেশ!!
সমঝোতা প্রক্রিয়ায় সরকারি দলের নেতারা হেফাজতের শফী হুজুরের কাছে কম দৌড়াননি। ভোটের রাজনীতিতে ইসলামী কার্ড এখন একতরফা হয়ে গেল। পাঠ্যপুস্তকে পরিবর্তন এসেছে। মামলাগুলো অনেকটা লাপাত্তা। এবার সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গন থেকে ভাস্কর্য স্থানান্তরের সময় হয়ে এল। দলদাস বুদ্ধিজীবীরা যতই দলের সমালোচনা করুক ধর্ম নিয়ে রাজনীতি এদেশে সবাই করেন এটা প্রমাণের আর কিছু অবশিষ্ট থাকল না।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, কওমি মাদরাসার উচ্চশিক্ষার স্বীকৃতি দেয়া মানে হেফাজতে ইসলামের সঙ্গে কোনো আপস করা নয়। এটা রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতা। জনগণের আবেগ-অনুভূতির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। যথার্থই বলেছেন ওবায়দুল কাদের। রাজনৈতিক কৌশলেই তিনি বিষয়টি খোলাসা করেছেন। বলেছেন, প্রায় ১৪ লাখ কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীর উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করে একটি অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মধ্যে থাকে। তাই আমরা কওমি মাদ্রসার স্বীকৃতি দিয়েছি। এও বলেছেন, ধর্মব্যবসায়ীদের সবচেয়ে বিশ্বস্ত পৃষ্ঠপোষক খালেদা!

Leave a Reply