তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রেজেপ তাইয়্যিপ এরদোয়ান গণভোটে জিতে যাচ্ছেন

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ১৬ এপ্রিল ২০১৭, রবিবার: যদ্দূর বুঝি, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রেজেপ তাইয়্যিপ এরদোয়ান বা তার দল গণভোটে জিতে যাচ্ছেন। সন্দেহ নেই, এই নির্বাচন নিয়ে পশ্চিমাদের অযৌক্তিক ও অনাহূত চুলকানি তার অবস্থান আরও শক্তিশালী ও সংহত করেছে। আমি পড়াশোনা জানা তুর্কিদের সাথে কথা বলে দেখেছি, কী পরিবর্তন আনা হচ্ছে জানার আগ্রহটাও নেই ওদের অনেকের। ‘এরদোয়ান পরিবর্তন চাইছে আমরাও চাই’! আবার আরেকদল হচ্ছে আধুনিক তুরস্কের প্রতিষ্ঠাতা মোস্তফা কমাল পাশার কট্টর অনুসারী। তারাও না জেনেই ‘না’ ভোট দেবে। পাশার অনুসারীরা বলছে, তুরস্ক তার ধর্মনিরপেক্ষ পশ্চিমামূল্যবোধ থেকে দিনদিন দূরে চলে যাচ্ছে। এই রেফারেন্ডামে এরদোয়ান জিতে যাওয়া মানে হচ্ছে আধুনিক তুরস্কের পতন। এদের অনেকে এরদোয়ানের ‘পতনের প্রয়োজনে’ রক্তপাতকেও সমর্থন করতে চান। পাশা যেন নিজেই একটা ধর্মের নাম আজকের তুরস্কেও।
তবে বাস্তবতা হচ্ছে, পাশার দলে, মানে এরদোয়ানের বিপক্ষে লড়ার মতো কোন ক্যারিশম্যাটিক নেতা তুরস্কে নেই। অদূর ভবিষ্যতে আসবে বলেও মনে হয় না। ফলে এরদোয়ানের আদর্শ পছন্দ করেন না বা মতাদর্শে কট্টর নন এমন মানুষরা তার কাঁধেই দেশ পরিচালনার ভার দিতে চায়। যুক্তি হিসেব ওর বলে, আমরা স্থিতিশীলতা চাই। দেশ যখন আঞ্চলিক সমস্যায় জর্জরিত তখন আভ্যন্তরীন সমস্যা সামাল দিতে না পারলে তুরস্ক ধ্বংস হয়ে যাবে। এই যে দোদল্যমান মানুষগুলো, ওদের একজন আমার ডর্মের পাশের এক রেস্টুরেন্টের মালিক। খেতে গিয়ে তার সাথে মাঝেমধ্যে কথা বলি। তিনি চুপচাপ, রেফারেন্ডাম নিয়ে কোনরকম উৎসাহ নেই। পাশাকে ভালোবাসেন, আবার দেশকেও ভালোবাসেন। একটা নির্বিষ হাসি দিয়ে আমার কাছে জানতে চান, তুমি কি মনে কর, কিসে তুরস্কের মঙ্গল। আমিও নিরীহের মতো হাসি।
এদিকে, উসমানীয় সাম্রাজ্যের ঐতিহ্য লালন করা এক বিশাল ধর্মীয় ভাবাপন্ন জনগোষ্ঠী এরদোয়ানের চোখে ‘ঐতিহ্যবাহী তুরস্কের’ পুন:প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখতে চায়। তাদের ভাষায়, এরদোয়ান তুরস্ককে হারিয়ে যাওয়া ইসলামী ঐতিহ্যে ফিরিয়ে নেওয়ার পথের গোড়াপত্তন করছেন। তারা শুধু এরদোয়ানকে সমর্থনই করেন না, তুরস্কের অবতার মানেন! জীবন দেওয়া-নেওয়ার মালিক এক আল্লাহ বলে বিশ্বাস করেন, বলেন রেজেপ তাইয়িপ্যের জন্য মরে যাওয়া মানে ইসলামের জন্য শহীদ হওয়া!
এই গণভোট তুরস্কের অনেককিছুই বদলে দেবে। যদি হ্যাঁ পাশ করে তাহলে পাল্টে যাবে পুরো রাষ্ট্রব্যবস্থা। আর না ভোট জয়ী হলে একটা বড়সর ধাক্কা খাবে এরদোয়ান শাসন। এখানে একদল স্বপ্ন দেখাচ্ছেন নুতন তুরস্ক গড়ার আর এক দল ডাক দিচ্ছেন আধুনিক তুরস্ককে রক্ষার।
যাইহোক, এই মুহূর্তে বলা মুশকিল, এই স্বপ্ন স্বপ্ন খেলা তুরস্ককে কোথায় নিয়ে যাবে। তবে আপাতত আমরা আজকের দিনে চোখ রাখতে পারি। যেখানে আপাতদৃষ্টিতে এরদোয়ানের পাল্লাই ভারী মনে হচ্ছে।

Leave a Reply