জামায়াতে ইসলাম ৪০টি আসনে আগামী নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ১৬ এপ্রিল ২০১৭, রবিবার: একাধিক বিশ্বস্ত সূত্র বলছে ২০১৯ সালের জাতীয় নির্বাচনে জামায়াতে ইসলাম অন্তত ৪০টি আসনে নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার লক্ষ্য নিয়ে আগাচ্ছে। গত চার বছর ধরে রাজনৈতিকভাবে পর্যুদস্ত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এখনো তৃণমূল পর্যায়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে সম্পৃক্ত রয়েছে এবং তা সম্ভব হচ্ছে অযৌক্তিক মনোযোগের কারণে।
২০১৩ সালে সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া এক রায়ে জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল ঘোষণা করে। এর ফলে নির্বাচন কমিশনের অধিনে কোনো নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ হারায় দলটি। সুপ্রিম কোর্টের আরেকটি রায়ে গত বছর ‘দাড়িপাল্লা’ নির্বাচনী প্রতীক নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। যা ছিল জামায়াতের জন্যে কফিনে আরেকটি পেরেক। কিন্তু রাজনীতি থেকে দূরে থেকেও জামায়াত আগামী নির্বাচনের জন্যে প্রস্তুতি নিচ্ছে।
জামায়াত ফের বিনির্মাণ ঘটাচ্ছে, ২০১১ সালে দলটির শীর্ষ নেতাদের মৃত্যুদ- কার্যকর হওয়ার পর বিতর্কিত এ দলটি নতুন নতুন সমর্থক ও কর্মী তৈরি করছে। এটা অনেকে বিশ্বাস করেন জামায়াত উচ্চতর আদালতে নির্বাচনে অংশগ্রহণের অধিকার নিষিদ্ধ হবার বিষয়টি নিয়ে আপিল করবে। এ সম্পর্কিত মামলাটি এখন আপিল বিভাগে রয়েছে। এর চূড়ান্ত ফয়সালা না হওয়ায় জামায়াত পুনরায় রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে ওঠার সুযোগ পাচ্ছে।
জামায়াতের নেতা সহ একাধিক সূত্র জানাচ্ছে আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে দলটির রুপরেখা প্রণয়নে তারা বসবেন। গত বছর থেকে জামায়াত তৃণমূল পর্যায়ে দল গড়ে তোলা শুরু করে। গ্রামীণ এলাকা, সীমান্ত বিশেষ করে যেসব এলাকায় আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অভিযান চলেছে সেসব এলাকায় ভোটারদের কাছে টানতে চাচ্ছে জামায়াত। উত্তরাঞ্চল ও উপকূলীয় অঞ্চলের জেলাগুলোতে জামায়াত বিশেষ নজর দিচ্ছে। পুলিশ ও র‌্যাবের হাতে যারা মারা গেছে তাদের পরিবারকে চিহ্নিত করছে জামায়াত। তাদের প্রতি সহানুভূতি নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন জামায়াতের নেতা কর্মী। অস্বচ্ছল এমন পরিবারের সদস্যদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করছে জামায়াত। জামায়তের শীর্ষ সদস্য যারা রোকন হিসেবে পরিচিত তারা প্রার্থীদের বাড়ি বাড়ি যেয়ে ভোট চেয়ে রাখছেন। রোকনদের মসজিদ ভিত্তিক কার্যক্রম বৃদ্ধি পাচ্ছে। দলের তহবিল বৃদ্ধি করতে পৃষ্ঠপোষকদের আর্থিক সহায়তা নেওয়া হচ্ছে।
জামায়াতের এধরনের দল গঠনের কাজ ও রণকৌশল প্রতীয়মান হলেও দৃশ্যমান নয়। এধরনের প্রভাব টের পাওয়া গেছে কুমিলা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে। নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী ও চট্টগ্রাম থেকে হাজার হাজার রোকন এ নির্বাচনের প্রচারণায় অংশ নেন। জামায়াতের ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্র শিবিরের কর্মীরাও এ প্রচারণায় অংশ নেয়। এবং এ নির্বাচনে জামায়াত ৫টি কাউন্সিলর পদে জয়লাভ করে। বিএনপির মেয়র মনিরুল হক সাক্কু জামায়াতের কাছ থেকে প্রবল সমর্থন পান।
কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে জামায়াত পুনর্গঠনে চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করে সন্তোষজনক ফলাফল পায়। কুমিল্লা জামায়াতের জন্যে উর্বর এলাকা হওয়ার পর্যাপ্ত কারণ রয়েছে। জামায়াতের নির্বাহী কমিটির বর্তমান সদস্য সাইয়েদ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের ও শিবিরের সেন্ট্রাল কমিটির প্রেসিডেন্ট ও সাবেক সংসদ সদস্য চৌদ্দগ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা। তাহের কুসিক নির্বাচনে জয়লাভের জন্যে জয়ী কাউন্সিলর গোলাম কিবরিয়া, মোশাররফ হোসেন, ইকরামুল হক বাবু, ও সিদ্দিকুর রহমান সুরুজকে অভিনন্দন জানিয়ে ফেসবুকে একটি বার্তা পোস্ট করেন।
ওই বার্তায় এই চার কাউন্সিলরকে বিকল্প প্রতীক নিয়ে নির্বাচনের প্রশংসা করেন তাহের। ফেসবুকে দেওয়া আরেক পোস্টে জামায়াতের কার্য নির্বাহী কমিটির সদস্য ও শিবিরের সাবেক সভাপতি রেজাউল করিম কুসিক নির্বাচনে তাদের জয়কে আল্লাহর রহমত হিসেবে বিবেচনা করে বলেন, এ নির্বাচনে জয় আওয়ামী লীগের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে। আল্লাহ এ জয়ের মধ্যে দিয়ে তাদের প্রতি মর্যাদা দিয়েছেন যারা শাসকের নির্যাতনে অশ্রু ও রক্ত দিয়েছেন। এজন্যে পরাক্রমশালী আল্লাহর প্রতি তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের আহবান জানান। ইতিহাসে প্রমাণ রয়েছে কোনো শাসক অত্যাচার ও দমন চালিয়ে চিরদিন ক্ষমতায় থাকতে পারে না। আখেরে তারা পরাজয় ও দুঃখ ভোগ করে।
জামায়াত বর্তমানে তিনটি পরিবর্তন এনে সংস্কার করেছে। দলটির প্রথম জাতীয় সম্মেলন কাজ করছে। দলের ভেতরে ২৩টি এক্সিকিউটিভ বডি, ৫৩ সদস্যের ওয়ার্কিং কমিটি, ২৭৭ সদস্যের সেন্ট্রাল শূরা নির্বাচন গত মার্চের মধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। ২০২০ সালের মধ্যে জামায়াত ৩৩ ভাগ নারী সদস্য সংগ্রহে কাজ করে যাচ্ছে। ঢাকা দক্ষিণ ও ঢাকা উত্তর ইউনিটগুলোতে নতুন নেতৃত্ব কাজ করছে।
অনলাইনকে প্লাটফর্ম হিসেবে জামায়াত ও শিবির দলীয় যোগাযোগ হিসেবে ব্যাপকভাবে কাজে লাগাচ্ছে। মোবাইল ফোন ট্র্যাক থেকে বাঁচতে বরং ভাইবার, স্কাইপে, ফেসবুক, লাইন্,ইমো ও অন্যান যোগাযোগ প্রযুক্তিকে ব্যবহার করছে জামায়াত শিবির। এর পাশাপাশি হাজার হাজার ফেসবুক পাতা সক্রিয় রয়েছে। এক জামায়াত নেতা বলেন, কোরআন কখনো পরিবর্তন হয় না, সময় ও প্রয়োজনের তাগিদে আমাদের নীতিমালা পরিবর্তনযোগ্য।
আগামী নির্বাচনে জামায়াত দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করতে না পারলে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। দলটি নির্বাচনে কৌশল নির্ধারণ, প্রয়োজনীয় তহবিল সংগ্রহ, আনুষাঙ্গিক কি প্রয়োজন হবে তা নিয়ে পরিকল্পনা করছে। কি পরিমাণ লোকবল প্রয়োজন হবে তাও যাচাই করে দেখছে দলটি। ঢাকা ট্রিবিউন থেকে অনুবাদ

Leave a Reply