ওভার লোড নিয়ন্ত্রণের নামে স্কেলে চাঁদাবাজী বন্ধ করতে হবে: পণ্য পরিবহন মালিক ফেডারেশন

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ১৬ এপ্রিল ২০১৭, রবিবার: সম্প্রতি মন্ত্রী সভায় পাশকৃত সড়ক পরিবহন আইন ২০১৭ এর পন্যপরিবহন মালিক শ্রমিকের স্বার্থপরিপন্থী আইনের সংশোধন ও ওভার লোড নিয়ন্ত্রণের নামে স্কেলে চাঁদাবাজী হয়রানী বন্ধসহ পন্য পরিবহনের ৯ দফা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অদ্য ১৬ এপ্রিল রোজ রবিবার সকাল ১১ টায় বৃহত্তর চট্টগ্রাম পণ্য পরিবহন মালিক ফেডারেশনের উদ্যোগে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সম্প্রতি সড়ক পরিবহণ আইন ২০১৭ এর খসড়ায় আরোও জটিলতা দেখতে পাচ্ছি। যে দেশে ড্রাইভারের একটা বৃহৎ অংশের কাছে লাইসেন্স নেই, সে দেশে আবারর হেলপারের লাইসেন্স থাকতে হবে, তাও আবার অষ্টম শ্রেণী, পঞ্চম শ্রেণী পাস হতে হবে। দূর্ঘটনা জনিত মৃত্য অপরাধের যে শাস্তি মৃত্যু দন্ড দেওয়া হয়েছে। এমনকি মালিকের সর্বোচ্চ ২৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানা। আমাদের জোর দাবী এই আইনের সংশোধন করা না হলে পরিবহণ শিল্প হুমকীর সম্মুখীন হবে। পক্ষান্তরে দেশ ও পরিবহণ জগত শ্রমিক সংকটে পড়বে। গত ২৬/০৯/২০১৬ হইতে ৩০/০৯/২০১৬ পর্যন্ত আমাদের প্রাইমমুভার ট্রেইলার মালিক শ্রমিক ভাইদের কর্ম বিরতির সময়, মাননীয় যোগাযোগ মন্ত্রীর নির্দেশে চট্টগ্রাম পুলিশ কমিশনার মহোদয়ের হস্তক্ষেপে প্রাইমমুভারের স্কেলে ওজন সীমা দেওয়া হয়েছিল ৪২ টন এবং ট্রাক কাভার্ডভ্যানে ২২ টন। যা আপনাদের সবারই জানা, পরবর্তী দুই মাসের মধ্যেই স্কেলে তা ৩২ ও ১৫ টন ধরে জরিমানা নেওয়া শুরু করল। বলা হয়েছিল দেশের যেকোন একটি স্কেলে ১ বার ওজন করলে পরবর্তী যে কোন স্কেলে ঐ রশিদ দেখালে আর স্কেল করতে হবে না, কিন্তু না, বর্তমানে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে একবার দারোগাহাট স্কেলে টাকা দিলে আবারও দাউদকান্দি স্কেলে দিতে হয়, এরপর দেশের বিভিন্ন জেলায়। আমাদের ৯ দফা দাবী সমূহ হচ্ছে (১) সম্প্রতি মন্ত্রীসভায় পাশকৃত সড়ক পরিবহন আইন-২০১৭ এর পন্য পরিবহন মালিক শ্রমিকের স্বার্থ পরিপন্থী আইনের ধারা সমূহ অভিলম্বে সংশোধন করতে হবে। (২) সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক ঘোষিত কাভার্ডভ্যান প্রাইমমুভারের সিটি কর্পোরেশন কর ৫০০ টাকার স্থলে বর্ধিত ১০,০০০/- টাকা প্রত্যাহার করিতে হবে। সেই সাথে দেশের অন্যান্য জেলার ন্যায় চট্টগ্রামেও সিটিকর্পোরেশনের কর ব্যতিত ডকুমেন্ট হালনাগাদ করতে হবে। (৩) পূর্বের সিদ্ধান্তকৃত প্রাইমমুভার ট্রেইলার একই রেজিষ্ট্রেশনের আওতায় এক রেজিষ্ট্রেশন ও একটি নম্বর করতে হবে। (৪) ওভার লোড নিয়ন্ত্রণ করে “পরিবহণ শিল্পকে বাঁচান” তবে ওভার লোড নিয়ন্ত্রণের নামে স্কেলে চাাঁদাবাজী, হয়রানি বন্ধ করতে হবে। (৫) বিআটিএ’র আইনের জটিলতা নিরসন করে পরীক্ষা নিরীক্ষার মাধ্যমে সহজ পদ্ধতিতে ড্রাইভারদের নতুন লাইসেন্স ইস্যু ও নবায়ন এবং প্রাইম মুভার, ভারীগাড়ি সমূহের ড্রাইভারদের হেভী লাইসেন্স দিতে হবে। (৬) প্রাইমমুভার ট্রেইলারের প্রতিশ্র“ত টার্মিনালের বাস্তবায়নসহ ট্রাক কাভার্ড ভ্যানের আলাদা টার্মিনাল নির্মাণ করতে হবে। (৭) ট্রাক, কাভার্ডভ্যান পণ্যবাহী গাড়ী সমূহের বাম্পার, হুক, সাইডবারী, এংগেল না খুলে আইন সম্মত, নিরাপদ নমুনা, ডিজাইন সম্পর্কিত সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা ঘোষণা করতে হবে। (৮) যত্র তত্র ডকুমেন্ট চেকিং এবং ড্রাইভারের লাইসেন্স চেকিং এর নামে পুলিশি হয়রানি ও ১৫১ ধারা মামলা বন্ধ করতে হবে। (৯) বন্দর হইতে আমদানী কারকের মালামাল বুঝে নেয়ার জন্য আমদানী কারকের নিযুক্তীয় প্রতিষ্ঠানের মালিকের প্রতিনিধি কে সহজপদ্ধতিতে বন্দরে প্রবেশের গেইট পাশ প্রদান করতে হবে।
২০১৩ সালে ৯৩ দিনের জ্বালাও পোড়াও আন্দোলনে, উন্নয়নবান্ধব বর্তমান সরকারকে ক্ষমতাশীন দেখতে চেয়ে গণতন্ত্র রক্ষা, দেশ বাঁচাও সংগ্রামে পুলিশের পাশাপাশি প্রাণবাজী রেখে যারা নিজেদের গাড়ী চালিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরসহ দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রেখেছিল। আজ সেই মাঠসৈনিক ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, প্রাইমমুভার, পণ্যবাহী গাড়ির মালিক শ্রমিকদের উপর সরকার একের পর এক শাস্তি, দন্ড, করের বোঝা উপহার দিয়েই চলেছে। আজ আমরা আরও মনে করিয়ে দিতে চাই ৫’শর ও অধিক ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, ট্যাংকলরী, ট্রেইলার, ড্রাইভার, হেলপার অগ্নিদগ্ধ হয়েছে। ইট পাথরের আঘাতে গাড়ির গ্লাসসহ ড্রাইভার, হেলপার আঘাত প্রাপ্ত হয়ে রক্তাক্ত হয়েছে। অথচ সেই দিন বাস, মিনিবাসের মালিক শ্রমিকেরা সরকারের পক্ষ থেকে ক্ষতিপূরণ পাইলেও পন্যবাহী গাড়ীর যথাযথ প্রতিনিধিত্ব না থাকার কারনে পণ্যবাহী গাড়ির কোন মালিক শ্রমিকেরা তা পাইনি। যে কারণে আজ বাধ্য হয়ে গণ পরিবহণ থেকে পণ্য পরিবহণকে আলাদা করে পণ্যপরিবহণ মালিক ফেডারশন গঠনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। সেই সাথে সরকার ও সংশ্লিষ্ট মহলকে জানিয়ে দিতে চাই পণ্য পরিবহণ সংক্রান্ত কোন আইন, নীতিমালা প্রণয়ন করতে, পণ্য পরিবহণ মালিক ফেডারেশনের নেতৃবৃন্দকে আলাদভাবে অবহিত করতে হবে।
উক্ত সংবাদ সম্মেলনে যথাক্রমে সভাপতি হাজী জহুর আহমদ, মহাসচিব আলহাজ্ব আবু মোজাফ্ফর, মোঃ জয়নাল আবেদীন, মোঃ আবুল হাশেম, জাফর আহমদ, হাজী গোলাম রসূল, চৌধুরী জাফর আহমদ, আবু বক্কর ছিদ্দিক, হাজী মোঃ হারুন, আমির পারভেজ জনি, সেকান্দর হোসেন চৌধুরী, সুফিউর রহমান টিপু, মোঃ হোসেন, মোঃ ইদ্রিচ, মফিজুর রহমান মুন্না, মাহমুদুর রহমান, হাজী জসিম উদ্দিন, মোর্শেদ হোসেন নিজামী, হাজী মিজানুর রহমান, মোঃ কামাল উদ্দিন, মোঃ এনামুল হক, হাজী আব্দুর রাজ্জাক, রেজাউল করিম, মোঃ বাদশা, ওবাইদুর রহমান, মোঃ ছবুর, মোঃ জাবেদ, জাহেদুল আলম সহ বৃহত্তর চট্টগ্রামের পণ্যবাহী ১৪টি পরিবহন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ সহ ফেডারেশনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply