লোহাগাড়ায় ঘরছাড়া এক পরিবারের করুণ কাহিনী

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ১৫ এপ্রিল ২০১৭, শনিবার: লোহাগাড়ায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারী, নাশকতা-হত্যা মামলার আসামী-ডাকাত এবং দখলবাজদের অত্যাচার প্রভাবশালীর নির্যাতনে ঘরছাড়া এক পরিবার তাদের নির্যাতনের করুণ কাহিনী তুলে ধরে গতকাল (আজ) ১৫এপ্রিল চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে বিকাল ৩ টায়। বয়োবৃদ্ধ মো: আবদুল গণি। স্ত্রী-সন্ত্রান নিয়ে দীর্ঘদিন নিজের ঘরে যেতে পারছে না। সমাজপতিদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কোন সমাধান পায়নি। অবশেষে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন ছোট ভাইয়ের নির্যাতনের শিকার আবদুল গণি।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলেন, বিগত ৬ এপ্রিল ২০১৭ইং দুপুর আনুমানিক ১ টায় লোহাগাড়া উপজেলার ১নং বড়হাতিয়া ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের মাস্টার পাড়ায় অবস্থিত আমাদের বসতঘরে হঠাৎ ১৫/২০ জন যুবক দা, লাঠি, লোহার রড সহ মারাত্মক অস্ত্র-শস্ত্রে সজ্জিত হয়ে অনধিকার প্রবেশ করে এলোপাতাড়ি ভাবে বাড়ীর পুরুষ ও বয়স্ক মহিলাদের মারধর করে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখে ও লুটপাট চালায়। শুধু তাই নয় তারা, বাড়ীর মহিলার আলমিরা ভেঙ্গে মেয়ের, বউয়ের ও বোনের ১৮ ভরি স্বর্ণালংকার, গরু ও ধান বিক্রির বাবদ নগদ ২ লক্ষ টাকা, ৮টি মোবাইল সেট নিয়ে যায়। বাড়ীর এমন কোন আসবাব পত্র নেই যা তারা ভাংচুর করে নাই। এ ব্যাপারে আমরা গত ১১ এপ্রিল ২০১৭ইং চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত চট্টগ্রাম বরাবরে অভিযোগ দায়ের করেছি। যার মামলা নং-৮৫/২০১৭ইং। আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারী হামলাকারী ও বাড়ীঘর লুটপাটকারীদের মধ্যে (১) মফিজুর রহমান, পিতা: মৃত নূর আহমদ এলাকার দখলবাজ ও প্রভাবশালী লোক, (২) আবুল কালাম আবু, পিতা: মৃত আবুল বশর নাশকতা ও হত্যা মামলার আসামী, (৩) শাহ্ আলম, পিতা: নুরুল কবির ডাকাতি মামলায় সাজাভোগ করা আসামী। আরো অনেক আছে। বিগত অনেক বছর যাবৎ আমরা পারিবারিক ভিটে বাড়ীতে জায়গা সংকুলান না হওয়ায় সম্পূর্ণ নাল জমিতে নতুন ঘর নির্মাণ করি যার দলিল ও খতিয়ান সুস্পষ্ট আমাদের নামে। হঠাৎ ৬ এপ্রিল দুপুরে দখলবাজ ও প্রভাবশালী মফিজুর রহমানের নেতৃত্বে আমাদের বাড়ীর লোকজনদের মেরে বাড়ী থেকে বের করে দেয়। এখনও আমরা বাড়ীতে যেতে পারছি না। সেনেরহাট বাজারে আমাদের একটা ফ্রুটের দোকান আছে। উল্লেখিত সন্ত্রাসীরা তাও খুলতে দিচ্ছে না। কুখ্যাত মফিজুর রহমানের সাথে আমাদের জমি নিয়ে যে বিরোধ আছে, সেই বিষয় সাতকানিয়া আদালতে মামলা বিচারাধীন এবং ঐ জায়গায় স্থায়ী নিষেধাজ্ঞাও রহিয়াছে। যার আদেশ নং-১৪, তারিখ ১১-০৩-২০১৭ইং। সংবাদ সম্মেলনে নির্যাতিতরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট প্রকৃত ঘটনার তদন্তপূর্বক প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার জোর দাবী জানান এবং আমাদের বসবাস করার সুযোগ দেয়ার দাবী জানান।
নির্যাতিত পরিবারের পক্ষ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- খতিজা বেগম, পারভীন আক্তার, লায়লা বেগম, এনাম, মো: বেলাল, আবদুল গণি প্রমুখ।

Leave a Reply