বাংলাদেশ সিভিল এভিয়েশনের নতুন সদর দপ্তর ভবন ১৫০ কোটি টাকা খরচ করে আধুনিক পদ্ধতিতে নির্মাণ

এইচএম দেলোয়ার, ১৫ এপ্রিল, ২০১৭, শনিবার: বাংলাদেশ সিভিল এভিয়েশনের নতুন সদর দপ্তর ভবন ১৫০ কোটি টাকা খরচ করে আধুনিক পদ্বতিতে নির্মাণ করা হচ্ছে, নির্মাণ কাজ প্রায় শেষ, দুই মাসের মধ্যেই এ নতুন সদর দপ্তর ভবনের উদ্বোধনের সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। অথচ পুরনো সদর দপ্তর ভবনে ডেকোরেশনের নামে অপ্রয়োজনীয় খাতে সরকারি টাকা ব্যয় করা হচ্ছে।
সিএএবির উর্ধতন এক কর্মকর্তার পছন্দের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বিনা টেন্ডারে পুরনো সদর দপ্তর ভবনে হল রুম, কনফারেন্স রুম , চেয়ারম্যানের দপ্তরসহ পুরো ভবনে উন্নতমানের স্টাইলসসহ ডেকোরেশনের কাজ করানো হচ্ছে। অথচ আর দুই মাস পর এ ভবনের আর তেমন গুরুত্ব থাকছে না। নতুন সদর দপ্তর ভবনে অফিস শিফট করার পর এ পুরনো ভবনটি হয়ত বা ব্যবহার না করার ফলে পড়েও থাকতে পারে।
সিএএবির সূত্রে জানা গেছে, সিভিল এভিয়েশনের বহুদিনের পুরনো সদর দপ্তর ভবনটিতে এখনও অফিস কার্যক্রম চলছে। নীচতলা থেকে শুরু করে ৫ম তলা পর্যন্ত এ ভবনের নীচতলায় প্রধান প্রকৌশলীর দপ্তর, দ্বিতীয় তলায় চেয়ারম্যান সচিবালয়, তয় তলায় কনফারেন্স হল এবং এফসেকের হেড কোয়ার্টার, সদস্য পরিচালনা ও পরিকল্পনার দপ্তর এবং চতুর্থ তলায় পরিচালক ফ্লাইট সেফটির অফিস। প্রায় ১৫ বছর যাবত পুরনো এ ভবনে সিএএবির সদর দপ্তরের কাজ চলছে। ফলে এ ভবনের ঝুকিপূর্নতা থাকার কারনে ২০১২ সালে নতুন ভবনের নির্মাণ কাজে হাত দেয়া হয়। একটি প্রকল্পের অধীন এ নতু ভবনের ১৫০ কোটি টাকার প্রাক্কলন ব্যয় ধরা হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ নতুন ভবনের ভিত্তি প্রস্তরও স্থাপন করেন। আব্দুল মোনেম নামের এক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিএএবির নতুন এ সদর দপ্তর ভবন নির্মাণ কাজ করছে। নির্মান কাজ প্রায় শেষ, দুই মাসের মধ্যে এ নতুন ভবনের উদ্বোধন করার সম্ভাবনা রয়েছে।
সূত্র জানায়, সিএএবির নতুন ভবনের উদ্বোধনের প্রায় প্রাক্কালে এসেও পুরনো সদর দপ্তর ভবন ঢেলে সাজানো হচ্ছে। সিএএবির এ উর্ধতন এক কর্মকর্তা অতি উৎসাহিত হয়ে তার একক ক্ষমতাবলে কারো মতামত না নিয়ে এ পুরনো ভবনের সংস্কারের নামে কোটি কোটি টাকা সরকারি অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে , কাজের পর প্রধান প্রকেশলীকে ডেকে নিয়ে কাজের ঘুপচি টেন্ডার করানো হচ্ছে। পুরো অফিসটিই ওই উর্ধতন কর্মকর্তার নিয়ন্ত্রে চলে। কাজেই ওনার ওপরে কথা বলার কেউ নেই। কাজেই ওনি যেভাবে চাচ্ছেন ঠিক সে ভাবেই পুরনো সদর দপ্তরের ডেকোরেশনের কাজ করা হচ্ছে। অথচ আর মাত্র দুমাস পরই এ পুরনো সদর দপ্তরের গুরুত্ব তেমন থাকবে না।
সিএএবির প্রকৌশল বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সিএএবির পুরনো সদর দপ্তর ভবন সংস্কারের নামে এ পর্যন্ত প্রায় ১৫ কোটি টাকার এ অপ্রয়োজনীয় খাতে সরকারি টাকা ব্যয় করা হয়েছে। আরো টাকা ব্যয় করার পায়তারা করা হচ্ছে। ওই উর্ধতন কর্মকর্তার পছন্দের এক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দিয়ে পুরনো সদর দপ্তরের ডেকোরেশনের কাজ করানো হচ্ছে , কাজের পর টেন্ডার আহবান করা হচ্ছে।
এ ব্যাপারে সিএএবির এক কর্মকর্তা জানান, যেখানে ১৫০ কোটি টাকা ব্যয় করে সিএএবির নতুন সদর দপ্তর ভবন নির্মাণ কাজ প্রায় শেষ, দুই মাস পর এর শুভ উদ্বোধন করা হবে সেখানে পুরনো সদর দপ্তরে কোটি কোটি টাকা খরচ করে ডেকোরেশনের কোন মানেই হয় না।
এ দিকে কক্সবাজার বিমানবন্দরের প্রকল্প নিয়ে দুর্নীতির বিষয়টি ফাস হওয়ার পর প্রকল্প বর্হিভুত ফেল্টের কাজের কারিগরি যাচাইয়ের জন্য বিদেশ সফর মন্ত্রনালয় বাতিল করছে বলে জানা গেছে। আর এ নিয়ে সিএএবিতে তোলপাড় শুরু হওয়ার পর এক তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও এক নির্বাহি প্রকৌশলীর যোগসাজশে বদলি ডিউ না হওয়া সত্বেও এক নির্বাহি প্রকৌশলীকে তার দপ্তর থেকে অন্য দপ্তরে ফোর্সলি বদলির প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে। অবৈধভাবে পদোন্নতি প্রাপ্ত ওই নির্বাহি প্রকৌশলীর বিরুদ্বে অবৈধ পথে সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুদক তার বিষয়ে তদন্ত করে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করার অনুমতি দিয়েছে। আর ততা¡বধায়ক প্রকৌশলী পিএন্ডডি/কিউএস অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক হতে যাচ্ছেন, পিআর কার্ড পেয়েছেন। ওই তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী প্রথমে ২ বছর ছুটি নিয়ে তার স্ত্রী-সন্তানদের কাছে কাটিয়ে আবার চাকরিতে যোগদান করেন। গত দুই মাস আগেও তিনি দুই মাসের ছুটিতে অস্ট্রেলিয়া যান। তিনি বাংলাদেশ থেকে হুন্ডি করে টাকা পাঠানোর বিষয়টি গোয়েন্দারা খতিয়ে দেখছে। তিনি বর্তমান প্রধান প্রকৌশলীর বিরুদ্বে সিএএবির চেয়ারম্যান বরাবর এক অভিযোগনামায় তার সিনিয়রটি দাবি করে প্রধান প্রকৌশলীর পদটি দাবি করেছেন। তার উত্তরার ১ নং সেক্টরের ১২ নং রোডের ৯ নম্বর বাড়িটির চার তলায় বসবাস করে থাকেন। দুদক এ বাড়িটির সন্ধ্যাান পেয়েছে বলে জানা গেছে।

Leave a Reply