কওমি সনদের স্বীকৃতির প্রতিবাদে আহলে সুন্নাতের সংবাদ সম্মেলন

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ১৫ এপ্রিল ২০১৭, শনিবার: সরকারি নিয়ন্ত্রণ ব্যতীত জঙ্গি প্রজননকেন্দ্র খ্যাত উগ্রবাদি কওমি সনদকে সরকারি স্বীকৃতির প্রতিবাদে আজ ১৫ এপ্রিল’১৭ শনিবার সকাল ১১ টায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে আহলে সুন্নাত ওয়াল জমা’আত সমন্বয় কমিটির উদ্যোগে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে লিখিত বক্তব্যে আহলে সুন্নাত সদস্য সচিব এডভোকেট মোছাহেব উদ্দীন বখতেয়ার বলেন, সরকার দেড়শো বছর ধরে চলমান ওহাবী-দেউবন্দী মতাদর্শি বেসরকারি কউমী মাদ্রাসাকে সরকারি সনদ প্রদানের ঘোষণা দিয়ে আজ সমগ্র জাতিকে স্তম্ভিত করে দিয়েছে। যারা কখনো সরকারের আনুগত্য করেনি, সরকারি নিয়ম-কানুন মেনে চলেনি, যাদের শিক্ষা কারিকুলাম সরকার কতৃক অনুমোদিত নয়, অধিকন্তু এতোদিন যে মাদ্রাসা সমূহের বিরুদ্ধে জঙ্গী প্রজননের অভিযোগ ছিল, খোদ বর্তমান সরকারকে-যাদের ২০১৩ সনে মতিঝিল শাপলা চত্বর ধ্বংসযজ্ঞ থেকে নির্মমভাবে পিটিয়ে তাড়াতে হয়েছিল সরকারকে। এমন উগ্রগোষ্ঠির মাদ্রাসাগুলোকে পুরষ্কৃত করার ঘোষণাটি রীতিমত হতাশাজনক এবং সুগভীর ষড়যন্ত্রমূলক আঁতাত হিসেবেই ধরে নেওয়া যায়। আজ সমগ্র জাতি ভাল করেই জানে, সরকারও বারবার স্বীকার করেছে যে, কউমী মাদ্রাসাগুলোই জঙ্গীবাদের আখড়া। এ পর্যন্ত ধৃত এবং দন্ডিত জঙ্গীদের একমাত্র পরিচয় হলো এরা ওহাবী-সালাফী ভাবধারায় লালিত এবং কউমী মাদ্রাসার ছাত্র। সর্বশেষ কয়েকটি জঙ্গি হামলায় সাধারণ ও ইংরেজি মাধ্যমের কিছু শিক্ষিতের নাম পাওয়া গেছে বটে। কিন্তু আক্বিদা- চেতনায় এবং মতাদর্শগত দিক থেকে এরাও যে ওহাবী -সালাফি এই বিষয়ে কোন দ্বিমত নাই -যা প্রকান্তরে কউমি মাদ্রাসাসমূহেরই সৃষ্টি। এ পর্যন্ত জঙ্গি হিসেবে হাতেনাতে ধরা পড়া, এমনকি প্রশিক্ষণরত অবস্থায়ও গ্রেপ্তার হওয়াদের মধ্যে হাটহাজারী কওমি মাদ্রাসার ছাত্র রয়েছে। অতি সম্প্রতি লালখাঁন বাজার কওমি মাদ্রাসায় বোমা বানানোর কারখানা আবিষ্কার হওয়া এবং বোমা বিষ্ফোরণ ঘটনা কে না জানে। তাছাড়াও সম্প্রতি মুফতি হান্নানসহ যেসব জঙ্গিদের মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হয়েছে তারাও কওমী শিক্ষিত। অথচ আজ হঠাৎ করেই সে জঙ্গিগোষ্ঠিকে প্রত্যাশিত শাস্তির বদলে পুরষ্কৃত করার তামাশা দেখে জাতি নির্বাক হয়ে গেছে। এ সরকারের মাদ্রাসা শিক্ষা নীতি বড়ই রহস্যময়। তারা সরকারিভাবে পরিচালিত আলিয়া মাদ্রাসামূহকে সাধারণ শিক্ষার পর্যায়ে নিয়ে আসছে এমনভাবে -যাতে ভবিষ্যতে এ ঐতিহ্যবাহী আলিয়া কারিকুলামের মাদ্রাসা থেকে কোন যোগ্য আলেম, মুফতি, মুহাদ্দিস, মুফাসসির আর ওঠে না আসে। আর. পক্ষান্তরে এতোদিনের বেসরকারি মাদ্রাসাকে কোন ধরনের সংস্কার না করে সরকারি সনদ দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে মূলত মাদ্রাসামুখি ছাত্রদের আলিয়া ছেড়ে উগ্রপন্থী কউমী নেসাবে উৎসাহী করবে। ফলক্রমে আলিয়া মাদ্রাসা ধ্বংস হবে এবং কউমিদের উগ্রশক্তি বৃদ্ধি পাবে। যা সুন্নিয়তের বিরুদ্ধে বর্তমান সরকারের এক গভীর চক্রান্ত এবং ওহাবী -সালাফীবাদের প্রতি বিশেষ অনুগ্রহ হিসেবে বিবেচিত হতে বাধ্য। তাই আহলে সুন্নাত উদারপন্থি সূফিবাদী সুন্নি মুসলমানদের বিরুদ্ধে সরকারের এমন আত্মঘাতি সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না হলে দেশে সন্ত্রাসী-জঙ্গিগোষ্ঠির সাহস আরো বেড়ে যাবে, যা মূলত সরকারের জঙ্গীবাদ বিরোধি সকল কর্মকান্ডকেও প্রশ্নবিদ্ধ করবে। তিনি কউমী মাদ্রাসাকে সরকারি সনদ দেওয়ার ঘোষণা অবিলম্বে প্রত্যাহার করে, দেশে একমুখি মাদ্রাসা শিক্ষানীতি বাস্তবায়নের দাবি জানান। কউমী-আলিয়া নির্বিশেষে সকল মাদ্রাসায় একই কিতাবপত্র পড়ানো হলে এবং সকলে একই প্রশ্ন ও পরীক্ষায় অংশ নেবার পর একই সরকারি সনদ পেতে পারে, অন্যথায় নয়- এটাই যৌক্তিক এবং ন্যায্য দাবি। আহলে সুন্নাত নেতৃবৃন্দ এ দাবি আদায়, আলিয়া মাদ্রাসা শিক্ষা সংকোচন নীতি প্রত্যাহারসহ কউমী সনদ প্রত্যাহারের দাবিতে আগামি ১৭ ও ১৮ এপ্রিল সোম ও মঙ্গলবার জেলা-উপজেলায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি এবং ২০ এপ্রিল বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করার ঘোষণা দেন। এসময় সংবাদ সম্মেলন সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন আহলে সুন্নাতের প্রধান সমন্বয়ক মাওলানা এম এ মতিন। সংবাদ সম্মেলনে আহলে সুন্নাত ওয়াল জমা’আত এর জাতীয় নেতৃবৃন্দ ও পীর-মাশায়েখদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট চেয়ারম্যান জননেতা আল্লামা এম এ মান্নান, পীরে তরীক্বত আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ মছিহুদ্দৌলা, মাওলানা স উ ম আবদুস সামাদ, অধ্যক্ষ আবুল ফারাহ মুহাম্মদ ফরিদ উদ্দীন, অধ্যক্ষ মাওলানা ইছমাইল নোমানী, কাজী সোলাইমান চৌধুরী, এডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, মাওলানা শফিউল আলম আজিজি, অধ্যাপক আনোয়ার হোসাইন, মাওলানা রেজাউল করিম তালুকদার, ইঞ্জিনিয়ার মুহাম্মদ নুর হোসাইন, আলহাজ্ব নঈম উল ইসলাম, মাস্টার মুহাম্মদ আবুল হোসাইন, মুহাম্মদ ফজলুল করিম তালুকদার, নাছির উদ্দিন মাহমুদ, শফিউল আলম চৌধুরী, ফোরকানুল আলম চৌধুরী, শফিউল আলম শফি, সৈয়দ মুহাম্মদ আবু আজম, জি.এম শাহাদত হোছাইন মানিক, হাফেজ মাওলানা গোলাম কিবরিয়া, আব্দুল করিম সেলিম, মুহাম্মদ মাছুমুর রশিদ কাদেরী, খোরশেদুল ইসলাম সুমন, মুহাম্মদ মিজানুর রহমান, মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল রোমান, হাফেজ মুহাম্মদ এনাম প্রমুখ।

Leave a Reply