সাতকানিয়ায় এমপি’র আদেশ দীর্ঘ ১০ মাসেও কার্যকরী হয়নি

সাতকানিয়া প্রতিনিধি, ১৩ এপ্রিল, ২০১৭, বৃহস্পতিবার: চট্টগ্রাম ১৪ আসনের সংসদ সদস্য বেসামরিক বিমান পর্যটন মন্ত্রনালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটি সদস্য ও প্যানেল স্পীকার বীর মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলামের আদেশ দীর্ঘ ১০ মাসে ও সাতকানিয়া উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয়ে কার্যকরী হয়নি বলে জানা গেছে। চরতী খোদারহাট মৌলভী দোকান বাজালিয়া নয়াহাট সড়কের ধর্মপুর চাদেঁর পাড়া অংশে প্রকৌশলী পারভেজ সরওয়ার যোগসাজশে সরকারী জনসাধরণের চলাচলের রাস্তা কেটে ব্যক্তিগত ময়লা আবর্জনা ফেলছে। তার নির্দেশে একটি গ্রুপ সম্প্রতি গভীর রাতে  ১০ গজের মধ্যে ৫টি আর সিসি পাইপ বসিয়েছে। জানা যায় ১৯৯৪ সালে রাস্তার কাটার জের ধরে একটি ঘটনা ঘটিয়েছিল। উক্ত ঘটনা নিয়ে থানায় মামলা হয়েছিল। তারা ওই সময় জেল ও খেটেছিল। এরপরও  রাস্তার কাটার হীন উদ্দেশ্য ছেড়েনি। তারা বিভিন্ন সময় সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট রাস্তা কাটার অনুমতি চেয়ে আবেদন করে আসছিল। কিন্তু প্রতিবারই তাদের দরখাস্ত তদন্তের  ভিত্তিতে বাতিল হয়ে যায়। বর্তমান প্রকৌশলী পারভেজ সরওয়ারকে বশে রেখে রাস্তা কেটে ফেলে। অথচ ২০১০ সালে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আজাদ ছাল্লালের নিকট রাস্তা কেটে পাইপ বসানোর জন্য তারা আবেদন করলে তিনি তাদের দরখাস্ত উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ তাসাউর  ও স্থানীয় চেয়ারম্যান মোঃ কুতুব উদ্দিন শাহ আলমকে পৃথক পৃথকভাবে তদন্ত করার জন্য দায়িত্ব প্রদান করেন। উক্ত দুই কর্মকর্তা সরেজমিনে তদন্ত করে তার নিকট রিপোর্ট প্রদান করেন। তারা তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন সরকারী জনসাধারণের চলাচলের চরতী খোদারহাট মৌলভী দোকান বাজালিয়া নয়াহাট সড়কের গুরুত্বপূর্ণ ধর্মপুর চাদেঁরপাড়া অংশের রাস্তা কেটে ব্যক্তিগত ময়লা আবর্জনা ফেললে এলাকার পরিবেশের মারাত্মক দূষিত ও রাস্তার ব্যাপক ক্ষতি হবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন। দুইকর্মকর্তার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আজাদ ছাল্লাল তাদের জনক্ষতিকর আবেদন বিবেচনা করার কোন অবকাশ নেই বলে আদেশ প্রদান করেন। সেই আদেশকে  অবজ্ঞা করে দুর্নীতিবাজ প্রকৌশলী পারভেজ রাস্তা কেটে পাইপ বসানোর অনুমতি দেন। এক্ষেত্রে জনৈক ব্যক্তি জনস্বার্থবিরোধী কাজের প্রতিকার চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ উল্যাহ’র নিকট একটি আবেদন করেন। উক্ত আবেদনে জাতীয় সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধ আলহাজ্ব নজরুল ইসলাম চৌধুরী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য নির্দেশ দেন। তার আদেশ প্রকৌশলী পারভেজ মানেনি। এছাড়া দাখিলকৃত আবেদনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ উল্যাহ অনুরোধ করেছেন তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য। তার কথা ও পারভেজ শুনেনি। একজন পার্লামেন্ট সদস্য ও আরেক জন উপজেলার শীর্ষ কর্মকর্তার আদেশ ও অনুরোধ না মানার পিছনে রহস্য কি এলাকার লোকজনের মাঝে প্রশ্ন হয়ে দাড়িঁয়েছে। তাদের ক্ষমতা বেশী না প্রকৌশলী পারভেজের দাপট বেশী সেই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে জনমনে। সূত্রমতে তিনি নিয়মিত অফিস করেন না। মাঝে মধ্যে বিকাল ২টার পর অফিসে আসলে স্বাধীনতা বিরোধী লোকজন নিয়ে আড্ডা মারে বলে অভিযোগ উঠেছে। তাছাড়া জনৈক উপÑসহকারী প্রকৌশলী নলুয়া ইউনিয়নে কাজ তদারকি করলে গেলে সন্ত্রাসীরা তাকে মেরে আহত করলেও তিনি নীরব ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি এখানে যোগদান করার পর থেকে অফিস গোÑঘরে পরিণত হয়েছে এইপ্রতিবেদককে এলাকার লোকজন জানান। ওই সময় তাকে বদলী করার কথা থাকলে ও রহস্যজনক কারণে তা থেমে যায়। তার কর্মকান্ডে উন্নয়নমূলক কাজে ব্যাঘাত ঘটছে বলে সূত্রেপ্রকাশ। জনবান্ধব সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে বলে জানা গেছে। বির্তক প্রকৌশলী পারভেজকে এখান থেকে বদলী করার জন্য এলাকার মানুষ সংশ্লিষ্ট বিভাগের নিকট দাবি জানিয়েছেন।

Leave a Reply