বাংলাদেশ ও ভারত ৪০টি আলোচ্যসূচি নিয়ে ফলপ্রসু আলোচনা

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ১৩ এপ্রিল, ২০১৭, বৃহস্পতিবার: চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে দুই দিনব্যাপী বাংলাদেশ-ভারত জেলা প্রশাসক (ডিসি)-জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (ডিএম) সম্মেলন আজ ১৩ এপ্রিল ২০১৭ ইং বৃহস্পতিবার সম্পন্ন হয়েছে। চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. রুহুল আমীন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ৬ নম্বর ক্লাস্টারের যৌথ সম্মেলন উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনী বক্তব্যে বিভাগীয় কমিশনার বাংলাদেশ-ভারত দু’দেশের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্প্রীতি বজায় রাখা, উন্নয়ন কর্মকান্ডে একে অপরের সার্বিক সহযোগিতা প্রদান ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। দুই দেশের সম্মেলনে অংশ নেন চট্টগ্রামস্থ ভারতীয় দূতাবাসের সহকারী হাইকমিশনার মি. সোমনাথ হালদার।
সম্মেলনে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের পক্ষে নেতৃত্ব দেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. সামসুল আরেফিন ও ভারতীয় প্রতিনিধি দলের পক্ষে নেতৃত্ব দেন দক্ষিণ ত্রিপুরার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (ডিএম) ও কালেক্টর চন্দ্র কুমার জমাতিয়া আইএএস। সম্মেলনে ভারতের পক্ষে অন্যান্যের মধ্যে অংশ নেন ভারতের গুমাতি জেলার ডিএম ও কালেক্টর মি. রেভাল হেমেন্দ্র কুমার আইএএস, পুলিশ সুপার সরস্বই. আর আইপিএস, ৫১ বিএন বিএসএফ’র ডেপুটি কমান্ড্যান্ট মি. ভি. এল যোশী, দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার এসপি শ্রী তপন দেব বর্ম টিপিএস, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) ও কালেক্টর শ্রী তমাল মজুমদার টিসিএস, এসএসজি। অন্যদিকে বাংলাদেশের পক্ষে অন্যান্যের মধ্যে অংশ নেন খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক (ডিসি) রাশেদুল ইসলাম, ফেনী জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. আমিন উল আহসান, লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. জাহাঙ্গীর আলম, চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) নুরেআলম মিনা, খাগড়াছড়ির বাবুছড়ার ৫১ বিজিবি’র কমান্ডিং অফিসার লে. কর্নেল মো. ইকবাল হোসেন পিবিজিএম, খাগড়াছড়ির রামগড়ের ৪৩ বিজিবি’র ২ আইসি মেজর মো. হুমায়ুন কবির, ফেনীর জয়লস্করের ৪ বিজিবি’র কমান্ডিং অফিসার লে. কর্নেল মো. কামরুল ইসলাম, কুমিল্লা জেলার ১০ বিজিবি’র কমান্ডিং অফিসার লে. কর্নেল খোন্দকার গোলাম সরওয়ার ও চট্টগ্রাম জেলার ইন্টেলিজেন্সের দক্ষিণ-পূর্ব রিজিয়ন ব্যুরো চিফ লে. কর্নেল রাহাত নেওয়াজ। এছাড়া চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের এডিসি ও এডিএম, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, খাগড়াছড়ি ও ফেনী জেলা পুলিশ-বিজিবি’র কর্মকর্তাগণসহ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দফতরের প্রতিনিধিরা সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন। সম্মেলনে ফেনী নদীর পানি বন্টন, সীমান্তে অপ্রয়োজনীয় গুলিবিনিময় বন্ধ, বর্ডার হাট নির্মাণ, মাদক- চোরাচালান ও শিশু-নারী পাচার রোধসহ প্রায় ৪০টি আলোচ্যসূচির উপর আলোচনা হয়।
সম্মেলনের আলোচনা শেষে বাংলাদেশ-ভারত দু’পক্ষের প্রতিনিধি দলের প্রধানরা গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন। বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের প্রধান চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. সামসুল আরেফিন বলেন, দু’দেশের মধ্যে বিভিন্ন আলোচ্যসূচি নিয়ে জেলা পর্যায়ে ইতিবাচক বৈঠক হয়েছে। অনেক বিষয়ে আমরা একমত হয়েছি। পাশাপাশি যেসব বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি প্রয়োজন সেসব বিষেয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছি। এরকম সভার মধ্যে দিয়ে দু’দেশের সম্পর্ক উন্নয়ন হবে।
তিনি আরো বলেন, বিশেষ করে পর্যটনশিল্পকে আমরা প্রমোট করবো দু’দেশের পক্ষ থেকে। পর্যটকরা যাতে খুব সহজে দুই দেশে আসা যাওয়া আসতে পারে। বিশেষ করে ভারতের ওই দুটি জেলায় বসবাসরতরা সড়কপথে এসে আমাদের পতেঙ্গা, কক্সবাজার সী– বীচ যেতে পারবে। কারণ তাদের সমুদ্র নেই। আমরাও সহজভাবে তাদের দেশে যেতে পারবো।
‘বৈশাখ, ঈদ-পূজোসহ কমন ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক উৎসব আনন্দ পরস্পরের সঙ্গে ভাগাভাগি করে নেব। পাশাপাশি আত্মীয়-স্বজনের কাছে মৃরদেহ যাতে দ্রুত আনা যায় সেক্ষেত্রেও উভয় দেশ সহযোগিতা করবে। এতে করে বর্ডারের আশেপাশে যারা বসবাস করেন তাদের মধ্যে সম্পর্ক বাড়বে। ফেনী নদীতে ব্রিজ ও সীমান্তে পিলার নির্মাণসহ দুই দেশের পারস্পরিক কাজগুলো সিদ্ধান্ত অনুযায়ী করা হবে বলে জানান ডিসি সামসুল আরেফিন।
অন্যদিকে ভারতীয় প্রতিনিধি দলের নেতা দক্ষিণ ত্রিপুরার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (ডিএম) ও কালেক্টর চন্দ্র কুমার জমাতিয়া বলেন, দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলনের মাধ্যমে বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনার বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছি। এর ফলে দু’দেশের মধ্যে সম্পর্কের আরো উন্নয়ন হবে।
এর আগে গত ১২ এপ্রিল ২০১৭ ইং বুধবার চট্টগ্রামে এসে পৌছায় ভারতীয় প্রতিনিধি দল। তাঁরা সার্কিট হাউজে এসে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের সাথে বিভিন্ন বিষয়ের উপর প্রাথমিক আলোচনা করেন এবং সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় ডিসি-ডিএম সম্মেলন উপলক্ষে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

Leave a Reply