সরকার ভারতের সঙ্গে স্পর্শকাতর বিষয়ে চুক্তি করেছে: খালেদা জিয়া

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ১২ এপ্রিল, ২০১৭, মঙ্গলবার: জনসাধারণের মতামতকে উপেক্ষা করে সরকার ভারতের সঙ্গে স্পর্শকাতর বিষয়ে চুক্তি করেছে বলে দাবি করেছেন খালেদা জিয়া। একইসঙ্গে তিনি দাবি করেছেন,  দেশের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ করে চীনের সঙ্গে বিএনপি কোনো সামরিক চুক্তির করেনি।
বুধবার বিকালে গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফর ও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইস্যু নিয়ে এই সংবাদ সম্মেলন করেন খালেদা জিয়া। বিকাল সাড়ে চারটায় শুরু হওয়া সংবাদ সম্মেলনে ২০ দলীয় জোট ও বিএনপির শীর্ষ নেতারা উপস্থিত রয়েছেন।
নরেন্দ্র মোদীর আমলে ভারতে শেখ হাসিনার প্রথম দ্বিপক্ষীয় সফরে চুক্তি, সমঝোতা স্মারক মিলিয়ে ৩৫টি দলিল সই হয়। এর মধ্যে ভারতের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সমঝোতা স্মারক নিয়ে নিজের শঙ্কা প্রকাশ করেন বিএনপির চেয়ারপারসন।
এই ধরনের সমঝোতা বা চুক্তি নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের আপত্তির বিষয়টি তুলে ধরে খালেদা বলেন,‘জনসাধারণের মতামতকে উপেক্ষা করে এই ধরনের স্পর্শকাতর বিষয়ে বেশ কয়েকটি সমঝোতা স্মারক সই করা হয়েছে। এর সুদূরপ্রসারী বিরূপ প্রতিক্রিয়া হতে পারে বলে দেশের জনসাধারণের সঙ্গে আমরাও শঙ্কিত।
ভারতের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে সমালোচনার জবাবে শেখ হাসিনা বিএনপি আমলে চীনের সঙ্গে একই ধরনের চুক্তির বিষয়টি তুলে বলেছেন, ভারতসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে স্বার্থবিরোধী যেসব চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়েছে বিএনপি ক্ষমতায় এলে তা রিভিউ করা হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।
‘দেশের স্বার্থবিরোধী যেকোনো চুক্তির বিরুদ্ধে বিএনপির প্রতিরোধ অব্যাহত থাকবে’ জানিয়ে খালেদা জিয়া বলেন,‘আমরা জনগণের পক্ষে কাজ করি। আজকের সংবাদ সম্মেলনও এ কর্মসূচিরই অংশ।’
চীনের সঙ্গে বিএনপির সামরিক চুক্তি সরকারি দলের নেতাদের বক্তব্যের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ভারত নিজেরাই অস্ত্র আমদানি করে। তারা কীভাবে অন্যদেশে অস্ত্র রপ্তানি করবে। আর চীনের অস্ত্র ব্যবহারে আমাদের সামরিক বাহিনী অভ্যস্ত। আমরা যখন অস্ত্র ক্রয় সংক্রান্ত চুক্তি বা সমঝোতা করেছি তখন সামরিক বাহিনীর সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে চুক্তি ও সমঝোতা করেছি। আমরা পুরাতন জিনিস ক্রয় করিনি। চীন কেবলমাত্র বাংলাদেশ নয় বিশ্বের অনেক দেশের কাছে অস্ত্র বিক্রি করছে।’
প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর ব্যর্থ হয়েছে- এর ব্যাখা জানতে চাইলে খালেদা বলেন,‘জনগণ ব্যর্থ মনে করে। আমরা জনগণের সঙ্গে আছি। জনগণ যা মনে করে আমরাও তাই মনে করি।’
দেশ বিক্রি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আপনারা  সাংবাদিক, আপনারা বেশি জানেন।’ প্রধানমন্ত্রীর সফরে বাংলাদেশের রামপাল নিয়ে কোনও আলোচনা হয়নি। এ বিষয়ে বিএনপি কোনও কমর্সূচি দেবে কি না- জানতে চাইলে জবাবে খালেদা জিয়া বলেন, ‘আমরা আগেও অনেক কর্সসূচি দিয়েছি, আরও দেবো। কারণ রামপাল হলে ভারতও ক্ষতিগ্রস্থ হবে।’
আগামী নির্বাচনে ভারতের প্রভাবের আশঙ্কা করছেন কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, ‘আমরা সব সময় বলেছি, বিএনপি সব সময় জনগণের রায়ে ক্ষমতায় এসেছে। আমরা গণতান্ত্রিক দল। নির্বাচনের মাধ্যমে আমরা বার বার ক্ষমতায় এসেছি। আমরা চাই কোনও দেশ বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে যেন হস্তক্ষেপ না করুক।
সুপ্রিম কোর্টে গ্রিক দেবীর মূর্তি স্থাপন প্রসঙ্গে খালেদা জিয়া বলেন,‘আমাদের কাছে কেউ এসব বিষয় নিয়ে কথা বলতে আসেননি। আমরা জানিও না কে কে বলেছে। আর যেহেতু এটা সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণ। তাই এ বিষয়ে কী করবেন, না করবেন সেটা প্রধান বিচারপতি বিচার করেন।’
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ, জমিরউদ্দিন সরকার, তরিকুল ইসলাম, মাহবুবুর রহমান, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, কেন্দ্রীয় নেতা চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, হাফিজউদ্দিন আহমেদ, সেলিমা রহমান, মীর নাসির, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, শাহজাহান ওমর, রুহুল আলম চৌধুরী, এজেডএম জাহিদ হোসেন, নিতাই রায় চৌধুরী, শওকত মাহমুদ, আমানউল্লাহ আমান, হাবিবুর রহমান হাবিব, আবদুল কাউয়ুম, শামা ওবায়েদ, খালেদার প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান উপস্থিত ছিলেন।
২০ দলীয় জোট নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন টিআইএম ফজলে রাব্বী, আবদুল হালিম, এম এ রকীব, আবদুল করীম, শফিউল আলম প্রধান, আবদুল করীম আব্বাসী, ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জেবেল রহমান গনি, আজহারুল ইসলাম, আবু তাহের চৌধুরী, গরীবে নেওয়াজ, সাঈদ আহেমেদ, মহিউদ্দিন ইকরাম, মাওলানা শফিকউদ্দিন, সাইফুদ্দিন মনি।

Leave a Reply